ষষ্ঠ শ্রেণির বন্ধুরা কর্ম ও জীবনমুখী বইটিতে তোমরা
আত্মমর্যাদা,আত্মবিশ্বাসী,সৃজনশীলতা, শ্রম, অনুশীলন, কাজ, সাফল্য নানান গল্প শুনেছো ও পড়েছো । অধ্যাবসায় ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা আসে শিক্ষাক্ষেত্রে এমনই এক সফল অদম্য মেধাবীর বাস্তব সফলতার গল্প পাঠিয়েছেন প্রভাষক মো. আব্দুর রহিম, পঞ্চগড়।
হতদরিদ্র ঘরের সন্তান মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫.০০ পেয়ে এলাকাবাসীকে অবাক করে দিয়েছে। অবাক এলাকাবাসী আবু বক্কর সিদ্দিক এর ভবিষ্যত্ শিক্ষা জীবন নিয়ে চিন্তিত। দুই ভাই, এক বোন ও মা-বাবা নিয়ে পাঁচ জনের পরিবারে ছোট সন্তান আবু বক্কর সিদ্দিক। বড় বোনের বিয়ে দিতে গিয়ে বাবার আবাদী জমিটুকু বিক্রি করতে হয়েছে। এখন আর বাড়ি ভিটা ছাড়া তাদের কোন জায়গা জমি নেই। বড় ভাই মো: রুকুনুজ্জামান রব্বানী মাদ্রাসা বোর্ড থেকে ফাযিল পাস করেছে সে এখন বেকার। মা মোছা: রোকেয়া বেগম এবং মেধাবী আবু বক্কর সিদ্দিক অন্যের জমি বর্গা চাষ করে। বাবা মো. মোজাম্মেল হক একটি চা বাগানের চা শ্রমিক। তাঁর মাসিক বেতন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার দেওয়ানহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হত-দরিদ্র এই আবু বক্কর সিদ্দিক এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন প্লাস পেয়েছে। সে প্রাথমিক শিক্ষায় ২০০৮ খ্রি: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে। মেধাবী, কোমলমতি এই শিক্ষার্থীর যখন শিশু জীবন খেলার মাঠে কাটানোর কথা, সেই সময়টুকু কেটেছে জীবন সংগ্রামে, ভালো ফলাফলের আনন্দটুকু যখন ঘুরে ফিরে কাটানোর কথা সেটুকুও কাটছে প্রচন্ড রোদে কিংবা প্রবল বর্ষণে ফসলের মাঠে। পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের অঁজো পাড়া গাঁ, অমরখানায় তার গ্রামের বাড়ি। বাড়ি থেকে নয় কিলোমিটার দুরে দেওয়ান হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যেতে হতো তাকো। ছুটির দিনে স্কুল শেষে সন্ধ্যা অবধি মায়ের সাথে বর্গাচাষে কৃষি মাঠে তাকে দেখা যেত। এরপর বিদ্যুত্হীন গ্রামের এই হত দরিদ্রের হারিকেনের নিবু নিবু আলোতে পড়াশোনা। বাবা হত দরিদ্র হওয়ায়, তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাকে দিয়েছে সহযোগিতা। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা তাকে বিনা বেতনে বিশেষ পাঠদান দিয়েছেন। পঞ্চম এবং এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জনকারী জীবন সংগ্রামী এই কিশোর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে একটি ভালো কলেজে ভর্তি হতে চায়। ভর্তি হওয়ার মত টাকাই তার পরিবারের দেওয়ার সামর্থ নেই। এলাকার বাসীর মতে, ভর্তি হওয়ার টাকা না হয়, কোনো ভাবে জোগাড় হলো ; কিন্তু কিভাবে এগিয়ে চলবে বাকী সময় তা অনিশ্চিত। এরপরও তাকে এগিয়ে চলতেই হবে। সে বড় হয়ে একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হতে চায় । জ্ঞানার্জনের অবশিষ্ট ধাপগুলোতে কী উদ্দীপক তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেটাই সময়ের ব্যাপার অপেক্ষার ব্যাপার...।
