এই সফরের আসল গুরুত্ব কোথায়?

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৪, ২১:৩৩
মাত্র ছয়দিনে চীন বিজয় চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুরূহ কাজটিতে সফল হয়েছেন। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চীনকে সংযুক্ত করা ও বিদ্যুেকন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে পাঁচটি চুক্তি হয়েছে তা শেখ হাসিনার এবারের চীন সফরের এক ঐতিহাসিক সাফল্য বলা চলে। এই সাফল্য শুধু বাংলাদেশ ও চীন এই দু’দেশের মধ্যে নয়, গোটা এশিয়ার মৈত্রী, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে অনেকেই মনে করেন। গত শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের হাউস অব লর্ডস-এ বাংলাদেশ: বিয়োন্ড দ্য হেডলাইনস শীর্ষক এক সেমিনারে গিয়েছিলাম। সেখানে লন্ডন সফররত আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীও উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করেছে। এই সেমিনারের অন্যতম আয়োজক ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির অন্যতম বিশিষ্ট নেতা লর্ড শেখ তার স্বাগত ভাষণে হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এশিয়ার রাজনীতিতে যখন এক জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন তার সাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে হাসিনা সরকার বিস্ময়কর সাফল্য দেখাচ্ছেন। চীন ও জাপান বর্তমানে পরস্পরের তেমন মিত্র নয়। কিন্তু হাসিনা এই দুই দেশের সঙ্গেই মৈত্রী প্রতিষ্ঠায় এক বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদনে সফল হয়েছেন। এখন এশিয়ার এই দুটি জায়ান্ট দেশই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগী হবে। প্রায় একই কথা বলেছে, হাউস অব লর্ডস-এর সেমিনারে একজন ব্রিটিশ এমপি এবং ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের দুই সদস্যও। একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে চীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পর্কে লন্ডনের একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, একই সঙ্গে চীন ও জাপানের মতো বর্তমানে মিত্র নয় এমন দুটি দেশ থেকে বিশাল সহযোগিতা আদায় করা এবং পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতে নতুন মোদী সরকারের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করা বাংলাদেশের মতো একটি ছোট ও গরিব দেশের পররাষ্ট্রনীতির অভাবনীয় সাফল্যই বলা চলে। একথা ভারতের পত্র-পত্রিকাতেও এখন স্বীকার করা হচ্ছে। ভারতের কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ট্র্যাডিশনাল মৈত্রী সম্পর্কের কথা সকলেই জানেন। ’ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ভারতের কংগ্রেস সরকারের সহায়তা এবং অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মিল এই সম্পর্কের আরো ঘণীভূত করেছিল। একথাও সত্য, বাংলাদেশে গত ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমেরিকাসহ কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি মাসির দরদ দেখিয়ে যে অনৈতিক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন তা সফল হলে বাংলাদেশে এখন একটি অসাম্প্রদায়িক সেকুলার সরকার ক্ষমতায় থাকতো না। জামায়াত ও বিএনপির আধা তালেবানি সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতো। দিল্লির তত্কালীন অসাম্প্রদায়িক কংগ্রেস সরকার এই পশ্চিমা চক্রান্ত সফল হতে দেয়নি। অন্তত এই একটি ব্যাপারে মনমোহন সরকার চরম দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এই অবস্থায় ভারতে সহসা ক্ষমতার হাত বদল এবং সাম্প্রদায়িকমনা (বাংলাদেশের বিএনপি যে দলকে নিজেদের সমগোত্রীয় মনে করে) বিজেপি সরকার দিল্লিতে ক্ষমতায় বসার ফলে হাসিনা সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে ক্ষমতায় বসার পর বাংলাদেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আহ্লাদে এমনই আটখানা হয়েছিলেন যে, ভাবসাব দেখাতে শুরু করেছিলেন মোদীর জয় তাদের জয়। মোদী সরকার এখন ঢাকার মসনদ থেকে হাসিনাকে সরিয়ে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বসিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে। এই আশায় অসত্য প্রচারণাও চালানো হয়েছিল যে, দিল্লিতে মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া, এমনকি তার পুত্র তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান নরেন্দ্রনাথ মোদীকে বিগ আঙ্কেল সম্বোধন করে চিঠি লিখেছিলেন বলেও জানা যায়। লন্ডনের বাংলা কাগজেও সে খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এসব খবর সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি। দিল্লিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলে সৃষ্ট এই চ্যালেঞ্জ দ্রুত কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন মোদী সরকারের সঙ্গে দ্রুত সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও হাসিনা সরকার আশাতীত সাফল্য দেখিয়েছেন। এই সাফল্য তিনি বিজেপির আগেকার বাজপেয়ী সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেখিয়েছেন। তবে মোদী সরকারের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সাফল্যের গুরুত্ব অধিক। কারণ কট্টরপন্থি মোদীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় চ্যালেঞ্জ এতোদ্রুত মোকাবিলা করা হাসিনা করারের পক্ষে সহজ হবে না বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। তাদের এই আশঙ্কা অমূলক প্রমাণিত করে মোদী ঢাকা সফরের জন্য হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিস্তাসহ সকল বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। এবং এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকা সফরও করছেন। দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় বসায় ঢাকায় বিএনপি-শিবিরে যে উল্লাস দেখা দিয়ছিল, তা এখন হরিষে বিষাদে পরিণত হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত সি. রাজমোহন সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন। তিনিও ঢাকায় এসে বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তা থেকে জানা যায় তিনিও মোদী সরকার প্রতিবেশী বাংলাদেশের হাসিনা সরকার সম্পর্কে কোনো অসহযোগিতার নীতি গ্রহণ করবেন, তা মনে করেন না। ক্ষমতায় বসার আগে নির্বাচনে জেতার জন্য মোদী যাই বলে থাকুন, ক্ষমতায় বসার পর রাজনীতির বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করতে পারছেন না। এই বাস্তবতা হচ্ছে, ভারতের নিজস্ব স্বার্থেই। বাংলাদেশের বর্তমান অসাম্প্রদায়িক সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলা। মোদী সরকার সেই নীতিই গ্রহণ করেছে। মি. রাজমোহনের অভিমত, চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় মোদী সরকার অসন্তুষ্ট নয়। কারণ, এই সরকারেরও নীতি চীনের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের দ্রুত উন্নয়ন। এটা মোদী সরকারের উপর ভারতের বিগ বিজনেসেরও একটা বড় চাপ। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বাড়লে দিল্লির এখন আর মাথা ব্যথার কারণ নেই। এমনকি বাংলাদেশকে গভীর সমুদ্র বলয়ে নির্মাণে সাহায্যদানে চীন এগিয়ে এলেও মোদী সরকার তাদের প্রভাব ও স্বার্থহানি হবে বলে মনে করে না। বরং এই সমুদ্র বন্দর দ্বারা তারাও উপকৃত হবে আশা করে। যতোক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে চীন কোনো বিশেষ সামরিক সম্পর্ক গড়ে না তোলে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, ততোক্ষণ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নকে দিল্লি বিরূপ চোখে দেখবে না বলেই মি. রাজমোহন মনে করেন। সন্দেহ নেই, চীন সম্পর্কে ভারতের নীতি পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের শুরু সাবেক মনমোহন সরকারের আমল থেকেই। তার আগে পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটিকে এমনকি চীনকে এই সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দেওয়ার ব্যাপারটিকেও দিল্লি ভালো চোখে দেখেনি। এই ব্যাপারে প্রতিকূল মনোভাব ছিল (সম্ভবত:এখনো আছে) আমেরিকারও। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাববলয় বিস্তৃত হোক এটা দিল্লি অথবা ওয়াশিংটন কারো কাম্য ছিল না। বর্তমানে এশিয়ায় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যাচ্ছে। ভারত এখন সকল ব্যাপারে আমেরিকাকে খুশি করে চলার নীতিকে আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না। দিল্লি এবং বেইজিং নিজেদের স্বার্থেই পরস্পরের কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করছে। এই ব্যাপারে ওয়াশিংটন তার অবস্থানগত গুরুত্ব ক্রমশঃই হারাচ্ছে। বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর ব্যাপারে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত ‘ইউনূস প্রেমে’ পাগল হয়ে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে হাসিনা সরকারকে ‘নতজানু করার জন্য যে খেলা খেলেছে, তাও এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বুমেরাং হয়েছে। মিসরের আসোয়ান বাঁধ নিয়ে তত্কালীন নাসের সরকারের সঙ্গে বেশি খেলা খেলতে গিয়ে সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নকে মিসরে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ যেমন আমেরিকাই করে দিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়েও চীনকে এগিয়ে আসতে দিতে আমেরিকাই পথ করে দিয়েছে। তাছাড়া এই সেতু নির্মাণে হাসিনা সরকারও এখন আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। সুতরাং চীনের সাহায্যে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে আমেরিকার আপত্তিকে বাংলাদেশ আগে যতোটা গুরুত্ব দিয়েছে, এখন ততোটা দেওয়ার প্রয়োজন হয়তো নেই। কারণ, এই ব্যাপারে বড় প্রতিবেশি ভারতের আগের আপত্তি আর নেই। আমেরিকাকেও তাই আগের প্রতিকূল মনোভাব থেকে সরে আসতে হয়েছে। চীনের সাহায্যে শুধু পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ পথ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নয়, বাংলাদেশ-ভারত-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএস-ইসি) নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। চীনে পৌঁছেই ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে দ্বিতীয় ‘চীন-সাউথ এশিয়া এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ার ফলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিরাটভাবে বেড়ে যাবে।’ ঢাকা-বেজিং সম্পর্কোন্নয়নের ব্যাপারে এবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগ্রহ ও আন্তরিকতা ছিল লক্ষণীয়। বাংলাদেশের গত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে আমেরিকাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ যখন হাসিনা সরকারকে একঘরে করার চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখন চীন, ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের এই সরকারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনদানে এবং সহযোগিতার হাত বাড়াতে এগিয়ে আসতে দ্বিধা করেনি। ফলে উপমহাদেশে আরেকটি নয়া সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার জন্য বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বৃদ্ধি, কৃষিখাতের উন্নয়নে সুপার হাইব্রিড ধান উত্পাদনে বিনাশর্তে সহায়তা দান, চীন থেকে বাংলাদেশ ও ভারত হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত মেরিটাইম সিল্করুট প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে পাঁচটি চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে পটুয়াখালীতে কয়লাচালিত বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যে ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম দেয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। উপমহাদেশের অভিশাপ বন্যা নিয়ন্ত্রণে যেমন চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস দমনেও। চীনেও বর্তমানে তথাকথিত ‘জিহাদিস্টদের’ উত্পাত শুরু হয়েছে এবং এই উত্পাত দমনে চীন-ভারত সহযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ ভারতও এই সন্ত্রাসকবলিত একটি দেশ। বাংলাদেশও তাই। উপমহাদেশে এই ক্রমবিস্তৃত সন্ত্রাসের উত্স ও লালনভূমি পাকিস্তান। এই দেশটির সঙ্গে চীনের দীর্ঘকালের মৈত্রীর কথা সকলের জানা। চীন তার প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাস দমনে যৌথ কার্যক্রম গ্রহণে একটি ত্রিদেশীয় বৈঠকে পাকিস্তানকে এনে তার সহযোগিতা আদায় করতে পারলে উপমহাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা একটি বড় হুমকি থেকে বাঁচতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় শেখ হাসিনা বিষয়টি উত্থাপন করেছেন কিনা জানি না, করলে ভালো করতেন। শেখ হাসিনার এবারের চীন সফর শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা এশিয়াতেই শান্তি ও সহযোগিতায় এক নতুন যুগের দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমা সামাজ্যবাদীদের হস্তক্ষেপ মুক্ত নতুন এশিয়া গড়ারও পথ খুলে দিতে পারে। এই আশা উপমহাদেশের অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরও। লন্ডন : ১৪ জুন, শনিবার, ২০১৪

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন