কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে একটু বিশ্রাম নিতে ও স্বাচ্ছন্দ্য সময় কাটাতে মধুচন্দ্রিমায় যান দম্পতিরা। কিন্তু কয়েকটি মধুচন্দ্রিমার ঘটনা ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে ‘ভয়াবহ ও বেদনাময়’ হিসেবে। বিশ্বের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিবেদন। এমন কয়েকটি বেদনাদায়ক মধুচন্দ্রিমার ঘটনা তুলে ধরা হলো—
মধুচন্দ্রিমায় বিপদের
রেকর্ড
সুইডিশ দম্পতি স্টেফান এবং এরিকা ভ্যানস্ট্রমের বিয়ে হয়েছে প্রায় দু’বছর। ৮ মাস বয়সী ফুটফুটে একটি মেয়েও আছে তাদের। বিয়ের পর পর নানা ব্যস্ততায় হানিমুনে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তাদের। সেই দুঃখ পুষিয়ে নিতে মেয়েকে নিয়ে টানা ৪ মাসের লম্বা হানিমুনে বেরুলো তারা। কিন্তু যদি জানতো সামনে কি ভয়াবহ সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তাহলে হানিমুনে ওরা যেত কিনা সন্দেহ। ২০১০-এর ৬ ডিসেম্বর স্টকহোম থেকে তারা প্রথমে যায় জার্মানীর মিউনিখে। সেখানে যেতেই শুরু হয় ভয়াবহ তুষারঝড়। মেয়েসহ মিউনিখে আটকা পড়ে স্টেফান ও এরিকা। এরপর তারা যায় অস্ট্রেলিয়ার কেয়ার্নসে। সেখানেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল সাইক্লোন। সেই বিপদ থেকে কোনমতে বেঁচে ব্রিসবেনে গিয়ে তারা পড়লো বন্যার কবলে। আর পার্থে গিয়ে ভয়াবহ দাবানল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ওই দম্পতি। এতগুলো বিপদ থেকে বেঁচে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গিয়ে যখন তারা একটু দম নেয়ার চেষ্টা করছিল তখনই ৬-৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলো সেখানে। এরপর তারা গেল জাপানের টোকিওতে। সেখানে গিয়ে আরও বড় ভূমিকম্পের কবলে পড়লো তারা। এবারও ভাগ্যগুণে বেঁচে গেল তারা।
স্বামীর হাত-পা নিয়ে
গেল হাঙরে
বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ব্রিটেনের সেচেলিস- এর সাগরতীরে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিল আয়ান এবং গেমা রেডমন্ড দম্পতি। প্রিয়তমা স্ত্রী গেমাকে তীরে রেখে সাগরে একটু সাঁতরাতে গিয়েছিল আয়ান। সানবাথরত গেমা হঠাত্ শুনতে পেল স্বামীর আর্তচিত্কার। দৌড়ে গেল সে সাগরপানে। গিয়ে দেখলো এক লোমহর্ষক দৃশ্য। তার চোখের সামনে স্বামী আয়ানের এক হাত ও এক পা কামড়ে ছিঁড়ে নিয়ে গেল একটা হাঙর। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো গেমা। আর আশেপাশের লোকজন আয়ানকে উদ্ধার করে তীরে আনতে না আনতেই মারা যায় সে।
ছেলের মধুচন্দ্রিমায় হাজির মা
ইটালীর বাসিন্দা ম্যারিয়ানা টানা এক বছর প্রেম করার পর বিয়ে করে তার প্রিয়তমকে। এরপর নবদম্পতি ফ্রান্সে যায় হানিমুন করতে। কিন্তু রোম বিমানবন্দরে যেতেই সেখানে এসে হাজির হন ম্যারিয়ানের শাশুড়ি। পুত্রবধূর সঙ্গে আদরের ছেলেকে একা ছাড়তে নারাজ তিনি। তাদের সঙ্গে তিনিও যান ফ্রান্সে। আর শাশুড়ি এমন নাছোড়বান্দার মতো পেছনে পেছনে ঘোরাঘুরি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ম্যারিয়ান। স্বামীকে অনুরোধ করেন মাকে দেশে পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু মা যেতে রাজি নন, আর ছেলেও তাকে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এভাবে তিন সপ্তাহ কাটানোর পর ম্যারিয়ান নিজেই চলে আসেন দেশে। বিন্দুমাত্র দেরি না করে পাঠিয়ে দেন ডিভোর্স লেটার।
সিগারেট চুরির দায়ে স্বামী গ্রেফতার
২০১২ সালে স্ত্রীর সঙ্গে হানিমুনে যাবার সময় ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিমানবন্দরে গ্রেফতার হয় অ্যান্থনী বার্নস নামে এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘সিগারেট চুরির’। একটি দুটি নয়, ৬ হাজার সিগারেট। ঐ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে চেমসলি উডের অ্যাসডা এলাকায় ক্লিনারের কাজ করার সময় সিগারেটগুলো চুরি করেন তিনি। আর সিগারেট চুরির কথা স্বীকারও করে বার্নস। তবে একজন সাবেক সিগারেট চোরের সাথে বিয়ে হয়েছে জেনে তার স্ত্রীর কি অবস্থা হয়েছিল, তা সহজে অনুমেয়।
