বৈঠকে লাফ দিস পদ্মার ইলিশ

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:০৭
অনুমানের সঙ্গে বিশ্বাসের দূরত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ভারতের সর্বশেষ ভোটের আগে, কোথাও হাল্কা, কোথাও ঘন, কোথাও ভারি মোদীঝড় দেখে আমাদের মনে হয়েছে, ‘আত্মপ্রত্যয়ী’, ‘দায়িত্বশীল’ নতুন সরকার আসছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই তারা দিল্লি দখল করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত অথবা সংশয়াচ্ছন্ন বিদেশনীতিতে সহজে হাত দেবে না। বরং পুরোনো প্রচলিত ভিতকে আরো সংহত, আরো স্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন করতে চাইবে। ভোটের পর আহমেদাবাদ, বরোদা আর দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দীপ্ত ভাষণ শুনে এই বিশ্বাসও দৃঢ়তর হয়ে ওঠে যে, তাঁর সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ স্বার্থেই পারস্পরিক সম্পর্ককে অধিকতর মসৃণ করার চেষ্টা করবে। অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ। গতিশীল, স্পষ্টভাষী অথচ সুহাসিনী সুষমা স্বরাজের প্রথম, একক ও দুদিনের বিদেশ সফরের তালিকায় ঢাকার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করছে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিসম্বাদের, মতান্তরের সব মলিনতা সরিয়ে দিয়ে বন্ু্লত্বের দীর্ঘ হাত বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি এবং দুদেশের ভেতরের, বাইরের দুষ্টকে দমন করতে আলিঙ্গনের নিবিড় ঐক্যকে আরো উঁচু করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী। তাই শুরুতেই একটি আর্জি পেশ করছি-পদ্মার ইলিশ, মেঘনার ইলিশ, আড়িয়াল খাঁর অভিজাত এ জলসম্পদ যেন বাংলাদেশের অতিথি আপ্যায়নের এবং সম্পর্কের নববিন্যাসের মহিমাময় ভরসা হয়ে ওঠে। ২২ জুন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সুষমা তাঁর সফরে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মন্ত্রকের মুখপাত্র, অভিজ্ঞ আমলা, সচিব এবং অন্যান্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ কয়েকগুচ্ছ অধিকারিককে। প্রতিনিধি দলে ভোজন রসিক বঙ্গসন্তানরা আছেন কি না জানি না, থাকলে আপ্লুতবোধ করব। কেন না ঢাকার প্রতি টান তাঁদের নাড়ির এবং ইলিশপ্রীতি সর্বজনবিদিত, কেন না বাংলাদেশের মেহমানদারিতে পদ্মার ইলিশের অবস্থান অপরিহার্য, কূটনৈতিক সম্পর্কের নির্মাণ ও প্রসারেও নাকি ছড়িয়ে পড়ে ইলিশের রূপালি দ্যুতি। আশা করছি-আসন্ন, সৌহার্দ্যময় বৈঠকে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ইলিশেরা যেন সহজাত অভ্যাসে লাফিয়ে ওঠে এবং তাদের আত্মা যেন বলার সুযোগ পায়-চোরা পথে নয়, সহজ রাস্তায় দুই দেশের আমদানি-রফতানির নিয়ম মেনে এপার বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা এবং সর্বভারতীয় বাজারের শোভা বর্ধনের শরিক হতে চায় তারা। কেননা বাজার ডাকছে, ডাকছে এপার বাংলার ইলিশমোদী কোটি কোটি জনতা। ইলিশের আকাঙ্ক্ষার ভাষা ও প্রত্যাশা আমরা টের পাই প্রতিবছর বর্ষার শেষে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আরো বেশি। ধরা যাক, সোজা পথে কয়েক ট্রাক বাংলাদেশি ইলিশ এসে বনগাঁয় পৌঁছলো। পরদিনই খবরের কাগজের সাদা পাতায় নেচে ওঠে রূপালি শস্যের ছবি। সংবাদপত্রে, বৈদ্যুতিক মাধ্যমে এ খবর মাস্ট। মিস করা চলবে না। কারণ স্পষ্ট নয়। গত কয়েক বছর ধরে এপার বাংলায় ওপারের ইলিশের বড় আকাল। নেপথ্যে কার ইঙ্গিত? অভিমানের না ক্ষোভের? তিস্তার জল মেলেনি বলেই অবরুদ্ধ হয়ে গেল ইলিশ উপহারের সৌজন্য? জল নিয়ে সামান্য যা মতভেদ তা তো রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের। হ্যাঁ সমাজও জড়িত কেন না তারা ভুক্তভোগী। হেমন্তে তিস্তা পারে, পদ্মার কিনারে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে, জলহীন দুই নদী হাড়গিলে রমণীদের মতো খিদে নিয়ে, তৃষ্ণা নিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে। ভাঙ্গন আর হাহাকারও দুই তীরের জনপদের নিত্যসঙ্গী। নদী বাঁধের নিন্দা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তাঁর মুক্তধারা নাটকে, কাঠোর ভাষায়। পরিবেশ কর্মীরাও প্রকৃতির ওপর মানব প্রজাতির হস্তক্ষেপ দেখে শঙ্কিত। বিশ্বের কোথাও নদী-নিয়ন্ত্রণ সুসংবাদ নিয়ে আসে না। বাঁধের জল ছাড়লেই এক এলাকায় প্লাবন আর আটকালেই নিম্ন অববাহিকায় খরা ও আর্তনাদ। অতএব জল নিয়ন্ত্রণের বিকল্প রাস্তা খুঁজতেই হবে। স্বাভাবিক পথে স্বাভাবিকভাবেই ছুটতে দিতে হবে নদীকে। যদি কখনো এরকম অবস্থা গড়ে ওঠে, প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে মানব প্রজাতি অনেকটাই বেঁচে যাবে। এক দেশকে আরেক দেশের হয়রানি করার ভুল রাস্তাও মুখ থুবড়ে পড়বে। ভোটের প্রচারে মোদী বলেছিলেন, নদীর সঙ্গে নদীকে মিশিয়ে দেব। এ-যেন শুধু প্রতিশ্রুতি না হয়, যেন তার কর্মে ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে আবেগপ্রবণ মুহূর্তের ভাষণ। বাংলাদেশকে দিল্লি কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে রাজনীতি অথবা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্বকোষ ঘেঁটে দেখার প্রয়োজন নেই। যদি কান দিয়ে দেখার আর চোখ দিয়ে শোনার গুজবি অভ্যাস এড়িয়ে চলি, তা হলে দুর্বোধ্য সব কারণ ফর্সা মেয়ের মুখচ্ছবির মতো মেঘলা রাতের অন্ধকারেও ভেসে উঠবে। এই দৃঢ়তর বিশ্বাসের হেতু দুই দেশের বহুমুখী, অভিন্ন সংস্কৃতি ও পারস্পরিক স্বার্থের রং ধরানো সেতু। উদাহরণ এক. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের সঙ্গে তার দীর্ঘতম সীমান্ত। দুই. উভয়দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা। তিন. ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু বিষয়—যেমন ছিটমহল, জলবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান এবং আমলাতান্ত্রিক দাদাগিরির অভিযোগ। এসব বিষয় শুধু সম্পর্কে ভাঙন তৈরি করে না, অসুস্থ অশুভ রাজনীতিকেও উস্কে দেয়। সমাজকেও খামোকা উত্তেজিত, বিদ্বেষদুষ্ট করে তোলে। এসব সমস্যার সঙ্গে দিল্লি অথবা ঢাকার রাজনীতি যতটা যুক্ত, তার চেয়ে ঢের বেশি জড়িয়ে আছে ভুল বোঝাবুঝি এবং দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষুদ্রতা। আমাদের মনে হয়, শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদী দুজনেই সম্পর্কের নতুন বিন্যাসে বিশেষ আগ্রহী। দু’দেশের সমাজও পরস্পরের নিকটস্থ আত্মীয় হয়ে বেঁচে থাকতে চায়, চায় সার্বিক বৃদ্ধি। সমাজের অঘোষিত ভাষা রাষ্ট্রসেবকরা বুঝতে পেয়েই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসছেন। এটা অবশ্যই সুলক্ষণ। নিঃসন্দেহে, ভারত-বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গলবোধের নির্মীয়মাণ পরিসর প্রশস্ত, নিষ্কণ্টক হয়ে উঠবে। ভারত এই ভূখণ্ডের আরেক বৃহত্তম, উন্নত দেশ। দক্ষিণ-পূর্বে এশিয়ায় তার স্বার্থের তালিকা সবচেয়ে উঁচু ও দীর্ঘতর হওয়া স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্য রক্ষার তাগিদে, আগ বাড়িয়েই সে তার প্রশস্ত হূদয়টি খুলে দেখাবে— এটাই প্রত্যাশিত। এ প্রত্যাশার বাগিচায় ফুল না হুল ফোটাতে চান— একথা নির্ভুল বলতে পারবেন আমার দেশের, আমার মাতৃভূমির প্রিয় জনপ্রতিনিধিরা। আমাদের সৌভাগ্য, রাষ্ট্রবিধাতার ইচ্ছায় এক দেশ তিন টুকরো হলেও বদলায়নি আসমান, বদলায়নি জমিন। বদলায়নি গ্রামীণ গৃহবিন্যাস, পোশাক-আশাক ও খাদ্যাভাস। পাখি, জলের মাছ আর অরণ্য প্রাণীর বিচরণে কখনো ভিসা-পাসপোর্টের দরকার হয় না। তারা একদেশ থেকে আরেক দেশে তোয়াক্কাহীন ঘুরে বেড়ায়, সৌরভ ছড়ায়। আবার যখনই মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখনই তাদের নিয়ে কূটকৌশল রচিত সংকট আমাদের ঘিরে ধরে। ইলিশ প্রসঙ্গ আগেই উল্লেখ করেছি। আবার করতে হচ্ছে, কেন না, এটাই এই লেখার প্রধান উদ্দেশ্য। ইলিশ বাঙালির নজরে মাছের রাজারাণী। দুই বঙ্গেরই জাতীয় মাছ। পুরোনো ঢাকার বাসিন্দা, কবি বুদ্ধদেব বসু দেশচ্যুত হয়েও পদ্মার ইলিশের গন্ধে মেতে থাকতেন। তার একটি অসাধারণ কবিতায় তারা ‘জলের উজ্জ্বল শস্য’। মহিমাময় মত্স্য বটে। এত ঝকঝকে, এত অভিজাত, জলজ সম্পদ আর কী আছে, জানা নেই। স্পর্শকাতর আর শিশুদের উচ্ছ্বাসের মতো নির্মল তাদের স্বভাব। সমুদ্রে অথবা মোহনায় জালে আটকে পড়ে যখন লাফিয়ে ওঠে, তখন মাঝরাতের, মাঝসমুদ্রের আঁধারেও চকচক করে ওঠে রাজারাণীর ঔজ্জ্বল্য। ইলিশ সংক্রান্ত বিদ্যা আমাদের খুব সীমিত, একথা অকপট স্বীকার করছি। সম্প্রতি একে এম নওশাদ আলম, বিমল মোহান্তি, এস ইমানুল হক, শকুন্তলা তিলশোডের মত্স্যময় গবেষণাকর্ম ঘাটতে গিয়ে চোখ তো ছানাবড়া। পশ্চিম থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া জুড়ে কী বিস্তৃত তাদের বিচরণভূমি। একটানা ১২-১৩ হাজার কিলোমিটার ছুটতে পারে। সাঁতার কাটে টাইগ্রিসের মোহনায় আর জলবিহারে ছুটে বেড়ায় ইউফ্রেটিসে। সমুদ্র সঙ্গম সেরে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, গঙ্গার উজান বেয়ে যখন ডিম পেড়ে ফিরে আসে, শুরু হয়ে যায় যাযাবর দিনযাপন। সানন্দে ছুটতে থাকে মেঘনা, পদ্মা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর, আড়িয়ালখাঁ এবং এপার বাংলার হলদি, ইচ্ছামতী, গঙ্গা ও হুগলিতে। তবে বাংলাদেশের টেকনাফ, কক্সবাজার, বাঁশখালি, হাতিয়া, পাথরঘাটা উপকূলের নিকটস্থ জলে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের দীঘা সমুদ্রে সারা বছর জলকেলিতে মত্ত থাকে। কিন্তু মানুষের বাসনা অপূর্ণ রসনা তাদের রেহাই দেয় না। তাড়িয়ে বেড়ায়। আর আটকা পড়লেই কূটনৈতিকতা, বাণিজ্য আর ভোজন হুজগের রসদ যোগায়। প্রসঙ্গত, একজন সুপুরুষ, স্মার্ট, দক্ষ বাংলাদেশি কূটনীতিককে মনে পড়ছে। নাম মেহবুব আলম। ৮০-র দশকে ৫ বছর কলকাতায় উপদূতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তিনবিঘা করিডোর নিয়ে তখন টানাপোড়েন চলছে। বাম শিবিরেও মতানৈক্য। কেন্দ্র সমস্যার সমাধান চায়। জ্যোতিবসুরও সায় আছে। বেঁকে বসলেন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের বাল্যবন্ধু কমল গুহ, ফরওয়ার্ডের ডাকসাইটে নেতা এবং মন্ত্রী। তার গো— তিন বিঘার হস্তান্তর চলবে না। এ ইস্যুতেই প্রথমে আন্দোলন, তারপর তার পদত্যাগ। রাজ্য সরকার উদ্বিগ্ন, বামফ্রন্টে ফাটল ধরছে। ঠিক এমন সময় ইলিশ উপহারের কূটনীতি শুরু করলেন উপদূত মেহবুব আলম। হাসি ফুটল জ্যোতি বসুর মুখে। তিন বিঘাও হস্তান্তর হয়ে গেল। চকচকে ইলিশ হাতে নিয়ে এপার বাংলার হূদয়টিও জয় করে নিলেন বাংলাদেশের বুদ্ধিদীপ্ত আমলা। এমন সজ্জন, ভদ্রলোক যখন বদলি হয়ে গেলেন অন্যত্র, তখন আজকাল পত্রিকা ‘বিদায় অতিথি’ শিরোনামে সম্পাদকীয় লিখে তাকে সম্মান জানায়। মেহবুব আলম পেরেছিলেন, দু’দেশের এখনকার সত্, দক্ষ আমলারাও ইলিশ নিয়ে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইলে অবশ্যই পারবেন। এ বিশ্বাস আমাদের আছে। আরেকজন ভদ্রলোক। তাকে বন্ধু ভাবতে ভালো লাগে। পশ্চিমবঙ্গের মত্স্য দপ্তরের মন্ত্রী। দেহে রাজপুতের রক্ত, কণ্ঠে বঙ্গভাষা। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র। লম্বা বিনয়ী তেজিয়াল পুরুষ। মমতা ব্যানার্জীর একনিষ্ঠ কর্মী। নাম তার চন্দ্রনাথ সিংহ। বাংলায় মাছে আকাল ঘোচাতে খুবই সচেষ্ট। সম্প্রতি দুবার, দুটি সাক্ষাত্কারে আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসছে না। মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। আমরা অন্ধ ইলিশভক্ত। চাই বাংলাদেশের মাছের রাজরাণীর অবাধ আমদানি আবার শুরু হোক। মন্ত্রীর সুবোধ ইচ্ছাকে সাধুবাদ। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নববর্ষে ঢাকায় গিয়ে মনে হয়েছে, কোথায় যেন অভিমান পথ রুখে দাঁড়াচ্ছে। আর এই সুযোগ চোরাপথে আসা খোকা ইলিশ, ভিন্ন মুল্লুকের স্বাদহীন ইলিশ পদ্মায় ইলিশের নাম দিয়ে অশুদ্ধ ব্যবসায়ীরা অগ্নিমূল্যে বিক্রি করছেন। বাংলাদেশে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে ধাক্কা খেয়ে যে ইলিশের মুখ থেঁতলে যায়, কলকাতায় তার দেখা কোথায়? ইলিশের জাত বিচার সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ঢাকার বাজারে যে ইলিশের দাম বড়োজোর ৩০০-৪০০, এখানে তারা আসে না বললেই চলে, এলেও কাঁটাতারের বেড়ায় ঘুষ দিয়ে নিয়ে আসতে হয়। তাও যত্সামান্য। আর দাম ভারতীয় মুদ্রায় হাজার থেকে পনেরোশ! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিবছর ৫০ লক্ষ টন ইলিশ ধরা পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের উত্পাদন ১৫-২০ শতাংশ। ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের। বাকিটা মায়ানমার ও উড়িশার। বাংলাদেশে ৫ লক্ষ মত্সজীবী সরাসরি সমুদ্রে নদীতে ইলিশ ধরার সঙ্গে যুক্ত। আরো ২৫ লক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন। যে মাছের ব্যবসা এত বিস্তৃত, যে মাছ না পেলে পশ্চিমবঙ্গের গণজন ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, বাজারে গিয়ে মাথা চাপড়াতে চাপড়াতে ফিরে এসে দীর্ঘশ্বাস ছুঁড়তে থাকেন, তাদের স্বাদ ও সাধ্য পূরণে বাধা কোথায়? মাঝ রাতের পদ্মার ইলিশের মতো লাফিয়ে উঠুক বিষয়টি— দু’দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে। মসৃণ আর শুদ্ধ হোক আমদানির স্বাদু রাস্তা। লেখক:ভারতীয় সাংবাদিক, সম্পাদক আরম্ভ পত্রিকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন