বিশ্বকাপ ফুটবল

ফুটবলের মায়াজাল ও বিশ্বকাপের ব্যয়

আপডেট : ১১ জুন ২০১৪, ২১:১৩
বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠছে আজ। ১৯৩০ সালে ১৩ দল নিয়ে যে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার শুরু হয়েছিল, আজ ব্রাজিলে সে প্রতিযোগিতার ২০তম আসর বসছে। মাঝখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। অলিম্পিককে বলা হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে। প্রথম বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ে কতেটা ব্যয় করেছিল, তার স্পষ্ট হিসেব না থাকিলে, সেই বিশ্বকাপে সর্বমোট ম্যাচ হয়েছিল মাত্র ১৮টি। স্টেডিয়ামে সব মিলিয়ে দর্শক ছিল মাত্র ছয় লাখেরও কম। আর সর্বশেষ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬৪টি ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ৩২ লাখের কাছাকাছি। টেলিভিশনের লাইভ ম্যাচ দেখা বিপুল দর্শকের সংখ্যা এই হিসেবের বাইরে। এইবার ব্রাজিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেত যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৩ কোটি মার্কিন ডলার, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ব্যয় করেছিল ৩৪ কোটি ডলার, ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ব্যয় করেছিল ৫০০ কোটি, ২০০৬ সালে জার্মানির খরচ হয়েছিল ৬০০ কোটি এবং ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকার মোট ব্যয় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর ২০১৪ ব্রাজিল ব্যয় করছে ১,৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হবে ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার। ম্যাচ সমপ্রচারের স্বত্ত্ব বিক্রি করে আসবে ১৭০ কোটি ডলার এবং মার্কেটিং স্বত্ত্ব বিক্রি থেকে আসবে ১৪০ কোটি ডলার। বিশ্বকাপ দেখতে এসে বিদেশি ভ্রমণকারীরা ১১০০ কোটি ডলার খরচ করবে বলে অনুমান ব্রাজিলের ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম-এর। এই বিশ্বকাপে মোট পুরস্কার মূল্য ৫৭.৬ কোটি ডলার, যা আগের বারের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া, অংশগ্রহণকারী ৩২ দলের প্রত্যেকে প্রস্তুতির জন্য পাবে অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ ডলার। এই সকল হিসেব মিলিয়ে দেখা যায়, ব্রাজিলে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যত অর্থ খরচ হচ্ছে তা আগের তিনটি বিশ্বকাপের মিলিত খরচের প্রায়। এই বিপুল অর্থব্যয়ের কারণে প্রায় এক বছর ধরে ব্রাজিলে এক ধরনের বিক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা গেছে। এমন কি ব্রাজিলের সাবেক ও বর্তমান তারকা ফুটবলাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। পেলে ও রোনালদো আছেন এই ব্যয়ের পক্ষে। কিন্তু সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবল তারকা রোমরিও রয়েছেন বিক্ষোভকারীদের দলে। তার কারণ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফিফা ব্রাজিলকে কোনো আয়কর প্রদান করবে না, অথচ তাদের আয় হবে ন্যূনতম ৪ কোটি ডলার। রোমারিওর আপত্তি ঠিক এখানেই যে, ফিফা কাছ থেকে আয়করও পাওয়া যাবে না, আবার পরিকাঠামো তৈরির খরচও মিলবে না খুব বেশি। তিনি মনে করেন বিশ্বকাপের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে আট হাজার নতুন বিদ্যালয়, ৩৯ হাজার স্কুল বাস ও ২৮০০০ খেলার মাঠ নির্মাণ সম্ভব। ফুটবলের নামে জনগণের অর্থ নিতে এমন ছিনিমিনি খেলার প্রতিবাদ করেছিলেন ব্রাজিলের উঠতি ফুটবল তারকা নেইমারও। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে ফুটবলপাগল দেশ ‘ব্রাজিল’ আর ‘ফুটবল’-এর যে মেলবন্ধন এবার হতে যাচ্ছে, তা যুগে যুগে হঠাত্ ঘটতে পারে। তাই এই বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা হয়ে উঠুক সর্বাঙ্গীণভাবে উত্সবে মুখর একটি মাস। লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন