বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২১:৫৩
ক্ষমতার পরিবর্তন মানেই বন্ধুত্বের অবসান নয় অনেকেরই ধারণা ছিল কংগ্রেসের বিদায়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটাও বিদায় নিবে। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তখন বিজেপি সরকারই ক্ষমতায় ছিল। ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তিও হয়েছিল তখন। তাছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো দলের সঙ্গে নয়; দেশের সঙ্গে। বাংলাদেশের যেমন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দরকার, তেমনি ভারতেরও প্রয়োজন আছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক থাকবে ভারতের নিজেদের স্বার্থে। কারণ এ সম্পর্কের ফসল ভারতই বেশি ঘরে তুলছে। আগেও বিজেপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরো জোরদার ছিল। তা ছাড়া সরকার যেই আসুক, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন হয় না। এ জন্যে ভারতে কোন সরকার ক্ষমতায় এলো, এটা বাংলাদেশের জন্যে বড় ব্যাপার নয়। এস.টি.আই তুহিন বি.ইউএমএস (২য় বর্ষ), সরকারি ইউনারী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর-১৩, ঢাকা-১২২১। সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরো জোরালো হয়ে উঠবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সব সময় ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান। মোদির সময় এ সম্পর্ক খারাপ হবে না। আমরা তা আশা করি। আর এ সম্পর্ক আরো জোরালো হয়ে উঠবে যখন আমরা আমাদের নায্য অধিকার রক্ষা করতে পারব। একটা উদাহরণের মাধ্যমে আমি বিষয়টা পরিষ্কার করছি। তিস্তা চুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের যে প্রাপ্ত অংশটা পেতাম তা আমরা পাইনি বললেই চলে। তাই বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত আমাদের উত্তরাঞ্চলকে বাঁচানো। যেখানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা চাষাবাদ। তাই এই তিস্তাকে বাঁচাতে হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। আশা করি মোদি সরকারের সময় আমরা তা দেখতে পাব। তাই একজন আইনের ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি, সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরো জোরালো হয়ে উঠবে। মো. হাফিজুর রহমান ৮ম ব্যাচ, আইন অনুষদ, ২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বজায় থাকবে মোদি নিঃসন্দেহে একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে নির্বাচন পূর্ববর্তী তার যে মন্তব্য, আমার মনে হয় সেটা একটা কৌশল। কোন দেশে প্রগতিশীলদের চেয়ে অপ্রগতিশীল মানুষ বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তার বক্তব্য এবং ইস্তেহার তাকে নির্বাচনে জয়ে সহায়তা করেছে। নির্বাচনের পরেই তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন প্রতি ক্ষেত্রে। তার সরকার সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এটা নিশ্চিত। ঢাকার সাথে এই সম্পর্ক পাবে নতুন মাত্রা। মোদির প্রথম লক্ষ্য যেহেতু অর্থনীতি বিষয়ক সেহেতু ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্ক আরো দৃঢ় হতে বাধ্য। আবীর সমুদ্র বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (৪র্থ বর্ষ),আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ভাল থাকবে ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের কেমন যেন একটা জটিলতা বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক, তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, ছিটমহল ইত্যাদি সমস্যাগুলোর আজ অবধি সমাধান মিললো না। বিজেপির বিজয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আশানুরূপ মনে করা যায় এই ভেবে যে, জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে একে অন্যের সুবিধা-অসুবিধাগুলো উপলব্ধি করা। চাইলেই একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় তবে এক্ষেত্রে মন-মানসিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তবে হ্যাঁ ! প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশাকরি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ভালো থাকবে। আরও ভালো থাকুক এটাই কাম্য। মো. ফোরকান অভি, বি.এস.এস সম্মান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি নয় বরং উন্নতিই হবে কট্টর সাম্প্রদায়িক নেতা নরেন্দ্র মোদির বিজয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের খুব একটা প্রভাব ফেলবে এমনটি মনে করার কোন অবকাশ নেই! ভারতে যেই সরকার ক্ষমতাই আসুক না কেন তাদের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হয় না, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার যে ধারাবাহিকতায় কাজ করেছে মোদির সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের ঘাটতি থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় তা মোদির সরকারের অজানা নয়! বরং সম্পর্ক চাঙ্গা করতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। আমার মতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবনতি নয় বরং উন্নতিই হবে। মো. হাসান এমবিএ (সিবিএস), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন