চিকিত্সা সেবায় জড়িত জনশক্তি সংখ্যানুপাতে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের কোন কোন হাসপাতালে পরিমিত থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনেক কম। ১:৩:৫ অথবা ১:২:৩ অনুপাতে যথাক্রমে ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্স থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে স্বাস্থ্য জনশক্তি-এর উল্টা পিরামিডে অবস্থান করছে।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিসংখ্যানে রোগী চিকিত্সা ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের পরিমাণ সত্যিই আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বত্সর যা ১৯৭২-এ ছিল ৪০ বত্সর। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৩ যা ১৯৭৪ সালে ছিল ৬.৩ জন।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৬ হাজার নিবন্ধিত চিকিত্সক আছেন। সরকারি চিকিত্সকদের পদ সংখ্যা ২৫,০০০ তার মধ্যে কর্মরত প্রায় ১৬০০০। সেবিকারা ২২ হাজার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩ হাজার। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা ১৯০০০ এবং অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ২৯০০০, বেসরকারি হাসপাতালে বিছানা ৪৫০০০টি। হাসপাতালে মৃত্যু হয় ১ বত্সরে কয়েক হাজার।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বছরে প্রায় ২.৫ লাখ লোক বহিঃবিভাগে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করে এবং প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি রোগীর অপারেশন করা হয়। ২০১৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয় মেডিসিন বিভাগে ২৮ হাজার এবং মারা যায় ১২১৪ জন।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অধ্যাপক ১৩৬, সহযোগী অধ্যাপক ১৪৮, সহকারী অধ্যাপক ১৪২ জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট ১২ জন, কনসালটেন্ট ৩৮ জন, স্ববেতনে কনসালটেন্ট ২৫ জন, মেডিক্যাল অফিসার ৭০৪ জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন বহিঃবিভাগে প্রায় ২৫০০ রোগী দেখা হয়। অর্থাত্ মাসে ৬৫ হাজার ও বছরে ৭,৫০,০০০ রোগী দেখা হয়। ভর্তি হয় দৈনিক ৯৯ জন, ১২০০ বেডের হাসপাতালে মাসে ২৫০০ ও বছরে ৩০,০০০ জন রোগী ভর্তি হয়। বছরে অস্ত্রোপচার হয় ৩২,৫৮৪ জন। মৃত্যু হার বছরে ১৫০০ জনের মত।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হল মাথাপিছু স্বাস্থ্য বাজেট ৪৫ ডলার থাকা উচিত। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাজেট হল মাথাপিছু ২৭ ডলার।
অনেক হাসপাতালে বেড বাড়লেও জনশক্তি ও এমএস আর খাতে বাজেট বাড়েনি। খাবার বাজেট মাথাপিছু ১২৫ টাকা আগে যা ছিল ৪৭ টাকা।
চিকিত্সকরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হওয়ায় এতে ভবিষ্যতে মুমূর্ষু রোগী চিকিত্সা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ অবস্থায় স্বল্প বাজেটও এত অধিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ইতিহাস পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও হয় না। উন্নত দেশে তো হয়ই না। বিদেশে গেলে দেখা যায় আমাদের চিকিত্সা পেতে কষ্ট হয় এবং যাদের জীবন বীমা নাই তারা চিকিত্সা পায়ই না। বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে ২৪ ঘন্টাই চিকিত্সকরা রোগী সেবা অব্যাহত রাখে। তাই যারা ছুটির দিনের বা ঈদ পার্বণের দিনেও রোগী সেবায় নিয়োজিত থাকেন তাদের নিরাপত্তা বিধানসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সরকার ও দেশের সকল জনগণ এগিয়ে আসবেন এটাই প্রত্যাশা।
লেখক :সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন ও ডীন, প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা
