না, আমাদের সমাজে কোথাও খাঁটি কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। সবখানে ভেজাল, নকল, আর জালিয়াতি। লাভের জন্য আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এখন খাদ্যে অকাতরে বিষ মেশাচ্ছেন। আমাদের দেশে ভেজাল বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাদ্যে ভেজাল, পানিতে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল, শাকসবজিতে ভেজাল, ফলমূলে ভেজাল, মদে ভেজাল, সম্পর্কে ভেজাল, দাম্পত্যে ভেজাল, বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীতে ভেজাল, আইনে ভেজাল, আইনের ব্যাখ্যায় ভেজাল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আদর্শতে ভেজাল, সংবিধানে ভেজাল, সংবিধানের ব্যাখ্যায় ভেজাল, ধর্মপালনকারীদের মধ্যে ভেজাল, ধর্মের ব্যাখ্যায় ভেজাল। প্রতিশ্রুতিতে ভেজাল, কথায় ভেজাল, দলে ভেজাল, জোটে ভেজাল, ভোটে ভেজাল, গণতন্ত্রে ভেজাল— সবখানে ভেজালের অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। ভেজালের সর্বগ্রাসী বিস্তারে মানুষগুলোও ভেজাল মানুষে পরিণত হয়েছে কি না এ বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে! তবে অন্যসব ভেজালকে ছাপিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ও খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে ধারাবাহিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কোন সামগ্রীতে কি ভেজাল দেয়া হচ্ছে, কি পরিমাণে এবং কীভাবে এ ভেজাল দেয়া হচ্ছে, এ ভেজালের প্রভাব কী—এসবের বিশদ বিবরণ থাকছে এসব প্রতিবেদনে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন থেকে আমরা অনেক কিছু জানছি, কিন্তু কিছুই শিখছি না! আমরা প্রতিদিন যেসব জিনিস খাচ্ছি বা ব্যবহার করছি তার কোনো কিছুই খাঁটি নয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পণ্যসামগ্রীতে ভেজাল হিসেবে যা মেশানো হচ্ছে তা বিষেরই নামান্তর। মাছে বিষ, ডালে বিষ, চালে বিষ, তেলে বিষ, ঘিতে বিষ, মসলায় বিষ, শাকসবজি, ফলমূলে বিষ, মাংসে বিষ, ডিমে বিষ, জেলি, সস, জুসে বিষ, মুরগিতে বিষ, পাউরুটি, বিস্কুট, দই-মিষ্টিতে বিষ, ফাস্টফুডে বিষ, চাইনিজে বিষ—সবকিছুতেই বিষ। বিষাক্ত সব উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। বিষাক্ত রং মাখিয়ে বিভিন্ন পণ্যকে আকর্ষণীয় ও পচনের হাত থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে ফলফলারি পাকানো হচ্ছে। শাকসবজি উত্পাদনেও ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত কীটনাশক। পচন থেকে রক্ষা এবং রং আকর্ষণীয় করতেও ফল এবং সবজিতে বিষাক্ত সব উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের খাদ্যে বিষ, বাতাসে বিষ, পানিতেও বিষ। তারপরও আমরা যে টিকে আছি বা বেঁচে আছি—এটা একটা আশ্চর্যের ব্যাপার! এত এত ফরমালিন-কার্বাইড, নাম না জানা আরও কত রাসায়নিক-কীটনাশক, সবকিছু হজম করে আমরা দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছি, পরনিন্দা-পরচর্চা চালিয়ে যাচ্ছি, রাজনীতি কপচাচ্ছি—এটা সত্যি বিস্ময়ের!
খাদ্যে ভেজাল আমাদের সমাজে অনেক আগে থেকে চালু ছিল। কিন্তু গত একযুগে তা সীমাহীন বেড়েছে। আমাদের সমাজ যত এগিয়েছে, ভেজালের পরিমাণ ও মাত্রাও ততো বেড়েছে। আগে সাধারণত দুধে পানি, আটায় ভুষি, ঘিতে তেল জাতীয় জিনিস মেশানো হতো, তাও সামান্য। কলার রং গাঢ় করতে এবং তাড়াতাড়ি পাকাতে একটু ধূপের ধোঁয়া দেয়া হতো। সোনার তৈরি জিনিসে হালকা একটু খাদ মেশানো হতো। কিন্তু এখন পণ্য-নির্বিশেষে ভেজাল দেয়া হয়। ভেজাল-শিল্পে এতটাই উন্নতি হয়েছে, এখন আর ঘিয়ে তেল মেশানো হয় না। এখন পশুর চর্বির সঙ্গে এসেন্স ও রং দিয়ে রীতিমতো ‘খাঁটি ঘি’ প্রস্তুত করা হয়। এ ঘি রং এবং গন্ধে আসল ঘি’র চেয়েও ‘খাঁটি’! কেবল স্বাদ এবং গুণাগুণ ভিন্ন— এই যা! আমাদের ত্বকে বিষ, পেটে বিষ, হাড়-চামড়া, শিরা-উপশিরায় বিষ! আমাদের সবকিছু বিষে জর্জর তারপরও আমরা নির্বিকার!
বর্তমানে বিভিন্ন খাদ্য ও পণ্যসামগ্রীতে যে বিষাক্ত উপাদানটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে তার নাম ফরমালিন। এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি রাসায়নিক উপাদান। ফরমালিন দিলে জিনিস পচে না। টাটকা থাকে। তাইতো আমাদের দেশে সবখানে ফরমালিন মেশানো হয়। মূল শাক-সব্জি, মাছ-মাংস, দুধসহ সব খাদ্যে রয়েছে ফরমালিনের অস্তিত্ব। কখনো বা কারবাইড, ডিডিডি। বিষাক্ত রং। এসব আসলে সাক্ষাত্ বিষ। আমরা পয়সা দিয়ে কিনে খাদ্য খাই না, আসলে বিষ খাই। বিষ খেয়ে খেয়ে আমাদের মন,মনন,মানসিকতা সব বিষাক্ত হয়ে গেছে। আমাদের নিঃশ্বাসে বিষ। কথায় বিষ। বাজারে বিষ। রাজনীতিতে বিষ। সমাজে বিষ। এই বিষের প্রয়োগও আমরা নিয়মিত দেখছি নেতানেত্রীদের কথায়, আচরণে!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টক্সিকোলজি কর্মসূচির গবেষণায় মানুষের শরীরে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টির জন্য সরাসরি দায়ী করা হয় ফরমালিনকে। এছাড়া ফরমালিনের প্রভাবে অন্ধত্ব, পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়। এ রাসায়নিক যৌগ ধীরে ধীরে মানবদেহের লিভার, কিডনি, হার্ট ও ব্রেন ধ্বংস করে। এর প্রভাবে মানুষের স্মৃতিশক্তিও কমে যায়। ফরমালিনের ব্যবহার হয় পরীক্ষাগারে এবং শিল্প-কারখানায়। কিন্তু পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে ফরমালিন এখন আমাদের সৃজনশীল ব্যবসায়ীদের কল্যাণে খাদ্যসামগ্রীকে তাজা বা টাটকা রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফর্মালিন সাধারণত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, নির্মাণকাজে ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে প্রতিদিন গড়ে ০.০৩ থেকে ০.১৫ পিপিএম মাত্রা পর্যন্ত ফরমালিন সহ্য করতে পারে। গত কয়েক মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে যে সব ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে, তাতে ৩.৫ পিপিএম-এর অধিক পরিমাণ ফরমালিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে, ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে শিশুরা পর্যন্ত কিডনি, লিভার, হার্ট, ক্যান্সার ইত্যাদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে রোগাক্রান্ত শিশু-কিশোরের যন্ত্রণাকাতর, বেদনার্ত চিত্?কার আর অসহায় অভিভাবকদের নীরব কান্নায় হূদয়ে বিদ্ধ হয় বেদনার তীর। ফরমালিনের বিষে জর্জর ৮-১০ বছরের এই শিশু-কিশোররা ১৪-১৫ বছর পর যখন স্পর্ধিত তারুণ্য আর অপরাজেয় যৌবনের অধিকারী হওয়ার কথা, তখন তারা হবে মেধাহীন, কর্মক্ষমতাহীন, যৌন ক্ষমতাহীন এক রুগ্ন প্রজন্ম। জাতি শুধু বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য ও প্রতিভাবান নেতৃত্বশূন্যই হবে না, জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধির বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ও দক্ষ জনবলও হারাবে। ফরমালিনের বিষে বিষাক্ত নানাবিধ ভয়ঙ্কর রোগাক্রান্ত শিশু, কিশোর-কিশোরীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়তি পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় চিকিত্?সা-ব্যয় আমাদের অর্থনীতির কত অংশ গিলছে আর ঘরে ঘরে স্বজনহারানোর কান্নার রোল আকাশ-বাতাস কতটা ভারি করছে, তা আমরা উপলব্ধিও করতে পারছি না। এই নির্বুদ্ধিতা এবং অসচেতনতা—ফরমালিনের কুপ্রভাব কি না কে জানে!
আমরা যদি কাউকে খুন করি, তাহলে আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির বিধান আছে। তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কেউ কাউকে খুন করলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সবাই ব্যাপক সরব হয়ে ওঠে। খুনীকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রাণপাত করে। কিন্তু যারা খাদ্যে ভেজাল দিয়ে, বিভিন্ন রকম বিষ মিশিয়ে হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষকে তিলে তিলে হত্যা করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সমাজ ক্ষমাহীন উদাসীন। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত হঠাত্ হঠাত্ ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। ব্যস, এই পর্যন্তই। এতে খাদ্যে ভেজাল দেয়া ও বিষ মেশানো কমে না। ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় এ অপকর্ম করেই যায়। অথচ খাদ্যে ফরমালিনের মত বিষ মেশানো বন্ধ করা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জরুরি কাজ হওয়া উচিত। যারা খাদ্যে বিষ মেশাচ্ছে তারা আসলে সামাজিক গণহত্যা করছে। এদের কঠোর হাতে দমন করার সময় এসেছে। এদের দমন করতে স্থায়ী বা ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।
সম্প্রতি মৌসুমী ফলসহ খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন রোধে ঢাকার আটটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজির আহম্মেদ গত কদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে ফরমালিন বন্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে কে দায়ী, শুধু তা জানতে চাইলেই হবে না। যে কোনো মূল্যে এর প্রতিকার করতে হবে। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ পরিচালনা করতে হবে। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকেও সঙ্গে নিতে হবে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। তবে ভেজালবিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের মন-মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে বর্তমানে যে কোনোভাবে লাভ করার এক অসুস্থ মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি জন্মলাভ করেছে আরেক ধরনের বিকৃতি। আমাদের সমাজে গুণের চেয়ে রূপের কদর যত বাড়ছে, বিভিন্ন খাদ্য-উপাদানে ভেজাল, রং এবং বিষ মেশানোর প্রবণতাও ততো বাড়ছে। নিজেকে আকর্ষণীয়, চকচকে, সুদর্শন করে উপস্থাপনের জন্য এ যুগের তরুণ-তরুণীদের কসরতের কোনো শেষ নেই। তরুণ-তরুণীরাই শুধু নয়,এ ব্যাপারে বুড়ো-বুড়িরাও কম যায় না। নানা রকম রং মেখে, প্লাস্টিক সার্জারী ও ডায়েট করে, বিচিত্র কায়দা ব্যবহার করে সবাই কেমন নিজেকে ‘আমাকে দেখো’র মডেলে পরিণত করতে চায়। তারই একটা প্রতিযোগিতা আমরা সমাজে প্রতিনিয়ত দেখছি। মুখে কোনো রকম দাগ থাকবে না, চুলগুলো হবে মডেল বা নায়িকাদের মতো। মেকআপ-গেটআপ দেখে কেউ বলতে পারবে না, কার বয়স কতো। সবাই যুবক-যুবতী। সবাই হ্যান্ডসাম। বিউটিফিকেশনের রোগে পুরো জাতিকে যেন পেয়ে বসেছে। যত পারো সাজো, রং মাখো, যত রাজ্যের ছাইপাশ মুখে ঘষো, হ্যান্ডসাম হও। এ ব্যাপারে আমাদের পথপ্রদর্শক হচ্ছে সিনেমা-নাটকের নায়ক-নায়িকা ও মডেলরা। আমরা সবাই হ্যান্ডসাম হতে চাই। সবাই ‘আমাকে দেখো’ নামক এক উদ্ভট আরোপিত নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রী হতে চাই। জ্ঞানে কিংবা গুণে যতই লবডঙ্কা হই না কেন, আমরা চাই বাহারী দর্শনধারী হতে। এটা করতে গিয়ে এক নতুন সংস্কৃতি আর মূল্যবোধ আমরা রচনা করেছি। সবখানে কেবল চেহারা আর চাকচিক্যের কদর। আমাদের সাজ-পোশাক আর বেশভুষায় আরোপিত রোশনাই করতে গিয়ে বস্তুর রূপ-রস-স্বাদ-গন্ধ উবে যেতে বসেছে। সবাই সবকিছু কেবল দেখনেওয়ালা, কিন্তু ভেতরের ফাঁপা, পচা-গলা, দগদগে ঘা রক্ত-পুঁজ-বমি আমরা দেখতে বা বুঝতে চাই না। আমরা সবকিছু তাজা চাই, টাটকা, চকচকে চাই, আকর্ষণীয় মোড়ক চাই, ঝলমলে রং চাই, হ্যান্ডসাম চাই। এজন্য বস্তুসামগ্রীকে বিষ বানাতেও এতটুকু কার্পণ্য করি না। এ আমাদের এক চরম আত্মঘাতী ও সর্বনাশা প্রবণতা!
এই প্রবণতার অবসান হওয়া উচিত। এ জন্য প্রয়োজন একটা বিরাট ঝাঁকুনি। সরকার, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ভোক্তা-বিক্রেতা সবাইকেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে, সবাইকে নিয়ে, সবাই মিলেই ফরমালিন, বিষ অথবা ভেজালবিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই কাজে নেতৃত্ব সরকারকেই দিতে হবে। আর তা না পারলে বিনামূল্যে সবাইকে ফরমালিন সরবরাহ করতে হবে। দেশবাসীর বিপর্যস্ত পরিপাকতন্ত্রের প্রতি সহানুভূতি কামনা করে বলতে হবে: আমাদের পক্ষে ফরমালিনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, সেই ইচ্ছে এবং সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমাদের উপদেশ: পরোক্ষভাবে না খেয়ে সরাসরি দুই বেলা দুই চামচ করে ফরমালিন সেবন করুন। টাটকা থাকুন! জ্যান্ত মমি হয়ে বাঁচুন।
লেখক: কলামিস্ট
