দৈনন্দিন জীবনযাপনের অনেক ক্ষেত্রের মতো এখন চিকিত্সা খাতেও মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে এটি হতে পারে কার্যকর একটি মাধ্যম। স্বাস্থ্য খাতে মোবাইল ফোনের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন বারডেম হাসপাতালের ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. জাহিদুল হাসান
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন হয়ে উঠছে আরও সহজ। প্রযুক্তির ছোঁয়া বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যেরও পরিবর্তন এনেছে। মোবাইল আর ইন্টারনেটের যুগে সব ক্ষেত্রে বহুলভাবে ব্যবহূত হচ্ছে এসব প্রযুক্তি। পিছেয়ে নেই বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশও। তারই প্রমাণ মোবাইল হেলথ সিস্টেম।
সঠিক তথ্যের অভাবে আমাদের দেশে বহু রোগী প্রতিদিন সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এসব রোগীদের সঠিক তথ্য প্রদান করে উন্নত চিকিত্সা সেবা পৌঁছে দিতে পারে। একদিকে আমাদের দেশে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সা সেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে গ্রাম ও উপজেলায় বসবাসরত নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠি উন্নত চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দেশের শহর গ্রামে বসবাসরত সকল রোগীর কাছে উন্নত চিকিত্সা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেশের বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল হেলথ সিস্টেমের (এম-হেলথ সিস্টেম) মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রান্তে আধুনিক চিকিত্সা ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশ্বের অনেক উন্নয়শীল দেশেই মোবাইল ফোনকে কাজে লাগিয়ে এম-হেলথ সিস্টেমের মাধ্যমে উন্নত চিকিত্সা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। তাই এই মোবাইল ফোন দিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহর কিংবা গ্রামের সকল পেশাজীবীর মধ্যে উন্নত চিকিত্সা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। আধুনিক এই সিস্টেম ব্যবহার করে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অল্প সময়ে ও অল্প খরচে ডিজিটালাইজড করতে পারে।
যেভাবে সম্ভব
একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (অ্যাপস) যা মোবাইল ফোনে ইন্সটল করেই এই সেবা চালু করা যায়। দেশের বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তারাই এই সিস্টেম চালু করতে পারবে। এই সিস্টেম দ্বারা একজন রোগী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অল্প খরচে এবং সহজে ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও ঔষধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারে। ফলে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে এবং ডাক্তাররা রোগীদের চিকিত্সা সেবা সহজে পৌঁছাতে পারবেন।
যা যা প্রয়োজন
মোবাইল ফোন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডাটা সংরক্ষণের জন্য সার্ভার।
এম-হেলথ সিস্টেম থেকে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
সহজেই বিষেশজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পরামর্শ পাওয়া যাবে
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে
দেশের অনুন্নত জায়গাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে
রোগের ধরণ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে
কোন হাসপাতালে কী ধরনের চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হয়, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য এর মাধ্যমে পাবেন সব ধরনের মানুষ
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জরুরি চিকিত্সা যেমন—সাপে কাটা, পানিতে পড়া, আগুনে পোড়া ইত্যাদি সম্পর্কে চিকিত্সা পাওয়া যাবে
কোন ল্যাবে কী কী ধরনের টেস্ট হয় তার সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে
অনুন্নত জায়গায় কোনো রোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা জানানো যাবে
খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে।
আর এর মাধ্যমেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া যাবে উন্নত চিকিত্সা সেবা। সঠিক চিকিত্সার অভাব তাহলে সারাদেশ থেকেই দূর করা যাবে।
