বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৪, ২১:১৬
ঢাকা-দিল্লি সুসম্পর্ক এখন সময়ের দাবি ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ নিয়ে কিছু উস্কানিমূলক কথা বলেছিলেন। যা ছিল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি হয়তো প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য থেকে সরে আসবেন। মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। বিজ্ঞ মোদি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে নিজ দেশের স্বার্থই প্রাধান্য দেবেন বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকরা সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হবেন বলে মনে করি। সর্বোপরি ঢাকা-দিল্লির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাক এটাই আমাদের কামনা। মো. ওমর ফারুক এমএসসি (২য় সেমিস্টার) পরিসংখ্যান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০ বিজেপির জয়ে আগের তুলনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অনেক ভাল হবে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বিরাট ম্যান্ডেট ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছেন তা ভারতের ইতিহাসে অতি বিরল। মোদি তার শপথ গ্রহণের সময়ে একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আমি আশা করি এ সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়ন ঘটবে এবং তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, ছিটমহল ইত্যাদি সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান হবে। আয়েশা আক্তার আশা স্নাতক (১ম বর্ষ), নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ। ০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও গভীর হবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আশাকরি এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজও অটুট থাকবে। বিজেপি জয়ী হওয়ায় অনেকে যদিও মনে করছেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল থাকবে না। কথাটি সত্য নয়। কারণ প্রত্যেক দেশেরই একটি পররাষ্ট্রনীতি আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন হবে না ভারতে। কারণ প্রত্যেক দেশই নিজের স্বার্থটা দেখে। আর এটাই স্বাভাবিক। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশে তারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার চায়। তাছাড়া ভারতের পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলোর সুশাসন ও বিদ্রোহী সংগঠন দমনের জন্য বাংলাদেশের সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। তাই ভারত নিজে স্বার্থেই ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। মো. তুহিনুর রহমান এমআইএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০ সম্পর্কের উন্নতিই যখন নাই তখন অবনতির ভয় কিসের? পৃথিবীর উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা করা থাকে। তাই মোদী চাইলেও সম্পর্ক খুব বেশি উত্তপ্ত করতে পারবেন না। মোদীকে সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যত্ রচনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার জন্যই মেন্ডেট দিয়েছে ভারতীয়রা। অশান্তি সৃষ্টি করবার জন্য নয়। তবুও যদি ডিপ্লোম্যাটিক ছাল ছেলে কদাচারপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয় তবে আমাদের রাজনীতিকেই রাজনৈতিক সমস্যা নিরসনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এমনটা হবে না বলেই মনে হয়। কারণ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপিকে ও মুদীকে দীর্ঘজীবীতা পেতে হবে, এ এক বড় চ্যালেঞ্জ, যা কখনো আঞ্চলিক সহযোগিতা অবজ্ঞা করে অর্জন করা সম্ভব নয়। মোদীকেও মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে চাকরিরত প্রায় বিশ হাজার ভারতীয়ের বিষয়টা এবং ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালে সরকার গঠন করেও যথাক্রমে ১৩ দিন ও ১৩ মাস পর বিজেপিকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিলো। সত্যিকারার্থে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক তখনই তেতো হবে যখন আমরা আমাদের জাতিও স্বার্থ (তিস্তা, ট্রানজিট, ছিটমহল ইত্যাদি) সম্পর্কে সচেতন হবো। আব্দুল্লাহ আল মামুন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (৩য় বর্ষ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে ভাটা পড়বে না বলেই মনে হয় নির্বাচনের আগে মোদী ঘোষণা করেছেন অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা হবে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ নিয়ে অনেক উস্কানিমূলক কথা বলেছেন। নরেন্দ্র মোদী এইসব ব্যক্তব্য কি নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য দিয়েছেন নাকি বাস্তবে তাই করে দেখাবেন এটা দেখার জন্য আমাদের হয়তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে আমরা সবসময়ই চাইব দিল্লির সাথে আমাদের সম্পর্ক ভাল থাকুক। আমরা আশা করি মোদী এমন কোন কাজ করবেন না যাতে দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। রাজিব হাওলাদার ভাষা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন