দেশ-বিদেশের পাঁচ শতাধিক তরুণের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তরুণ নেতৃত্ব সম্মেলন। সন্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ ত্যাগ করার মানসিকতা। শুধু নায়কোচিত বা কৌশলী হওয়াই নেতার বৈশিষ্ট্য নয়। ত্যাগ ছাড়া সত্যিকারের নেতা হওয়া যায় না। তিনি বলেন, অন্যের জন্য, সমাজের সর্বোচ্চ ভালোর জন্য নিরন্তর কাজ করতে হবে। আর নেতা হওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন অনুসরণ করে পথ চলা। তাহলে এমনিতেই লক্ষ্য পূরণ হয়ে যাবে।
বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিপুল উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলনে তরুণরা সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল শ্রেণির উন্নয়নে এবং বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করতে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন। একইসাথে এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশে তৃতীয়বারের মত ‘ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার’ (বিওয়াইএলসি)।
গওহর রিজভী বলেন, জনসেবা বা সরকারি সেবার প্রধান লক্ষ্যই অন্যের কল্যাণে কাজ করা। সমাজের প্রতি অবদানই একজন মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা অনেক বড় ও মহান নেতাদের পেয়েছি। তারা নিজেদের নেতৃত্ব গুণে নিজ নিজ অঞ্চলে অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত মহান নেতা পেয়েছি আমরা। ত্যাগের মহান নিদর্শন তিনি স্থাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সাথে সাথে নেতৃত্বের ধরন এবং নেতৃত্ব দেয়ার মত ইস্যুগুলোতেও পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তনের সাথে নেতাকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়, পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হয়। তাকে অহম (ইগো) ত্যাগ করে মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো বলেন, দায়িত্ব পালন ও অংশীদারিত্বের কাজকে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সত্ ও দক্ষ নেতৃত্ব। অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদার হতে হবে উন্নত দেশগুলোকেও। এছাড়া সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সুবিধাপ্রাপ্তদের বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি প্রতিনিধি সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যুব সমাজকে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে আসতে হবে। জনসেবায় তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তরুণদের বিপুল প্রাণচাঞ্চল্যকে কাজে লাগাতে হবে। জনসেবায় তরুণদের সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নও বাস্তবায়িত হবে। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। করতে হবে ভিন্ন কিছু।
যুব ও ক্রীড়া সচিব নূর মোহাম্মদ বলেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান হবে। জাতীয় কর্মকাণ্ডে তরুণদের আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে যুবনীতি সংস্কারের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
সম্মেলনের উদ্বোধনকালে বিওয়াইএলসি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইজাজ আহমেদ বলেন, একজন নেতাকে আগে নিজেকে জানতে হবে। জানতে হবে পৃথিবীকে। জ্ঞানচক্ষু দিয়ে তাকে সমাজের সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তথ্য-জ্ঞান না থাকলে নেতা সমস্যার প্রকৃত সমাধান করতে পারে না। শুধু ভালো বক্তৃতা দেয়াই নেতার বৈশিষ্ট্য নয়। তাকে বিভিন্ন বিষয় জেনে তার মধ্যে সংযোগ ঘটাতে হবে। মানুষে মানুষে যোগাযোগ লালন করতে হবে। যোগাযোগের এ চর্চার মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত হয়।
আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ৬১টি দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। শুক্রবার এ সম্মেলন শেষ হবে। সম্মেলনের প্রধান প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জননেতৃত্বের মানসকে শক্তিশালীকরণ: আমি থেকে আমরা, একটি ভ্রমণ’।
