মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৯ বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। রবিবার দেশটির উত্তর সিনাইয়ের শেখ জুবেইদ শহরে এই অভিযান চালানো হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, দেশটির নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি’র সঙ্গে বৈঠক করতে অনির্ধারিত সফরে কায়রো পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
মিসরের সিনাই উপদ্বীপের শেখ জুবেইদের দক্ষিণে একটি গাড়ির আরোহী ৪ বন্দুকধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় নিহত হন। এছাড়া শহরের আলাদা আলাদা জায়গায় আরো ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। মিসরীয় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সেনা ও পুলিশের সম্মিলিত বাহিনী জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।
গত বছর মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সিনাই উপদ্বীপে জঙ্গি তত্পরতা বেড়ে যায়। এরপর চলতি বছর মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে রাজধানী কায়রোসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালানো শুরু করে জঙ্গিরা।
এসব হামলার মধ্যে অধিকাংশ হামলার দায়িত্ব সিনাই ভিত্তিক আনসার বায়াত আল মাকদিস গোষ্ঠি স্বীকার করেছে। আল কায়েদায় অনুপ্রাণিত মাকদিসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার নিরাপত্তা বাহিনী শেখ জুবেইদে একই ধরনের আরেকটি অভিযান চালিয়ে ৮ জঙ্গিকে হত্যা, তাদের ৩১টি আশ্রয়, ১০টি গাড়ি ও ২০টি মোটর সাইকেল ধ্বংস করে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বৈঠকে সেনা প্রধান থেকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে আসা সিসি’কে আরো ব্যাপক-ভিত্তিক রাজনীতি করা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর দমনাভিযানের বিষয়ে সতর্ক করতে পারেন।
দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেয়া গণমৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তিনি। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমা এই মিত্রদেশের পরামর্শ জেনারেল সিসি কতটুকু গ্রাহ্য করবেন তা স্পষ্ট নয়। কারণ গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে নভেম্বরেও মিসর সফর করেছিলেন জন কেরি। সেই সময় কেরির দেয়া পরামর্শগুলো সিসি উপেক্ষা করেছেন।
