বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২০:৩৩
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশ এবং ভারত দুটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশ। একটি দেশের জাতীয় নির্বাচনে অন্য একটি দেশের প্রভাব সাধারণত পড়ার কথা না কিন্তু দুটি প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় দেশ জড়িত থাকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকালীন সময়ে ভারতের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা থাকার কারণে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বেশ কিছু স্বার্থ জড়িত এবং ভারতে বিজেপি’র বিজয়ে দিল্লীর সাথে ঢাকার সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে এটাই স্বাভাবিক। এখন প্রভাব কেমন? উপরন্তু ভারতের নির্বাচনের আগে বিজয়ী দল বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। বিজয়ী হওয়ার পূর্বে যদি এমন কোনো ঘোষণা থাকে তাহলে বিজয়ী হওয়ার পরে কোনো প্রভাব পড়বে না তা বলা খুবই দুষ্কর তবুও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতির উপর। ম. শহিদুল্লাহ ব্যবস্থাপনা (৪র্থ বর্ষ) সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, পিরোজপুর। মোদী সরকারের পররাষ্ট্রনীতিই বলে দেবে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে প্রতিটি দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে অন্যান্য দেশের সাথে সেই দেশের সম্পর্ক কেমন তার উপর। বাংলাদেশ এবং ভারত দুটি প্রতিবেশী দেশ। তাই আমাদের উন্নয়ন কিছুটা হলেও নির্ভর করবে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের উপর। অতীতে সবসময় ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় ছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে যে কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তিত হবে এটাই স্বাভাবিক। আর পররাষ্ট্রনীতিই বলে দেবে অন্যান্য দেশের সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন হবে। তবে মোদী সরকার দেশের জাতীয় স্বার্থে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভাল কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখবে বলে মনে হয়। তাই আশা করা যায়, অতীতের মত মোদী সরকারের সাথে বাংলাদেশের ভাল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। শাকিল লেভেল-২, সেমিস্টার-১, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ বিজেপি’র জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক কেমন হবে, সম্পর্ক কি আগের মত থাকবে না, কি কোনো রকম পরিবর্তন হবে তা কংগ্রেসের সাথে অতীতের যে সম্পর্ক ছিল তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কানাঘুষা চলছে। বিশিষ্ট জনেরা মনে করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অবদানের মত ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে অটুট চিরঅম্লান। অনেকে মত দিয়েছেন, ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, মেঘঢাকা আকাশে আলোর মুখ দেখা যাবে। আবার অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না আমাদের এই স্বাধীন দেশে। আমার মতে, বিজেপি’র সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক দূরে সরে যাবে অতীতের চেয়ে আরো বেশি ব্যর্থতা নিয়ে। বিজেপি’র সরকার অতীতের সরকারের মত আচরণ করবে। সতর্ক থাকতে হবে নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে। আপোষহীন হয়ে চলতে হবে নিজেদের যে কোনো চুক্তির আলোচনার প্রেক্ষিতে। সর্বোপরি আমরা চাইব, ব্যবসায়িক উন্নয়ন, সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল ইত্যাদি। সুতরাং বিজেপি’র জয় আমাদের দেশের সাথে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না যদি না আমরা আমাদের অধিকারগুলো সতর্ক ও আপোষহীন হয়ে আদায় করতে পারি। মিজানুর রহমান সোহেল ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যেরকম ছিল সেরকমই থাকবে যে-কোন দেশ চলে শত বছর বা হাজার বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে। তাই ভারতের সরকার পরিবর্তনে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তন হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। যে কোন দেশের সরকার পরিবর্তন হতে পারে তাই বলে কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন কখনো হয় না। তাই ভারতের মোদী সরকারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আর এজন্যই মোদী নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস মোদী সরকারকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে কূটনৈতিক বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গেছে। ভারতের মসনদে যেই আরোহণ করুক তিনি চাইবেন নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে। এর অংশ হিসাবে বাংলাদেশের সাথে ভারতের অমিমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে। মোদী সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন এ কথা চিন্তা করা বোকামি করা ছাড়া কিছু নয়। মোট কথা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আগে যেরকম ছিল ঠিক সেরকমই থাকবে। নাফসুন রহমান প্রাণ রসায়ন বিভাগ, মাস্টার্স চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজেপির জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ব্যাপারে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। একজন ছাত্রী হিসেবে আমি মনে করি, নরেন্দ্র মোদীর বিজয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে। দেশের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটে এমন বৈদেশিক সম্পর্ক অবশ্যই নিন্দনীয়। তাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও জনগণের স্বার্থের প্রতি নীতিনির্ধারকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জাহিদুল ইসলাম তারেক বি এ (অনার্স) প্রথম বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন