মোদীর ১০০ দিনের চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২২ জুন ২০১৪, ২১:৩৩
টানা দুই মেয়াদে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছে ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার। স্বাধীনতার পর ভারতে কংগ্রেসের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি কখনোই হয়নি। বলা চলে, দুই মেয়াদের শাসনে জনগণ কংগ্রেসের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তারা এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিল। যে কারণে গত লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি বিপুল জয় পেয়েছে। বলা হচ্ছে, এ জয়ের অন্যতম কারণ বিজেপি’র প্রতি জনসমর্থন নয় বরং কংগ্রেসের ব্যর্থতা। তাই কয়েক দশক পর লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া বিজেপি’র প্রতি জনগণের প্রত্যাশা যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়টি সহজেই বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে তিনি প্রথম দিন থেকেই কাজের প্রতি একটু বেশি মনোযোগী। ভারতের এ সরকারের কাছ থেকে নতুন ভোটারদের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। তাদের আশা নতুন সরকার কোটি কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ অবস্থায় কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সরকারকে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে হবে এবং শিল্পোন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, বিদ্যুতের সরবরাহ সচল রাখতে হবে, শিল্প ও অবকাঠামোর জন্য জমির সংস্থান করতে হবে, কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে একই সঙ্গে দুর্নীতি রোধে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ কার্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। মোদীর সরকার আগামী পাঁচ বছর ধরে এসব কাজ করবে তা ভারতীয়রা মানতে পারবে না। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কী করতে পারে তারা এই ১০০ দিনে? সবচেয়ে বড় কাজটি হতে পারে সরকার জনগণকে দেখাতে পারে তারা এসব বিষয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটা করতে না পারলে সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বদলে বিরোধিতার সৃষ্টি হতে পারে। এই ১০০ দিনেই সরকারকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ছিল অন্যতম। কিন্তু দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো কঠিন হবে। এ অবস্থায় বর্তমান সরকার কী করতে পারে? ঐ নিবন্ধে বলা হয়, প্রথমত সরকারকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। কার্যকর কর ব্যবস্থার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কর ফাঁকির সুযোগ বন্ধ করতে হবে। এজন্য রাজ্য সরকারগুলোকে পাশে পেতেও তাদের চেষ্টা চালাতে হবে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ায় তাদের এ কাজ অনেক সহজ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডিজেল ও এলপিজিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে হবে। এই ভর্তুকি কমানো গেলে সরকারের ব্যয় অনেক কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়লে এর যথাযথ ব্যবহারে জনগণ আগ্রহী হবে। এতে করে তেল আমদানিতে সরকারের খরচও কমবে। তেলের দাম একবারে না বাড়িয়ে ভর্তুকি নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো যেতে পেরে। এছাড়া এক পরিবারকে ১২ সিলিন্ডারের বদলে ৬ এলপিজি সিলিন্ডারে ভর্তুকি নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, কয়লা খনিগুলো ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করতে হবে। প্রায় ১৫০ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানিতে সরকারের ব্যয় অনেক হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লা আমদানিতে বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচও বেড়ে যায়। অনেক রাজ্যের রেগুলেটারি কমিশন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে আগ্রহী নয়। যে কারণে বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানিগুলো উত্পাদন কমিয়ে দেয় এবং লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতের সঞ্চালন ঠিক রাখতে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের উপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। চতুর্থত, অবশ্যই বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে হবে। যদিও গত অর্থবছরে অন্য বছরের তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি কম ছিল। শিল্পের উত্পাদন ধরে রাখতে বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হবে। পঞ্চমত, ভূমি অধিগ্রহণ আইন যুগোপযোগী করতে হবে। একইসঙ্গে নীতিগত স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। বিনিয়োগকারীর আস্থা অটুট রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতি ও শিল্পের উত্পাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।