আজকাল শাক-সবজি, ফল-মূল, খাওয়া-খাদ্যেই শুধু ভেজাল নয়, ভেজালের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। খাদ্যে ভেজাল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভেজাল। নির্মাণ কাজে ভেজাল। আয়-উপার্জনে ভেজাল। কোটি টাকার সম্পদ বানাতে (লুটপাট) ভেজাল। ছাত্রলীগে-যুবলীগে কিংবা ছাত্রদল-যুবদলে (অনুপ্রবেশকারীর) ভেজাল। রাজনীতিবিদদের মধ্যে (ওয়ানটাইম অথবা হাইব্রিডদের) ভেজাল। সংসদে (গৃহপালিত বিরোধী দলের) ভেজাল। এমনকি জাতির পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে (সম্মাননা ক্রেস্টে) ভেজাল। জাতির মান-সম্মান আর রইলো কই? ভেজাল এখন চতুর্দিকে। একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যেসব ব্যক্তি ও সংগঠন অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদেরকে (অনেককে মরণোত্তর) জাতির পক্ষ থেকে বিশেষ উপাধি ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এই মর্মে প্রামাণ্য অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে যে, তাদেরকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে যেসব ক্রেস্ট দেয়া হয়েছে সেগুলোতে নির্ধারিত পরিমাণ সোনার চেয়ে ৭৫ শতাংশ কম সোনা দেয়া হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি এ কথা জানার পর নাকি বলেছেন—শুধু তাই নয়, যে বাক্সটিতে তার ক্রেস্ট ভরে দেয়া হয়েছিল সেটিও নাকি খুলে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে ভেজাল! সম্মাননা ক্রেস্ট নিয়ে দিনেদুপুরে সোনা চুরি। জাতির মাথা হেঁট্্ হয়েছে। কতো বড় লজ্জার বিষয় এটি! এরপর আমাদেরকে সবক দিয়ে জানানো হলো যে—এদেশে নাকি স্বর্ণকাররা নিজের মায়ের গয়না বানাতে গিয়েও তা থেকে সোনা চুরি করে থাকে! তাই, ক্রেস্টের সোনা চুরি আর তেমন বড় রকম কী ঘটনা! মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদেরকে দেয়া ক্রেস্টের সোনায় না হয় ভেজাল আছে—তাতে কি? তাদেরকে সম্মান তো দেয়া হয়েছে—সেটাই তাদের বড় পাওনা। এ ধরনের বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে কি ‘ভেজালকরণকে’ মদদ দেয়া হয় না?
চতুর্দিকে এখন ভেজালের রাজত্ব। এর ফলে দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠির শারীরিক, সামাজিক, নৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে ভবিষ্যত্ বংশধরদের জীবনও হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। একথা বলাটা অত্যুক্তি হবে না যে, ভেজালের এরূপ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব জাতির অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজালের সর্বব্যাপী বিস্তার দেশের অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে, সমাজ জীবনে ভয়ঙ্কর এক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও রুগ্নতার জন্ম দিয়েছে। নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষয়রোগ আজ সমাজ দেহে বাসা বেঁধেছে। যার প্রকাশ আমরা দেখলাম সম্মাননা ক্রেস্টের সোনা চুরির ঘটনায়। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের বিচার দিয়ে এখানে ওখানে ফরমালিন মিশ্রিত আম-লিচু-মাছ রাস্তায় ফেলে ধ্বংস করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু নীতি-নৈতিকতাসহ সমাজ জীবনে ক্রম-প্রসারমান ভেজালের উত্পাত শুধু কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের প্রয়াস দ্বারা নিবারণ বা অবদমিত করা যাবে না। একটি বিপ্লবী গণজাগরণ ও সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের চেয়ে কম কোনো কিছুতে এ মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি অর্জন সম্ভব হবে না।
শিক্ষা ব্যবস্থাতেও লেগেছে ভেজালের বদ-হাওয়া। ভুইফোঁড় সব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র ভর্তি করে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। টাকা দিয়ে ডিগ্রির ‘ভেজাল’ সার্টিফিকেট কেনা-বেচা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়ছে ‘ভেজাল’। ভেজালের এ সমাজে পরিস্থিতি যে কতোটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে তার প্রত্যক্ষ নির্দশন হলো গতমাসে সংঘটিত নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা। এর পর পরই ঘটেছে ফেনীর হত্যাকাণ্ড। তারপরে লক্ষ্মীপুরের হত্যাকাণ্ড। প্রতিদিনই একের পর এক ঘটে চলেছে গুম-খুন-হত্যা-অপহরণ-ধর্ষণের ঘটনা। নারায়ণগঞ্জ-ফেনীর হত্যাকাণ্ড শুধু বর্বর ও লোমহর্ষকই নয়, তা দেশে বর্তমানে কি হাল বিরাজ করছে তার একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। এরপরও চরম আতঙ্কিত না হয়ে পারা যায় কি? ‘সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে’ বলে হরদম দিতে থাকা সরকারি ব্যক্তিদের গলা ফাটানো বক্তৃতায় আশ্বস্ত থাকা যায় কি?
সমাজে ‘ভেজালকরণের’ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব একদিকে যেমন দেশের সার্বিক রুগ্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অপরাধপ্রবণতা ও নৈরাজ্যের জন্মদাতা—তেমনই তা হলো এসবের অভিপ্রকাশ। একের পর এক ঘটতে থাকা নানা ঘটনায় তা চোখের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে। এগুলো মোটেও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া এক একটি আলাদা-আলাদা ঘটনা নয়। এর প্রতিটিই একই যোগসূত্রে গাঁথা। এগুলো সবই হলো রুগ্ন হয়ে পড়া অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফলাফল। মানুষের পিলে চমকে দেয়ার মতো নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় প্রকাশ হয়ে পড়েছে রোগাক্রান্ত সমাজের বহুমাত্রিক উপসর্গগুলো। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে গডফাদার, মাফিয়া চক্র, প্রাইভেট সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী, প্রশাসনের যোগাযোগে বৈধ-অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডার, টর্চার চেম্বার, বাগানবাড়ি, ব্ল্যাকমেইলিং ইত্যাদি। অন্যদিকে এসবের গোড়ায় রয়েছে অর্থনৈতিক লুটপাটের এক বিশাল আয়োজন। জমি দখল, নদী দখল, বালু-মহালের বেআইনী কারবার, স্মাগলিং, মাদক ব্যবসা, ইয়াবা-ফেনসিডিল ব্যবসা, জিম্মি ব্যবসা, নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সব অপরাধকর্মের কথা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। জানা যাচ্ছে—কিভাবে এসব অপরাধীচক্র তাদের ‘অপরাধ-রাজত্ব’ প্রতিষ্ঠা করে যাবতীয় ক্রিমিনাল কাজ-কর্মের মাধ্যমে শত-শত কোটি টাকার প্রাইভেট বাজেটে রাজা বনে গিয়ে তাদের ‘স্বাধীন রাজত্বে’ একধরনের ‘সার্বভৌম’ শাসন কায়েম রাখতে সক্ষম হচ্ছে। তারা ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ছায়ার নিচে এসে আশ্রয়-প্রশ্রয় নিচ্ছে। তেমনই আবার তারা সেসব রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সন্ত্রাসী ক্যাডার সরবরাহসহ নানাভাবে ‘সেবা’ দিয়ে যাচ্ছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর ও প্রশাসনের প্রভাবশালী অংশের সাথে তাদের রয়েছে অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্পর্ক। এসব ক্রিমিনাল গ্যাং ও প্রশাসন—এই দু’য়ের মধ্যে আসল ক্ষমতা কার হাতে তা বলা বেশ মুশকিল। এই আয়োজনের নিট ফলাফল হলো—অপরাধীচক্রের প্রাইভেট রাজত্ব, তাদের হাতে কল্পনাতীত সম্পদের সমাবেশ, প্রশাসনের ও বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে টাকার বিনিময়ে ভাড়া খেটে ‘কাজ’ করে দেয়া ইত্যাদি। রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে আরো অনেক (কোনটি ক্ষুদ্রতর আর কোনটি বড়—কে জানে?) প্রাইভেট ‘ভেজাল রাষ্ট্র’!
একধরনের অন্ধকারের জগত্ দেশকে গ্রাস করে ফেলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে’ সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে এসব অন্ধকারের শক্তি আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। দল দু’টিকে ‘অন্যথায় অন্যপক্ষে চলে যাবো’ হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। একইসাথে উভয় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব কব্জা করে নিচ্ছে। একদিকে এসব অপরাধীচক্র দল দু’টিকে দখল করে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরস্পরকে টেক্কা দেয়ার জন্য দল দু’টিও এসব অপরাধীচক্রকে ‘হাত করার’ মরণ খেলায় মেতে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব মাফিয়া ডন হয়ে উঠছে দলের নেতা, আর দলের কিছু কিছু নেতা নিজেরাই মাফিয়া ডন হয়ে উঠেছে।
দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাতেও লেগেছে ভেজালের ছাপ। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে দেশের খুব সামান্য সংখ্যক ভোটারই ভোট দিয়েছে। ১৫৪টি আসনে কোনো ভোট ছাড়াই এমপি ‘ঘোষিত’ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে এই ‘একতরফা’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল। একথা সকলেই জানতো যে সে সময় আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনে গুরুতর ভাটা চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছু সময় আগে অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করার মতো কোনো কারণ ঘটেনি। জাতীয় নির্বাচনে নগণ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিল। ফলে, তা থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনসমর্থনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচনের শেষ চার পর্বে যে ‘কারচুপির তামাশা’ চালানো হয়েছে, তা দিয়েও জনসমর্থনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নানা কারণে একথাই ধরে নিতে হয় যে, আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন বাড়াতে পারেনি। অথচ ৫ জানুয়ারির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচনের পর পরই এই কাজটিই ছিল আওয়ামী লীগের সামনে ১ নম্বর কর্তব্য। জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ অভিব্যক্তি ছাড়াই এভাবে নির্বাচনে ‘বিজয়ী’ হওয়া গেলেও একটি দেশে স্থায়ী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক শাসন চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জনসমর্থন অপরিহার্য। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি কমার বদলে বরঞ্চ গত ৫ মাসে তা আরো বাড়ছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।
অন্যদিকে বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগকে ‘আন্দোলনের’ মাধ্যমে উত্খাত করতে। কিন্তু সেজন্য যে জনসমর্থন প্রয়োজন তা বিএনপির পেছনে ছিল না। তাকে সহিংস সন্ত্রাস-তাণ্ডব সৃষ্টির পথ নিতে হয়েছিল। এজন্য বিএনপিকে জামায়াতের জঙ্গি শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। ৫ জানুয়ারির পরবর্তী ৫ মাসে বিএনপি তার পক্ষে ইতিবাচক জনসমর্থন সমবেত করতে এখনও সমর্থ হয়নি। সরকারকে উত্খাত করা বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন বিএনপির এখনো নেই। ফলে রাজনীতিতে এখন একধরনের একটি ত্রিশঙ্কু অবস্থা চলছে। বিএনপি যেন জামায়াতের ওপর ভর করে আবার সহিংস ‘আন্দোলন’ শুরু করতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে জামায়াতকে ‘ছুটিয়ে’ আনার কৌশল নিয়েছে। সে কৌশলের অংশ হিসেবে গণজাগরণ মঞ্চকে অকেজো ও প্রশ্নবিদ্ধ করার, ট্রাইব্যুনালে রায় প্রদানের গতি শ্লথ করে দেয়া, ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করার সময় এখনো আসেনি’ বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়ার, ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ চলবে বলে উক্তি করার পদক্ষেপগুলো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জামায়াতকে মূল টার্গেট করে বিএনপিকে কৌশলে তার থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টার বদলে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে মূল টার্গেট করে জামায়াতকে তার থেকে দূরে সরিয়ে নিজের কাছে আনার কৌশল অনুসরণ করছে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই সে জামায়াতকে নানা সিগনাল দিতে ও কনসেশন প্রদান করতে শুরু করেছে। এভাবে ক্ষমতার বিবেচনার কাছে নীতি-আদর্শের বিবেচনাকে বিসর্জন দেয়া হচ্ছে। রাজনীতির নীতি-নিষ্ঠতায় এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে ‘গদির লোভের’ ভেজাল।
বিএনপি চলছে স্বাধীনতা-বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে সাথে নিয়ে। শুধু আদর্শবোধই নয়, ন্যূনতম দেশপ্রেমের প্রশ্নে ‘ভেজাল’ মিশ্রিত না হলে এরকম অধঃপতন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি বলেছেন যে, বর্তমান সরকারকে বৈধ পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ পন্থায় তা করার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদেশে আর ১৫ আগস্ট ঘটানোর সুযোগ দেয়া হবে না... ইত্যাদি।
এ কেমন কথা? একটি সরকারকে বৈধ গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ থাকাটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি অত্যাবশ্যক শর্ত। সে সুযোগ যদি একটি দেশে না থাকে তাহলে সেখানে গণতন্ত্র থাকে কিভাবে? দ্বিতীয় কথাটি আরো মারাত্মক! এর দ্বারা কি এই ইঙ্গিতই দেয়া হচ্ছে না যে ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটানো ছাড়া এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না? এটি কি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক একটি মারাত্মক উস্কানি নয়?
‘ভেজালের’ দৌরাত্ম্য এখন সর্বত্র। প্রায় সবকিছুতেই এখন ফরমালিন। বাকি ছিল রাজনৈতিক ভাষণ-বক্তৃতায়। ‘বড়’ দু’টি দলের নেতা-নেত্রীদের ভাষণে এখন ফরমালিন প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে। এতে এখন ‘ভেজালের জগতের’ ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে। ‘ভেজালের’ রাজত্ব থেকে পরিত্রাণের জন্য তাই এখন ‘দিন বদল’ করাটাই একমাত্র পথ। সেজন্য ঘটাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ‘ভেজালমুক্ত’ নতুন শক্তির অভ্যুদয়! এ কাজে যতো বিলম্ব হবে, দেশের সর্বনাশ ততোই বাড়তে থাকবে।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail : [email protected]
