ফরমালিন বর্তমানে বাজারে কিছু ভোগ্যপণ্যের পচনশীল ক্রিয়া ঘটাতে এবং দীর্ঘসময় আকর্ষণীয় রাখার জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এটাকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে চলেছেন। যা দেশের জনগণের স্বার্থের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে। ফরমালিনকে বন্ধ করার জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং বিভিন্ন ভেজাল বিরোধী কার্যক্রমকে তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে আনতে হবে। এছাড়া ফরমালিন ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এদেশের জনগণের সু-স্বাস্থ্যের পরিচর্যা হুমকির মুখে পতিত হবে।
কামাল হোসেন, এমবিএ পরীক্ষার্থী, ঝিনাইদহ
আম, জাম, লিচুর মতো মৌসুমী ফলে ফরমালিনের ব্যবহার রোধে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করছে। চলছে এ ব্যাপারে অভিযান। বাংলাদেশ প্রায় ১৬০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর একটি বৃহত্ কৃষিপ্রধান দেশ। ফলের জন্য এদেশ সত্যি বিখ্যাত। তবে যারা এই সুস্বাদু ফলে ফরমালিন মিশাতে ব্যস্ত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
মোঃ মোজাহারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, ইডাফ, সাভার
খাদ্যে বিষ- বিষয়টি ইদানীং আলোচনার প্রায় শীর্ষে - প্রশাসনিক তত্পরতাও বাড়ছে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু, তবু এক শ্রেণির অসাধু ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মেশানো থেকে থেমে নেই। প্রশাসনকে ধন্যবাদ, তারা অনেক দেরিতে হলেও সোচ্চার হয়েছে খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করার জন্য। কিন্তু ইহাতে কতটুকু সুফল পাবো জানি না। আমি শুধু এতটুকু বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী যদি আজকে ঘোষণা দেন “ আমি কোন খাদ্যে ভেজাল দেখতে চাই না” তবে মাত্র সাতদিনের মাথায় খাদ্যে ভেজালের পরিমাণ ১০০% থেকে ৫% এ নেমে আসবে। আর এ অবস্থাকে ধরে রাখার জন্য দরকার দেশের নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সঠিক ও সুনিপুণ হস্তক্ষেপ।
ডা. মর্জিনা আক্তার , নদ্দা, গুলশান, ঢাকা
ফরমালিন একটি বিষ,সাধারণত কোন মৃত তথা জীবিত নয় এমন বস্তু দীর্ঘ সময় পচন না ধরার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়, মাছ পানিতে, ফল গাছে থাকা অবস্থায় জীবিত থাকে। বাংলাদেশর দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা মাছ ও ফলসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যে এই বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার করে। মীর জাফর নামটির মত ফরমালিনও ঘৃণীত বস্তু,কিন্তু বাংলাদেশে ১০০ ভাগ মানুষ ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ঠিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দূষণ চলছে তা ফরমালিনযুক্ত খাবারের সাথে তুলনা চলে। রাজনীতির নামে স্বাধীনতার পর চলছে লুটপাট। ফরমালিন বা ফরমালিনযুক্ত খাবার না দিয়ে দেশ ও জাতির জন্য ভাল কিছু করুন। দেশের ৭ কোটি শিশু, কিশোর- কিশোরীসহ ১৬ কোটি জনগণ আজ এ আশা করে। নতুবা সুস্থ বা অসুস্থ, অথবা ভাঙ্গা হাত-পা নিয়েই হিজরত করতে হবে।জনগণ আর সোনার বাংলায় ফিরে আসবে না।
নজরুল ইসলাম খান, খান ভিলা, নতুন বাজার,
ঢাকা-১২০৪
খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহার রোধে বর্তমান পুলিশী ব্যবস্থা শহর কেন্দ্রিক, দেশব্যাপী এই ব্যবস্থা চালু করার সামর্থ্য পুলিশের নেই। তাই এই সীমিত ব্যবস্থায় ফরমালিন ব্যবহার বন্ধ হবে না। যেসব যন্ত্রপাতি ফরমালিন চেকিং এ ব্যবহূত হয় সেসবের কার্যকারিতা কতটুকু তাও বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করা উচিত। ১০০%, ৯০% বা তার চেয়ে কম ফরমালিন বলতে কি বুঝায় তাও পরিষ্কার নয়। দেশে যারা ফরমালিন আমদানি করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে যত্রতত্র ফরমালিন বিক্রয় বন্ধসহ চোরাপথে ফরমালিন আসা বন্ধ না হলে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধ হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের অনুরূপ খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহার রোধে আরও অধিক শাস্তিযোগ্য আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম (অবঃ) বীরমুক্তিযোদ্ধা, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
মৌসুমী ফল স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ থাকার একটি অন্যতম বিষয় বলে আমরা জেনে আসছি। কিন্তু বর্তমানে মৌসুমী ফলে ফরমালিনের যেভাবে ব্যবহার চলছে তা ভয়ংকর বটে। যারা বিষ মেশাচ্ছে তাদের হুঁশ হচ্ছে না। বন্ধ হচ্ছে না ফরমালিনসহ নানা রকম বিষাক্ত ওষুধ। তাই এ থেকে রেহাই চাই আমরা।
মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল), আরাপপুর, ঝিনাইদহ
মৌসুমী ফলে ফরমালিন ব্যবহার প্রতি বছরই হচ্ছে। সারা বছরের মধ্যে ঋতুভিত্তিক এই ফল আমরা বিষযুক্ত খাচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ ফরমালিন ব্যবহার চলছে। কাজে-কর্মে কথাবার্তায়, চলাচলে, আচার ব্যবহারে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ এই অবস্থা চলছে। তাই এ ব্যাপারে প্রথমত আমাদের সচেতনতা ও প্রশাসনকে আরো কঠোরভাবে দমন করতে হবে এই ফরমালিনসহ বিপজ্জনক রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার।
বজলুল করিম, ধানমন্ডি, ঢাকা
ফলমূল ও খাদ্যে যারা বিষ বা ফরমালিন মেশাচ্ছে তারা কিছুতেই কর্ণপাত করছে না। তাই এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজন আমাদের সামাজিক সচেতনতা।
হুমায়ন কবীর, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা
আম, জাম, লিচুর মতো মৌসুমী ফলে ফরমালিনের ব্যবহার রোধে আজ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর জন্য প্রশাসন ধন্যবাদের দাবিদার বটে। কিন্তু এই কর্মসূচিকে আরো জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
হোসনে আরা করিম নীলা, পিলখানা, ঢাকা
ফল সবারই কম-বেশি আমাদের প্রিয় খাবার। এই আম, জাম, লিচু, মৌসুমী ফল আমাদের দেহকে সুস্থ সবল রাখে। কিন্তু ইদানীং ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল মিশিয়ে সয়লাব করে ফেলছে সারা দেশ। তাই প্রশাসন যদি এ ব্যাপারে আরো কঠোর হোন তাহলে উক্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ব্যবহার করতে কোন সুযোগ পাবে না।
মারুফ, বাসাবো, ঢাকা
মৌসুমী ফলে প্রাণঘাতি ফরমালিন রোধে, সম্প্রতি প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ এক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে তা স্থায়ী কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত বলা যাবে না একারণে যে, রাজধানীর প্রবেশপথে ভ্রাম্যমাণ প্রতিরোধক এই ব্যবস্থা বাইরে থেকে আসা, ফরমালিন মিশ্রিত মৌসুমী ফলের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। এমনকি ফরমালিনমুক্ত আম, জাম, লিচু রাজধানীতে ঢুকলেও পচনরোধে ঢাকার ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ব্যবহার করবে না, এমন নিশ্চয়তার কোনো গ্যারান্টি দিতে পারবে না। তথাপিও আপাত প্রশাসনিক উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিকারকদের কিছুটা হলেও হতোদ্যম করেছে। এমতাবস্থায় মৌসুমী ফলসহ সকল খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে ও আইনানুগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কয়েকটি বাস্তবমুখী ব্যবস্থা নিতে হবে যেমনঃ একঃ ফরমালিন আমদানি ও তা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, এতদ্বিষয়ে কঠোর নিয়মনীতি প্রণয়ন করতে হবে। দুইঃ জনস্বাস্থ্য ক্ষতিকারকরা জাতির শত্রু। মৌসুমী ফলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে নীরব ঘাতকের কাজ করে যাচ্ছে বিধায়, প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তিনঃ আর্থিক জরিমানার ক্ষেত্রে বিক্রেতার ব্যবসায়িক সম্পদের মূলধনের দ্বিগুণ অর্থদণ্ড আদায়ের ব্যবস্থা রেখে নতুন আইন তৈরি করতে হবে। চারঃ বিক্রেতাকেই প্রমাণ করতে হবে, তার পণ্যাদিতে ক্ষতিকারক ফরমালিন নেই, এবং বি এস টি আই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোকবল বাড়িয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকরণে চলমান কার্যক্রম ব্যবস্থা রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। পাঁচঃ বিশেষ করে মৌসুমী ফল ভক্ষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে, বিধায় সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে জনগণ যদি এক মৌসুম বিভিন্ন ফল খাওয়া থেকে বিরত রাখার ইস্পাতদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেন, এটা নিশ্চিত যে, উত্পাদক থেকে শুরু করে, ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্ পর্যায়ের ব্যবসায়িকদেরকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া সম্ভব হবে। এভাবেই ফরমালিন তথা বিষমুক্ত খাদ্যদ্রব্য প্রাপ্তির পথ উন্মুক্ত করা যাবে।
মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
বহু রকম কেমিক্যালের ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের দেহে। আম, জাম, লিচুর মতো মৌসুমী ফলের রাসায়নিক ফলের প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বড়রা। ক্যানসারসহ নানা রকম রোগের সূত্রপাত হচ্ছে এই ফরমালিন থেকে। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজন এখনই সামাজিক সচেতনতা।
মোঃ ওয়াহিদ উল্লাহ, ফেনী সড়ক, ফেনী
আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ। সব ঋতুতেই আমরা পাই কোনো না কোনো ফল। এ সমস্ত ফলমূল খুবই সুস্বাদু। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় প্রায় ৭০ প্রকারের বেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যা-কিনা পৃথিবীর কোন দেশেই সম্ভব নয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, ইদানীং বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নানারকম ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশ্রিত করে এ সমস্ত ফলমূল বাজারজাত করছে প্রতিদিন। ফলে আমরা আমাদের প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। সুতরাং এটা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাওয়া দরকার।
হাসান মো. হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
ফরমালিনের অভিশাপ থেকে দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য অবশ্যই প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। এ বিষ মেশানোর ফলে আমাদের জানামতে, ঢাকার ১০০ শতাংশ, ৫৫% লিচু, ৮৭% আঙুর, ৬৯% মালটা, ৫৯% আপেল, খাওয়ার অনুপযুক্ত। এই বিষযুক্ত খাবারসমূহ সেটি ফল হতে পারে মাছ কিংবা শাক-সবজিও হতে পারে। তা মানবদেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। এ কথা অবশ্যই আমাদের মেনে নিতে হবে যে, সরকারের দায়িত্ব এই অভিশাপ থেকে জনগণকে মুক্ত করা। আমরা লক্ষ্য করেছি ফরমালিন রোধ করার জন্য বিভিন্ন স্পটে তল্লাশী চালানো হয়। আমাদের দাবি, জনগণের স্বার্থে অবশ্যই ফরমালিন যারা ব্যবহার করে এবং শাক-সবজি ফরমালিন দ্বারা সজীব রাখে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে যথাযথ বিচার করতে হবে।
ওয়াহিদ মুরাদ, নেসারাবাদ, পিরোজপুর
ফরমালিন মানুষের ক্ষতি করে। শুধু ফলে নয়। সর্বত্র খাবারে এই ভেজাল চলছে। এর ফলে শুধু আমাদের নয়। গরীব লাখ লাখ কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। তাদের বাঁচাতে হবে। সারা দেশে লাখ লাখ আম হচ্ছে সেগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারলে কৃষকদের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। সুতরাং মানুষের ক্ষতি করে না এমন একটি বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। সে ব্যাপারে সাইন্স ল্যাবরেটরী, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কৃষি বিজ্ঞানী যারা আছেন তাদের একটা মতামত নেয়া দরকার।
অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম, ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা
শুধু ফলে নয় খাদ্যেও ভেজাল চলছে। পণ্য বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনসহ। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষোভের সাথে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমাকে দেশের ক্ষমতা দেয়া হোক, আমি ৭ দিনের মধ্যে দেশে ফরমালিন আমদানি বন্ধ করে দেবো। ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে কেবল আমরা ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে পারি।
ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা
রসালো ও সুস্বাদু ফল আমাদের অনেকেরই প্রিয়। ষড়ঋতুর দেশে নানা জাতের ফল খাওয়া আমাদের অতি অভ্যাস। অথচ সেই ফলে ফরমালিনের অবাধ ব্যবহারের ফলে এখন আর কোন স্থানেই পচনশীল পণ্য ফরমালিন ছাড়া নেই। শুধু ফলেই নয়, সব খাবারেই বিরাজমান এই ফরমালিন ও ভেজাল। সম্প্রতি বাজারে ফলমালিনমুক্ত আম বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসন মহত্ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করছি এতে করে সরকার সফল হবেন।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ভোলা ড্রাগ হাউজ, পাকার মাথা, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা
খাদ্য উপাদানে ফরমালিন মিশানোর মাধ্যমে রোগাক্রান্ত জাতি এবং একইসাথে সৃজনী শক্তিহীন দুর্বল ভবিষ্যত্ প্রজন্ম গড়ে উঠছে। যারা খাদ্যে ফরমালিন মিশায় এরা দেশ ও মানবতার শত্রু। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া খাদ্যে ফরমালিন মিশানো বন্ধ করা দুষ্কর। তাই সরকারের উপযুক্ত পদক্ষেপ আশা করছি।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু, সেনবাগ, নোয়াখালী
সর্বত্র খাদ্যে ফরমালিন মিশ্রণ চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি তত্পর এ কাজে। যদিও সম্প্রতি ফরমালিন ব্যবহার কঠোর হস্তে বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে অতি মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। আমরা আশা করছি আগামী বছর থেকে সারা দেশ ফরমালিনমুক্ত খাবারে দেশ বাঁচবে।
মো. হানিফ মিয়া, মনেশ্বর লেন- ১ম লেন,
হাজারীবাগ, ঢাকা
এখন মধুমাস হওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্য বহমান হচ্ছে পাকা আম। চিড়া মিষ্টি, মিষ্টান্ন ঐ পরিবারের সহ জামাইকে নিয়ে খাওয়ানো আমেজ চলছে। গ্রাম-গঞ্জে কিংবা শহরের শ্বেত পাথরের চৌ কোঠায়। আমসহ অন্যান্য ফল ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতাসাধারণ অসাধু আম ব্যবসায়ীদের কাছে আম ক্রয় করে নাজেহাল হচ্ছে প্রতিদিন। বিষাক্ত ফরমালিন যা ঐ ফল খেলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মৌসুমী ফল আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল অন্যান্য ফল আসছে। ফরমালিন মেশানোর শাস্তি হিসেবে সশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী
খাদ্যে বিষ মিশানো নিয়ে বহু লেখালেখি চলছে। কিন্তু দেশবাসীর সে থেকে পরিত্রাণ পাইনি। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সর্বপ্রথম বাইরের থেকে আমদানিকৃত ঐসব রাসায়নিক পদার্থকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তা না হলে অন্য খাদ্যে ব্যবহার যেন না হয় সেদিকে সরকার ও সাধারণ মানুষকে সদয় দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের দেশে যে সকল ব্যবসায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে দেশের ১৭ কোটি মানুষের স্বার্থে, প্রয়োজনে তাদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে বলে মনে করি। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যে সকল ব্যবসায়ী জড়িত তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। আমাদের দেশের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে গোপনে গোপনে এ কাজে নিয়োজিত থেকে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে নিয়ে ভেজাল বিরোধী বিষয়ে অভিযান চালাতে হবে। এতে আশা করা যায় ভবিষ্যতে এ থেকে পরিত্রাণ পাবে দেশবাসী।
আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজ)
উপদেষ্টা, নজরুল একাডেমি, হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী ৬২০২
ভেজাল খাদ্য ও ফরমালিন আতঙ্কে দেশের প্রতিটি মানুষ। শুধু আম, লিচু, কলা, কাঁঠালে নয়, খাদ্যেও এই বিষ। মাছ, শাক-সবজি, মাংস, চাল সবকিছুতেই ভেজালের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। এটা থেকে এখন পরিত্রাণ পাওয়া দরকার।
মোঃ মনির হোসেন, মিরপুর, ঢাকা
খাদ্যে বিশেষ করে মাছ মাংস ও ফলমূলে মিশানো বিষ কিংবা ফরমালিন থেকে মুক্তি পেতে হলে পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারকে অধিকতর আন্তরিক হতে হবে। এদিকে জনসাধারণের সচেতনতাও খুব জরুরি। এসব ফরমালিন যারা আমদানি করে তাদেরকে অধিকতর কড়া দৃষ্টিতে রেখে কিংবা স্বতন্ত্র আমদানিকৃত ফরমালিন কিংবা উক্ত বিষ সঠিক রিপোর্টিং-এর মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ নিতে হবে, যেন তারা সাধারণ বাজারে না ছাড়তে পারে। সরকারের উঁচু মহলের লোক জড়িত থাকলেও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থে পত্রিকা কিংবা রেডিও টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতাদের আরও সচেতন করতে হবে যেন তারা এগুলো বিক্রি না করতে পারে। বিক্রি করলে জেল-জরিমানা করতে হবে। সর্বোপরি মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে পারলে ফরমালিনমুক্ত খাবারের পরিমাণ কমে যাবে।
শাহ আলম খান সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
মৌসুমি ফলে ফরমালিন ব্যবহার করছে কারা? এই প্রশ্নের উত্তর বের করতে পারলে ফরমালিন ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। আমাদের মগজে দুর্নীতির ফরমালিন ঢুকেছে। আমরা যেদিন সত্ হবো, সেদিনই ফলে ফরমালিন ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। বৃক্ষের গোড়ায় পচনরোগ, মাথায় পানি ঢেলে কোনো লাভ নেই। পচন রোগে আক্রান্ত গোড়ার চিকিত্সা আগে প্রয়োজন। সত্ প্রশাসন থাকলে ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ব্যবহার করতে সাহস পেত না।
বিপ্লব ফারুক, কবি-সাংবাদিক-প্রকাশক, ঢাকা।
অনাহার, অর্ধাহার, অপুষ্টিসহ ইত্যকার নানাবিধ উপসর্গ এমনিতেই বাংলাদেশ তথা গ্রাম বাংলার জনগণের নিত্য-নৈমিত্তিক চিত্র। অনেক দরিদ্র পরিবার নিয়মিত খাদ্যের অভাবে গাছ-গাছালির ফল-মূল খেয়ে জীবনধারণ করে থাকেন এবং এ সকল মৌসুমী ফল-মূলের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদাও মিটিয়ে থাকেন মানুষের দৈনিক অন্তত ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রথম স্বাস্থ্যগত আঘাত আসে ফল-মূলকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার্থে কট, টিডো, ফাইটার, ডায়াথেন, নইন পাউডার, ব্যাপিষ্টিন, ফ্লোরা, শ্যাম্পু, বোরন, ফলিকুর, রোব্রাল, প্রিমিয়ার, এন্টাকল নামক কীটনাশক ওষুধ ব্যবহারের কারণে। এগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে নিবৃত্ত করার জন্য কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগসহ অন্য সরকারি বেসরকারি সংস্থা সতর্কবাণী ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে উত্পাদনকারী ও কৃষকদের প্রতিনিয়ত সজাগ করে দিচ্ছেন। ফলে তা মহামারী আকার ধারণ করেনি সত্য তবে ব্যবহারবিধির যে ব্যতিক্রম ঘটছে না তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে নিষ্কৃতির উপায় খুঁজে পাওয়ার পর ফল-মূল পাকানো, রঙ্গীন করা, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের পর্যায়ে এসে আমরা ধরাশায়ী হয়ে পড়ি অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া দালাল ও মজুতদারদের কাছে। ফল-মূল পাকানোর জন্য বেআইনীভাবে সায়ানাইড, প্রভিট, ইডেন, ইথরেল নামক কেমিক্যাল এবং পচন রোধে তারা ফরমালিন ব্যবহার করছেন। পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে ফরমালিনযুক্ত ফল-মূলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে দেশবাসীকে ফরমালিনমুক্ত ফল-মূল খাওয়াতে সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সামপ্রতিককালে আলামতও আমরা দেশবাসী কিছু কিছু দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু বজ আঁঁটুনি ফসকা গেরোর ভিতর দিয়ে সেই ফরমালিন তথা বিষযুক্ত ফল-মূল যে বাজারে আসছে না তা হলফ করে কেউ দাবি করছেন না। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন, শুধু আইন করে নয় বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষার্থে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ কিংবা নিদেনপক্ষে বিকল্প পন্থা নিরূপণ করাই আশু কর্তব্য।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩
ডিএমপি পুলিশ যেভাবে ফরমালিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং মোটামুটি জয়লাভ করেছেন। এটা দিয়ে প্রমাণ হয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তাদের সামনে কোন অসামাজিক বা বেআইনী কাজ কেউ করতে পারবে না। আমি ধন্যবাদ জানাই ডিএমপি পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরকে এবং আবদার করছি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুক। পাশাপাশি সরকারের কাছে আবদার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন।
সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালী, ঢাকা
খাদ্যে বিষ বিষয়টি বিবেকবান দেশবাসীকে আতংকিত করে তুলেছে। ভয়ংকর বিষ থেকে মুক্তি পেতে অনেক পরিবার ফলও ক্রয় করছে না। খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত পরিবার। খাদ্য ব্যতীত মানুষ বা প্রাণী বাঁচতে পারে না। প্রতিবছরই প্রশাসনের কঠিন অবস্থান বা অভিযান করা সত্বেও দিন দিন খাদ্যে বিষক্রিয়া বেড়েই চলেছে। এতে করে মানুষের লিভার, কিডনীসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এই ফরমালিন মুক্ত ফল আমদানি করতে হবে। কড়াকড়ি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঘুষ আদান-প্রদান বন্ধের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষ নিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদের সামান্য জরিমানা বা ২/৩ মাসের জেল কিছুই হচ্ছে না তাদের। লাইসেন্স ছাড়া ফরমালিন বা রাসায়নিকযুক্ত ফল আমদানি হয় না। সুতরাং সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাই এই বিষ বন্ধ করতে পারেন। আমেরিকায় বসবাসকারী একজন প্রবাসী দেশি ফসল ফলাতে গিয়ে রাসায়নিক পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত দেয়াতে ফসল উত্পাদন অত্যন্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ থেকে জরিপ করার সময় দেখা যায়, যে ফসলে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক ব্যবহার করাতে তাতে এমনিই .... দেয়া হয়েছে যে তিনি যতদিন সে দেশে থাকবেন ততদিন তাকে কৃষি কাজ করতে পারবে না। আমাদের দেশেও সরকারের উচিত হবে এরকম কঠিন ও সচেতনভাবে কাজ করা।
আশা এলিজাবেথ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০
