বাজেটের নীতিমালা যথাযথ হলেও বাস্তবায়ন করা দরকার

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৪, ২১:৪৭
প্রস্তাবিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট জাতীয় সংসদে গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন। বাজেটের মোট পরিধি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটানোর জন্যে যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ব্যাংকঋণ হচ্ছে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এই ঋণ যদি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করা হয় তবে মূল্য সরবরাহ বাড়বে যা প্রকারান্তরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যদিকে যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয় তবে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের সংকট হতে পারে। ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাবনা রয়েছে। এই খাত থেকে শেষ পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করা যাবে কিনা সেটি ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ঋণের বিপরীতে বিশাল অংকের সুদ গুনতে হয় যা প্রকারান্তরে সামাজিক কল্যাণকে নিরুত্সাহিত করে থাকে। তারপরও ঘাটতি মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্রকে পুনরায় আবার যদি জনপ্রিয় করে তোলা যায় তবে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহ করা সমস্যা নয়। বিদেশি ঋণ হিসাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৬ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা-যার প্রাপ্তি নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকে যায়। তবে গত ছয় বছরে অর্থনীতির আকার ও পরিধি বেড়েছে, আর তাই এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার তুলনামূলকভাবে বড় হয়েছে-এটি বলা যাবে না। যেখানে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জাতীয় বাজেট (১৯৭২-৭৩) এর আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা বর্তমানে ৪৩তম বাজেটে এটির আকার বেড়েছে চলমান ৪২ অর্থবছরে অর্থনীতির অগ্রসরমানতার সৃষ্টি হয়েছে। ৬৫ থেকে ৮০ এর দশকের শুরুর দিকে যেখানে গড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১.৫ থেকে ২.৫% অথচ গত ২২/২৩ বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ থেকে ৬.৫% হয়েছে-এটি অবশ্যই দরিদ্র দেশ হিসাবে বাংলাদেশের জন্যে ইতিবাচক দিক। আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৩% প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। সহিংসতা থাকলে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। সুশাসন কার্যকারিতা, সক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার সাথে সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ৮৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বেশি মনে হলেও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সম্প্রসারিত করতে এর বিকল্প নেই। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে যে টাকাই বরাদ্দ থাকুক না কেন, সেটি ১লা জুলাই থেকে যাতে মাসওয়ারী ছাড় দেয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। প্রতিমাসে কাজের মূল্যায়ন ও তদারকী করে পরবর্তী মাসের জন্যে বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। আসলে দেশের উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। চলতি অর্থবছরসহ ইতিপূর্বেকার সকল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে, শেষ সময়ে এসে অর্থনীতিতে সুফল পাওয়া যায় না। এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে নতুন পদ্ধতি চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। উল্লেখ্য, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ছিল ৩১৮ কোটি টাকা। বাস্তবিক অর্থে স্বাধীন বাংলাদেশে ধীরে ধীরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তবে হ্যা! অর্থনীতি আরো বেগবান হতে পারত যদি জাতীয় স্বার্থে আমাদের মধ্যে বিভাজন, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না থাকত। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৫৫% বাস্তবায়িত হয়েছে প্রথম ১০ মাসে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায় যে, অনুন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। এই বিশাল অনুন্নয়নমূলক খাতের বরাদ্দ সংকোচনের জন্যে Tightening of the belt ব্যবহার করা দরকার। অবশ্য আগামী অর্থবছরের একটি পর্যায়ে পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্ম-উদ্দীপনা সঞ্চারের লক্ষ্যে এটির বিকল্প যেমন নেই তেমনি আনপ্রোডাক্টিভ খাতে বেশি বরাদ্দ দেয়া ঠিক হবে না। কেননা এতে মূল্যস্ফীতি বাড়লে, বেতন যেটুকু বৃদ্ধি পাবে তার চেয়ে ব্যয় বেশি বেড়ে যাবে। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, চন্দ্রা-এলেঙ্গা সড়ক নির্মাণের দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যা যথাযথ। সোনাদিয়ায় গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট পদ্ধতিতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে। আবার ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজের যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা যথাযথ। ২০১৮ সাল নাগাদ পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের জিডিপিতে সার্বিকভাবে ১.৫%-এর মত প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। রেলপথের উন্নয়নের জন্যে কর্মসূচিসমূহও অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণও সাধিত হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নয়টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্যে ৪ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিদ্যুত্ ও জ্বালানির চাহিদা ক্রমশ বাড়বে এবং কুইক রেন্টাল পদ্ধতি থেকে আমাদের ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বল্প খরচে বিদ্যুত্ উত্পাদনের প্রয়াস একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্যে সুদের হার অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে রূপান্তর করতে হবে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রতি কখনো বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তেমন গা করছে না। তারা ইচ্ছেমত স্প্রেব নিচ্ছে। ফলে দেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ উপযোগী ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার করে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টকে পজিটিভ বানাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ‘মানবিক ব্যাংকিং’ এর উপর গুরুত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে উপলব্ধি করে একযোগে কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, Direct tax-এর উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং VAT-কে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। সুপার ট্যাক্স বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যারা কর দিচ্ছেন, সেই অনুপাতে যাতে সুযোগ-সুবিধা পান সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। বস্তুত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অধিক হারে স্বাধীনতা প্রদান ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় অধিক হারে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে হবে। তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই Pro tax payer করার প্রয়োজন রয়েছে। কর আহরণের জন্যে কর বিভাগকে আরো ন্যায়নীতির সাথে কাজ করতে হবে। বাড়ি ভাড়া ২৫,০০০ টাকার উপর ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের প্রস্তাব যথাযথ। তবে জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচ বাড়ানো উচিত হবে না। পুঁজি বাজারের জন্যে সীমিত ব্যবস্থাপনা আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে। এটি হচ্ছে দেশের দু’টো স্টক এক্সচেঞ্জের জন্যে কর অব্যাহতি সুবিধা পাঁচ বছরের জন্যে বৃদ্ধি করা। বিনিয়োগকারীদের জন্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সুবিধা ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়সীমায় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিমিউচুয়্যালাইজ্ড স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের জন্যে পাঁচ বছরে কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ভাল পদক্ষেপ। তবে পুঁজিবাজার ঢেলে সাজানোর জন্যে বাজেট বহির্ভূত আরো গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা পুঁজি বাজারের উন্নয়ন ছাড়া শিল্প কল-কারখানা ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন সঠিক নিয়মে সংঘটিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকা বহির্ভূত কোম্পানীগুলোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেশীয় উদ্যোক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল পেতে হলে অবশ্যই রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা চাইবেন। পাশাপাশি অবকাঠামোগত ও বিদুত্-জ্বালানি খাত এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বিত সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা চাইবেন। আসলে বাজেটে যাই থাকুক, বাস্তবতা হলো রাজনীতি দ্বারা অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়। বাজেট যেমন একটি সরকারের রাজনৈতিক অর্থনীতির দলিল ঠিক তেমনি বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশের ক্ষেত্রে সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতির পরিবেশ, আইন-শৃংখলা, রাজনৈতিক পরিবেশ সবসময়ে গুরুত্ব পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত আজ একটি যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্যে অবশ্যই অধিক হারে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে পোশাক খাতের উন্নয়নের জন্যে সকল দলমত নির্বিশেষে এই খাতের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে একই লয়ে কাজ করতে হবে। পোশাক শিল্পখাতে উেস আয়কর শূন্য দশমিক তিন শূন্য করা হয়েছিল। নিরাপদ পোশাক শিল্পখাতের কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হ্রাস করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। দরিদ্র ও কৃষক উভয় শ্রেণির জন্যে ভর্তুকি হ্রাস করে ২৬ হাজার কোটি টাকার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আসলে অর্থনীতির উন্নয়নের সুফল ছড়িয়ে দিতে হলে টাকা নগরকেন্দ্রিকের বদলে জেলা ওয়ারী উন্নয়ন প্রকল্প করে সেখানে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নচেত্ এই উন্নয়ন একটি স্থানে সীমাবদ্ধ থাকলে এর মূল সম্প্রসারণ করা ও দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি-র প্রবৃদ্ধিকে অধিকতর বেগবান করা সম্ভব নয়। যদিও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেয়ার অর্থাত্ বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়াস নেয়া হয়েছে তবে তা আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নির্ভর করে যারা সুযোগ গ্রহণ করবেন সেই উদ্যোক্তা শ্রেণির উপর। দরিদ্রতা হ্রাসের জন্যে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো যথাযথ হলেও বাস্তবতা হলো, অনেকক্ষেত্রেই বেসরকারি সংস্থাসমূহে দরিদ্রতাকে পুঁজি করে ব্যবসা করে। ফলে যারা দারিদ্র্য অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারেন তারা তাদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের জোরের কারণেই সক্ষম হয়ে থাকেন। আর অন্যরা দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পড়েন। বাংলাদেশের সামনে যেমন অমিত সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অর্থনীতি ধীরে ধীরে এগুলেও নানা দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা রাতারাতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। আবার সামনে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে রূপান্তরের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। নানামুখী বিতর্ক থেকে অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ভোগের বদলে কৃচ্ছতা সাধনের ব্যবস্থা সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মধ্যম আয়ের শ্রেণিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নারীর উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ রয়েছে এগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী-পুরুষ ও সকল ধর্ম-মতের সহমত অনুসারে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে বিশেষ পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি আগামী অর্থ- বছরে মূল্যস্ফীতি ৭% হারে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। আসলে মূল্যস্ফীতির হার ৪% থেকে ৫% এর মধ্যে রাখা গেলে ভাল হয়। তবে যে পরিমাণ ব্যয় সুদের ক্ষেত্রে করতে হচ্ছে তা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কিছুটা হলেও বাধার সঞ্চার করছে। জনকল্যাণের জন্যে গৃহীত বিভিন্নমুখী পদক্ষেপসমূহের যথাযথ বাস্তবায়নে উপর থেকে নীচ এবং নীচ থেকে উপরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আয় প্রবাহ বৃদ্ধির জন্যে বাজার ব্যবস্থাপনায় যে সমস্ত মার্কেট ইস্পারফেকশান আছে সেগুলো দূর করতে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাজেট এক অর্থবছরের রাজনৈতিক আর্থিক দলিল, কিন্তু দেশের মানুষের কল্যাণে এটি চলমান প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্যখাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে হলে চিকিত্সক নার্সদের ঐক্যবদ্ধ স্বাস্থ্য-সেবা সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। শিক্ষা ব্যবস্থায় যেটুকু বরাদ্দ আছে তা যেন সঠিকভাবে কাজে লাগে তার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয় বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও অতিমুনাফামুখী ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্যে প্রস্তাবিত বাজেটে ১৮ হাজার ৯০৭ কোটি টাকার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের জন্যে যে বরাদ্দ রয়েছে তা যেন যথাযথ হয় কেননা যে পরিবারে প্রতিবন্ধী ছিল, সেই কেবল প্রতিবন্ধীর দু:খ-যাতনা, অসহায়ত্ব অনুভব করতে পারে। এদিকে কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, কৃষিখাতে বিশেষত ধান উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। তবে কৃষিখাতের অন্যান্য কৃষিপণ্য বহুধাবিভক্তকরণ পদ্ধতিতে উন্নয়নে ও উত্পাদনে আরোপ করতে হবে। মোটা দাগে বলা যায় যে, প্রস্তাবিত বাজেটটি দেশের উন্নয়নের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও অর্থবছরের শুরুর প্রথম দিন থেকেই বাজেট বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে যাতে করে ব্যাষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেখক: ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়্যাল ইকোনোমিস্ট। ই-মেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন