বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৪, ২১:০১
বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের উপরই নির্ভর করছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কংগ্রেসের ব্যাপক দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে এবং অনেকাংশে হিন্দু জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও নরেন্দ্র মোদি বাস্তবতার নিরিখে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবেন বলেই আমার মনে হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের শাসন ক্ষমতায় বিজেপি নয় বরং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানই পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে প্রধান বিবেচ্য বিষয় বলে আমি মনে করি। আসা করছি দু’দেশের মাঝে বিবদমান বিষয়গুলো সমাধানে আমাদের কূটনীতিকরা এমন সুদূর প্রসারী কৌশল অবলম্বন করবেন যা, বিজেপি বা কংগ্রেসের সাথে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয় বরং বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে। জেরিন বিনতে নিজাম, বায়োটেকনোলজী এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, (চতুর্থ বর্ষ), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পূর্বের মতোই থাকবে ভারত শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় তাদের পররাষ্ট্রনীতি কখনো পরিবর্তন হয় না। সুতরাং সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বাংলাদেশের খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার অথবা খুব বেশি হতাশ কোনটাই হওয়ার কারণ নেই। ভারতের সাথে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সম-মর্যাদার ভিত্তিতে কখনোই ঢাকা-দিল্লি সুসম্পর্ক হয়নি এবং একচেটিয়া বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যাও বন্ধ হয়নি কখনো। দেখা গেছে ভারতের কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভালো করার চেয়ে নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ভালো করেছে-তো বিজেপি এসে আবার নিজেদের স্বার্থেই হয়ত বাংলাদেশের বিএনপির সাথে সম্পর্ক ভালো করবে। ফলে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ঢাকার সাথে দিল্লির এধরনের সম্পর্কের কোন পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। সাজেদুর রহমান সাজু, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে প্রথম কথা হল বিজেপির জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো হবে। কেননা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে এবং বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সাথে ভারতের কংগ্রেসের ছিল দলীয় সম্পর্ক। কিন্তু ভারতে বর্তমানে ক্ষমতার পালাবদল তথা বিজেপি ক্ষমতায় আসায় সে সম্পর্কটা আর কোন দলের সাথে না হয়ে বরং দেশের সাথে তথা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক হবে বলেই আমরা মনে করি। আর প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উভয় দেশেরই পরস্পরের প্রতি পরস্পরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ নানান স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকায় পরস্পরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিকল্প নেই। একে অপরকে পরিত্যাগ করে কারো জন্যই খুব বেশি সুবিধা হবে না। তাই আমরা মনে করি সেই রুঢ় বাস্তবতা উপলব্দি করে অচীরেই সম-মর্যাদার ভিত্তিতে তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল, স্থল-সীমান্তসহ নানাবিধ সমস্যার যথাযথ ও ইতিবাচক সমাধান হবে এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। জুয়েল হোসেন তনু, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নির্ভর করবে দুই দেশের সরকারের আন্তরিকতার উপর বিজেপির জয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হবে। নিকট প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ভারত কতটা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে তার উপর নির্ভর করছে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক। তবে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অমীমাংসিত চুক্তির বিষয়গুলো এবার নিষ্পতির প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। ভারতের সাথে আমাদের অনেক বিষয় বা ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। কিছু ইস্যু আছে, যা ৬৫ বছরেও ভারত সমাধান করেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশ হওয়ার পর ৪৪ বছরেও সীমান্ত ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন সমস্যার সমাধান হয়নি। ভারতের দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার পালাবদলের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করছে, অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুব দ্রুততম সময়ে হবে। মো. শাহিদুল ইসলাম, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের স্বার্থেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে ভারত এবং বাংলাদেশ, একটি আরেকটির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পেছনে কিছু অন্তর্নিহিত কারণ থাকে। তার মধ্যে নিজের দেশের উন্নয়ন অন্যতম। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ঠিক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যতটা স্বার্থ আছে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি স্বার্থ আছে ভারতের। দুটো দেশই প্রতিবেশী দেশ। ভারতে দীর্ঘসময় কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকায়, অতীতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সাথে বাংলাদেশের দলীয় সম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্রের ভিত মজবুতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের চাইতে ব্যক্তি ও দলীয় সম্পর্ক অগ্রাধিকার পাওয়ায়, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুপ্রতীম প্রকৃত সম্পর্ক উন্নয়ন হয়নি। বিজেপির জয়ে বাংলাদেশ আবার যদি দলীয় সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে দলীয় সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। কিন্তু গণতন্ত্র মুখ-থুবড়ে পড়বে। তাই আশা করা যাচ্ছে, দলীয় স্বার্থ বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের স্বার্থেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। রাহিমুল ইসলাম, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন