ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহরে সুন্নি জঙ্গিদের ওপর বিমান হামলা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২০:৫৮
উত্তরাঞ্চলীয় শহর থেকে বাগদাদ অভিমুখে অগ্রগামী সুন্নী জঙ্গিদের ওপর সীমিত আকারে বিমান হামলা চালিয়েছে ইরাকের সরকারি বাহিনী। উত্তরাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরের পুন:নিয়ন্ত্রণ নিতে সুন্নি জঙ্গিদের সাথে সরকারি বাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে। দিয়ালা এবং সালাহউদ্দিন প্রদেশ থেকে আইএসআইএসকে হঠাতে লড়াই করে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এছাড়া সোমবার থেকে ইরাকের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার বিয়াজি বন্ধ করে দেয়ার পর সেটিও হামলার শিকার হয়েছে। ইরাকের সরকারি কয়েকটি সূত্র জানায়, দিয়ালা প্রদেশের রাজধানী বাকুবার কয়েকটি এলাকা সুন্নি বিদ্রোহীরা দখল করার পর সরকারি সেনা ও শিয়া মিলিশিয়ারা মিলে আবার নিজেদের দখলে নিয়েছে। রাজধানী বাগদাদ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে বাকুবায় ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে সুন্নি জঙ্গিদের তুমুল লড়াই চলছে। বাকুবায় কয়েকটি এলাকা সুন্নি জঙ্গিরা দখল করার পর সরকারি বাহিনী আবার তা দখলে নিয়েছে বলে দাবি করেছে। জঙ্গিরা এর আগে সোমবার ইরাকের কৌশলগত শহর তাল আফার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর পুনরায় দখল নিয়েছে ইরাকি বাহিনী। পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশেও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছে ভিন্নমতালম্বী উপজাতীয় জঙ্গিরা। আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদিতে সুন্নি জঙ্গিদের সাথে সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দি ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এন্ড দ্যা লেভান্ট আইএসআইএস ইরাকের দ্বিতীয় শহর মাসুল দখল করে নেয়। ইরাকে জঙ্গিদের সাথে সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রাণহানির আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এদিকে বাগদাদ সরকার অভিযোগ করেছে, ইরাকে তত্পর জঙ্গিদের সমর্থন এবং অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব। আইএসআইএসকে প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পেতে চাইলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকিকে সুন্নি রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনায় বসার যে শর্ত পশ্চিমারা দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিয়া প্রধানমন্ত্রী মালিকি। সুন্নি বিদ্রোহীদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর দমনাভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাছাড়া জঙ্গিদের প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযোগে সেনাবাহিনীর চারজন কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন নূরি মালিকি।