আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করে এসেছেন কদিন হলো। এর আগে তিনি জাপান সফরেও গিয়েছিলেন। শীর্ষ পর্যায়ের এ সফর এবং বৈঠক বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের যে অবস্থান তাতে বিশ্বের বৃহত্ অর্থনৈতিক শক্তি চীন ও জাপানের দৃষ্টি আকর্ষণ, বাজার ও বিনিয়োগের সহযোগিতামূলক সুযোগ সৃষ্টির অভিপ্রায় ও পরিবেশ সৃষ্টি, অধিকতর সমন্বিত অংশীদারিত্ব জোরদার— ইত্যাদি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই তাত্পর্যপূর্ণ সফর। কার্যত উভয় দেশই যে এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে এবং লাভবান হতে পারে— বাংলাদেশকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কারণ, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ এ অঞ্চলে এক বিশাল বাজার। তাছাড়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনেক সস্তা। এখানে কর্মোদ্যোগী মানুষের সংখ্যা অনেক এবং ক্রমাগত তা বাড়ছে। এ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বয়সে তরুণ ও মাঝবয়সী। তারা কাজ চায়। কাজের ক্ষেত্রে তাদের উদ্যমতার অভাব নেই। বিপুল বেকার জনশক্তি কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় সার্বক্ষণিক প্রহর গুনছে। এখন বাংলাদেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসছে তার মূল কারণ— বিদেশে অবস্থানরত পরিশ্রমী এই তরুণ প্রবাসীরা। তারা যে কর্মঠ এবং চৌকস ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ দিয়েছে। যা হোক, বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রযুক্তির বিষয়ে তুমুল আগ্রহপ্রবণ। বিশেষ করে বাণিজ্য ও টেকপ্রযুক্তিতে তাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। গ্রামে মফস্বলে মাঝবয়সী তরুণরা ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়েছে আইটি ও টেলিকম সেক্টরে। সরকারিভাবে বলা হয়েছে দেশের ২৪ শতাংশ মানুষ এখন ইন্টারনেটের আওতায়। এবং এটি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তরুণ শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য পরাশক্তি চীন এখন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করতে সক্ষম। এছাড়া তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশলগত কারণেও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ যে অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে তাও চীনের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে। কারণ, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তির সুবিধাটি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আরও সম্প্রসারিত রূপ পেতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ (বিসিআইএম-ইসি)-এর আশাপ্রদ রূপায়ণে। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যেই দক্ষিণ-পূর্বদিকে তার কূটনৈতিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এটি এখন অনুভবের সময় এসেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমাদের যে বিরাট জনশক্তি সেটির অপচয় রোধ করতে হবে। কারণ, তথ্য যোগাযোগের যে সুবিধা বাংলাদেশের মানুষ মুঠোবন্দী করতে সক্ষম হয়েছে তাতে অলস সময় কাটিয়ে আর লাভ নেই। এদেশে ক্ষুদ্র-মাঝারি কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুঁজি বিনিয়োগ করেও মানুষ সাফল্য পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, চীনের বিশেষায়িত অর্থনীতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পটুয়াখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণ, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। এগুলো অবশ্যই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিং থেকে মাত্র দু’ঘণ্টার স্বল্পতম সময়ে ঢাকার যে যোগাযোগ তাও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খুবই সম্ভাবনাময়। বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু সুস্পষ্ট প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রী উত্থাপন করেছেন। নিশ্চয়তা দিয়েছেন সেদেশের উদ্যোক্তাদের। তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন এখন অনেক বেড়েছে, বিগত কয়েক বছরের জিডিপি ৬-এর উপরে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বিগত সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি, প্রায় ৫ কোটি মানুষ এখন নিম্ন-আয় থেকে মধ্যম-আয়ের স্তরে উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেছেন- এদেশে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। একটি স্থির ও নিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশের ব্যাপারে চীনা বিনিয়োগকারীদের তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে যেমন- স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি, যোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যালস ও সিরামিকসে বিনিয়োগের কথা বলেন। সুনির্দিষ্ট করে এসব খাতে এবং পণ্যে আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আশাব্যঞ্জক দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। লক্ষণীয় যে, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে চায়না অর্থনীতির বিভিন্ন দিকের প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব। যেটা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের সভাপতি উ ঝেনশেংয়ের বৈঠকে প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) আয়োজিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ফোরামেও তিনি একই কথা বলেছেন। কার্যত এতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে। বাণিজ্য উদারীকরণের লক্ষ্যে বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি পারস্পরিক করা এবং ভারসাম্য কমিয়ে আনা, শুল্কমুক্ত সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশকে সম্মুখে এগিয়ে নেয়ার কথাই যেখানে গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্যায়ে সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতারও উল্লেখ হয়েছে। বিনিয়োগ-বান্ধব করার জন্য সরকারের যে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এগুলো একটি রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের জনগণের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। পরাশক্তি হিসেবে চীনের মতো বৃহত্ রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা এবং তাদের শিল্পপণ্য-বাণিজ্যের অংশীদারিত্বের সহযোগিতা অবশ্যই আমাদের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। প্রসঙ্গত এক্ষেত্রে জঙ্গী দমনের পদক্ষেপ নিয়েও আশ্বস্ত বাণী উচ্চারিত হয়েছে। কারণ বিগত সময়ে জঙ্গীবাদের উত্থান, মৌলবাদী সংগঠনগুলোর নানামুখী তত্পরতায় বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তির সংকট ছিল তা পুনরুদ্ধারের সবরকম চেষ্টা হয়েছে। এবং এখন তা নিয়ন্ত্রণে আছে। কঠোর হাতে তা দমনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। সামগ্রিকভাবে ‘রূপকল্প ২০২১’ বিষয়ে সরকার যে দৃঢ়সংকল্প— তা তাঁর মনোভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশ এখন অমিত সম্ভাবনার দেশ। এমনটা সত্যি, গড়পড়তা মানুষের আয় বেড়েছে। বিদ্যুত্-জ্বালানিতে উন্নতি হয়েছে। জনশক্তিতে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন মাত্রা। এ দেশের মানুষ কর্মক্ষমতা বা উদ্যমেই শুধু নয়, স্বপ্ন ও দেশচেতনাতেও সম্মুখগামী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লক্ষ্যটি সার্বিক শক্তি নিয়ে এখন সকলের মাঝে উজ্জীবিত হতে যাচ্ছে এবং সে লক্ষ্যে সকলকে নিয়ে এগুনো, সাংবিধানিক ভিত্তি মজবুত করে গণতন্ত্রকে দৃঢ় করা, অর্থনৈতিক ভিত্তির একটি আঞ্চলিক মডেল তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তা হলো— এজন্য বাস্তব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ তখনই তৈরি হবে যখন কমিটমেন্ট ও সততার সঙ্গে তা উভয়ের আস্থায় আসবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে নিরাপদ বিশ্বাসের। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেনভিত্তিক সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণে সহজশর্তে একশ’ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে চীনা সরকার। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় যে গার্মেন্টস পল্লী স্থাপনের চুক্তি হয়েছে তাও আকর্ষণীয়। এসবে সরকারের আস্থার ভিত্তি রচনা করতে হবে। কোনো গ্লানি নয়, আস্থার সম্পর্ক স্থাপনে আমাদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। দক্ষ ও পরিশ্রমী জনশক্তিই আমাদের সম্পদ। একইসঙ্গে দায়বদ্ধতাও জরুরি। অতীতে চীন নানা সময়ে আমাদের বড় বড় প্রকল্পে কাজ করেছে। সে অভিজ্ঞতা সবটাই যে ভালো তা বলা যাবে না। কিন্তু এখন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেহেতু একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার তৈরি হয়েছে, সেটি যে কোনো মূল্যে এগিয়ে নেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। আর সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন আমরা চাই। সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আর এ লক্ষ্যে সরকারকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে হবে। কারণ, এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নও নিহিত। খেয়াল রাখা প্রয়োজন সামষ্টিক উন্নয়নের যে কার্যক্রম তা যেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে ভেস্তে না যায়। এটা তো সত্যি, অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি এদেশের জনগণ। প্রকৃতঅর্থে যারা সত্, ন্যায়নিষ্ঠ, উদ্যমী এবং চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু কিছু অসত্ দুর্নীতিবাজ যেন প্রশ্রয় না পায়। মাসলম্যানরা ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে। বিষয়টিতে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, সমাজ থেকে এখনও দুষ্টের দমন হয়নি। একটু চোখ ফেরালেই আমরা দেখতে পাব, একদশক আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ— কতোদূর এগিয়েছে। শত প্রতিকূলতার ভেতরেও জিডিপি কমেনি, রপ্তানি বাণিজ্য হ্রাস পায়নি। রেমিট্যান্স এখন ৬২ শতাংশ। এ অর্জন কার? এদেশের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের উদ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে। চ্যালেঞ্জটি তাদের। দেশকে ভালোবেসে, দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে তারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে এ অর্থ উপার্জন করেছে। এসব সাফল্য একক কারো নয়, এদেশের মানুষের। প্রধানমন্ত্রী যে যে খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন কিংবা সহযোগিতার আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের যে সম্প্রসারণের পদক্ষেপের কথা বলেছেন তা বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টরে আসবে আমূল পরিবর্তন। তাতে যুক্ত হবে এদেশের তরুণ ও মেধাবী প্রজন্ম। এবং তাদেরই উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সমন্বয় ও সম্প্রসারণে সৃষ্টি হবে আরও নতুন ক্ষেত্র। সরকারের লক্ষ্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু পদক্ষেপটি নিতে হবে বাস্তবমুখী। ২০১৩ পর্যন্ত চীনের ৪৯টি কোম্পানী বাংলাদেশের ৮টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় যে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে তা আরও বাড়াতে হবে। সুখের খবর, এ পর্যায়ে ইতিমধ্যেই আরো ৩০০ বিনিয়োগকারী ২.৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি অনেক বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। কিন্তু সেজন্য লজিস্টিক সাপোর্ট তো সরকারকে দিতে হবে। শুধু সাহায্য নয়, আমাদের নীতি এখন কর্মমুখী, বাণিজ্যমুখী। এজন্য বাণিজ্যিক ভারসাম্য কমিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। চীন এদেশীয় পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের পরিধি যদি বাড়ায় তাহলে বাণিজ্য বাধা কিছুটা কাটবে। যেমনটা আগে উল্লেখ করেছি বাংলাদেশের চামড়া, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মত্স্য, সিরামিকস প্রভৃতি ধরনের পণ্য যদি চীন আমদানি করে তবে এ ব্যবধান কমতে পারে। কার্যত, এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্যই আমাদের তৈরি করে দিতে পারে নতুন ভবিষ্যত্। এবং প্রকৃতপক্ষে এতেই সম্প্রসারিত হবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি। এক্ষেত্রেও আমাদের সততা ও অঙ্গীকারের প্রয়োজন খুবই জরুরি।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরাশক্তি চীন কৌশলগতভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়। আমরাও চাই অর্থনৈতিক সহযোগিতা। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে সমঝোতা চুক্তিটি আপাতত স্বাক্ষর হয়নি। সে বিষয়ে চালিয়ে যেতে হবে কূটনৈতিক তত্পরতা। কিন্তু যে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে তার বাস্তব পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই। আমাদের অর্থনীতিক নীতি দক্ষিণ-পূর্বে সম্প্রসারণ হোক, সেটি এগিয়ে যাক— সে প্রত্যাশা সবার। প্রসঙ্গত এটাও ঠিক, চীনা প্রেসিডেন্ট যে ‘সিল্ক রুট ইকনোমিক বেল্ট অ্যান্ড টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি মেরিটাইম সিল্ক রুট’ বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছেন তাও আমাদের ভেবে দেখতে হবে। কারণ, এ রুট চীন থেকে বাংলাদেশ-ভারত হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত যাবে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে জাপানও সফর করেছেন। এ সফরেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আগামী চার-পাঁচ বছর জাপান ছয় বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে চেয়েছে। এবং তা ব্যয়ের ক্ষেত্র নির্ধারিত হয়েছে— যমুনার নিচ দিয়ে বহুমুখী টানেল নির্মাণ, যমুনায় পৃথক রেলসেতু, ঢাকার ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণ, গঙ্গা ব্যারেজ তৈরির খাতে। সেখানে ঢাকা-টোকিও যৌথ ইশতেহারটিও বেশ তাত্পর্যপূর্ণ ছিল। আমাদের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এটিও একটি নতুন মাইলফলক। উচ্চপর্যায়ে দু’দেশের এমন সম্পর্ক পারস্পরিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিক সমৃদ্ধির বলয় তৈরিতে আনবে প্রভূত সাফল্য— যা যোগাযোগ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের অন্যতম প্রয়াস। এগুলো চীন-জাপানের বিনোয়াগকারীদের উত্সাহিত করবে। এসব সহায়তা আমরা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারলে নিঃসন্দেহে আমাদের ঘটবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
লেখক:অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
