ঢাকা-দিল্লি সু-সম্পর্ক
বজায় রাখতে
হবে
নরেন্দ্র মোদীর নামেই যেহেতু বিজেপি নির্বাচন করেছে সেহেতু সকল ক্ষমতার অধিকারী নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচনী প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদী, দুটি বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছিলেন। একটি হচ্ছে উন্নয়নের ধারা, যা গুজরাট মডেল নামে পরিচিত। এবং অন্যটি হচ্ছে বিভেদের ধারা। এ অবস্থায় বিজেপির কাছে বিভেদের রাজনীতি কাঙ্ক্ষিত নয়। বিভেদের ধারা পিছনে ফেলে উন্নয়নের বিষয়টিই সামনে আনবেন বলে আশা করি। পাশাপাশি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়েও নরেন্দ্র মোদীর অগ্রাধিকার থাকবে। কেন না তা উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। ভারতের উত্তর-পূর্বে উন্নয়নের ধারা আনতে হলে ঢাকার সঙ্গে বন্ধুসুলভ সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে দিল্লিকে। এত বড় সমর্থন নিয়ে বিজেপি বিভেদের বিষয়টি নিষ্ক্রিয় রাখবেন বলে আশা করি। বিজেপির বিজয়ে বাংলাদেশের সব দলের অভিনন্দন তাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশও চায় ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক।
মো. মিনহাজুর রহমান ভুঞা
শিক্ষার্থী, শেষ বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
দু’দেশের পররাষ্ট্রনীতির
উপর সম্পর্ক
নির্ভর করছে
সমালোচক প্রায় সকল দেশেই রয়েছে। ভারতে সমালোচক নেই তা না। কিন্তু সেখানে একাডেমিক বিতর্ক হয় বিস্তর আমাদের দেশে একাডেমিক বিতর্ক তেমন নেই। ইতোমধ্যে মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নিঃসন্দেহে বলা যায় এটি একটি ইতিবাচক দিক। প্রতিবেশী দেশগুলো যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অগ্রাধিকার পাবে তার এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে একটি অমীমাংসিত ঘটনা রয়েছে কিন্তু তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। তবে নতুন সরকার এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিবে সেটাই হলো দেখার বিষয়। এখন আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে দু’দেশের পররাষ্ট্রনীতির উপর। ভারতের নতুন সরকার কি ধরনের পররাষ্ট্রনীতি নেয় তার পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। দিল্লিতে পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হলে ঢাকার নীতিও বদল হবে সেটাই হলো বিবেচ্য।
সুমন আহমেদ (বি.বি.এ)
ফজলুর রহমান হল
সিটি ইউনিভার্সিটি, সাভার, ঢাকা।
ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
তেমন একটা জোরালো
হবে না
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমস্যা শুধু তিস্তা নিয়ে নয় আরও অনেক বড় সমস্যা রয়েছে। প্রধান সমস্যাটি হলো মনস্তাত্ত্বিক। আমরা এখনো ১৯৪৭ সালের বিজ্ঞজনের ঋণ বা লেগেসি বয়ে বেড়াচ্ছি। এই উপলব্ধি থেকেই আমাদের বসতে হবে খোলা মন নিয়ে, সে জন্য দরকার কৌশলী কূটনীতিকের। এখন যারা এ দায়িত্ব পালন করছেন তারা ব্যর্থ হয়েছেন। সরকার এখন দিল্লির সঙ্গে কতটা সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন সেটা হলো বড় কথা, জাতীয় পর্যায়ে বড় কিছু পাওয়া সম্ভব নয় এর সমস্যা সমাধান করতে হবে আঞ্চলিকভাবে।
মোছা. স্বর্ণা সরকার (১ম বর্ষ)
মধুপুর আদর্শ মাদ্রাসা
মধুপুর, টাংগাইল।
দিল্লি টু ঢাকা
সম্পর্ক হবে কান্ট্রি
টু কান্ট্রি
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে। এ জয়ে বাংলাদেশে তুমুল আলোচনার ঝড় বইছে। সবার প্রশ্ন এ জয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলবে।
এ জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের কিছু হের-ফের হতে পারে। ভারতের কংগ্রেস যেমন আওয়ামী সরকারকে অন্ধের মতো সাপোর্ট দিয়েছে। মোদীর কাছ থেকে আমরা ততটা আশা করতে পারি না। সময় পররাষ্ট্রনীতিতে পার্শ্ববর্তী দেশ ও দেশপ্রেমের নিমিত্তে মোদী সরকার সম্পর্ক রাখবে। কোন সরকারের সাথে নয় সম্পর্ক হবে কান্ট্রি টু কান্ট্রি।
বাংলাদেশ-ভারতের তিস্তা, সীমান্ত, ফারাক্কা, তিন বিঘা করিডোর- এ সব বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে সমাধান করলে দিল্লির সাথে ঢাকা সুসম্পর্ক হবে।
সর্বোপরি বিজেপি সরকার-এর সাথে সম্পর্ক ভালো হবে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে আমরা তা প্রত্যাশা করি।
আবু নোমান
বিএ অনার্স (২য় বর্ষ)
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
শত্রুতা নয় বন্ধুত্বই
উন্নয়নের একমাত্র
চাবিকাঠি
তিনদিকে ভারত পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ ‘কারো সাথে শত্রুতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্বের নীতিতে বিশ্বাসী’ ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক অনেক কারণেই বাংলাদেশ অনেক বিষয় ভারতের সাথে সংযুক্ত। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য অনেক কিছু বললেও জেতার পর নরেন্দ্র মোদী জাতীয় বীরের মতোই বলেছেন— ‘এটা ভারতের গণতন্ত্রের বিজয়, বিজয় জনগণের’ ভারত এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাথা। ঠিক যেন এক মায়ের দুই সন্তান। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বর্তমান সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নতুন মোদী সরকার সহনশীল ও বন্ধুসুলভ আচরণ করবেন বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছাড়া কখনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে তাদের হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে অন্তত দেশের উন্নয়ন এবং কল্যাণের স্বার্থে কিভাবে সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে এটাই এদেশের জনগণের প্রত্যাশা।
মো. খাইরুল ইসলাম
বিবিএ (২য় বর্ষ)
সরকারী তিতুমীর কলেজ, মহাখালী ঢাকা।
