আমরা শোকাহত

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২১:১০
বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহবুবুল আলম মৃত্যুবরণ করিয়াছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স হইয়াছিল ৭৮ বত্সর। বর্ষীয়ান এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে শুধু যে বিদগ্ধ একটি কলম থামিয়া গেল তাহাই নহে, আমরা এমন একজন মানুষকে হারাইলাম যিনি এই বিভাজিত সমাজেও সকলের শ্রদ্ধা অর্জনে সক্ষম হইয়াছিলেন। জীবদ্দশায় যেমন নানা ক্ষেত্রে তাহার সুফল আমরা পাইয়াছি, তেমনি মৃত্যুতে সেই শূন্যতা আরও তীব্রভাবে অনুভূত হইতেছে। উল্লেখ্য যে, মুন্সিগঞ্জের সন্তান মাহবুবুল আলমের জন্ম ১৯৩৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৬৩ সালে। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী হইলেও তিনি ছিলেন মূলত সাংবাদিক। অর্ধশতকেরও বেশি সময় সাংবাদিক হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান-এর সাংবাদিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করিয়াছিলেন ১৯৫৭ সালে, আর এই দীর্ঘ পথযাত্রার সমাপ্তি ঘটিয়াছে ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর সম্পাদক হিসাবে ২০১৩ সালে। টানা ১৮ বত্সর এই পত্রিকাটির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নিউ নেশানসহ একাধিক পত্রিকার সম্পাদক। তবে শুধু সাংবাদিকতার গণ্ডিতেই সীমিত ছিল না তাঁহার পদচারণা। কূটনীতিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন দেশে ও বিদেশে। স্বল্পকালীন শিক্ষকতাও করিয়াছেন আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পালন করিয়াছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার গুরুদায়িত্বও। ইহা ছাড়াও বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতি (নোয়াব)-এর সভাপতিসহ বহুমাত্রিক ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করিয়া গিয়াছেন আমৃত্যু। সঙ্গত কারণেই তাঁহার অভাব সহজে পূরণ হইবার নহে। বরেণ্য এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁহার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন