সম্পর্কে উন্নতি
হবে আশা
করছি
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান করবে। আর বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তিস্তা ও পানি বণ্টন চুক্তির উপর গুরুত্ব দিবে এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের।
আমরা জানি যে কোন রাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক ভালো না রেখে কোন দেশ বা জাতি উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করতে পারে না। আর বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের তা কখনো ভাঙ্গার নয়। তাই আমরা আশা করতে পারি যে ভারতের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে।
ইমান হোসেন
মাষ্টার্স, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ভারত নিজেদের
স্বার্থে সুসম্পর্ক
বজায় রাখবে
নিজেদের স্বার্থে ভারত সু সম্পর্ক বজায় রাখবে । বিজেপি নির্বাচনের সময় যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছিল, তাতে আমাদের ধারণা হতেই পারে যে, ক্ষমতায় এসে বিজেপি বাংলাদেশের ব্যাপারে বৈরী মনোভাব দেখাতে পারে। কিন্তু বিজেপির বক্তব্যগুলো ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য। আসলে ভারতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও তাদের পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন হয় না। বিজেপি সরকার আপাতত আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের অনেক স্বার্থ জড়িত। সেভেন সিস্টার্স রক্ষায়, ট্রানজিট সুবিধা পাওয়ার জন্য, বাণিজ্য সম্পর্ক রক্ষায় এবং পানি চুক্তির মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বাংলাদেশের সাথে জড়িত। তাই ভারত তার নিজের স্বার্থে বাংলাদেশের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখবে।
মো. মশিউর রহমান আকাশ
এলএলবি, ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
আরো জোরদার
হবে
বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্ত থেকে এদেশের সুশীল সমাজ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনার ঝড় ছিল নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। অবশেষে কংগ্রেসকে পরাজিত করে ক্ষমতা গ্রহণ করল বিজেপি। বিজেপির জয়ের পরে শুরু হল চুলচেরা বিশ্লেষণ, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হল দলের লাভ-ক্ষতি নিয়ে দরকষাকষি। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সবসময়ই সুসম্পর্ক বহাল ছিল এবং আশা করি থাকবে।
কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আশা করব তিনি বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যে যে চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়নি সেগুলো সম্পাদন করবেন। সর্বোপরি আমার ধারণা বিজেপির ক্ষমতা গ্রহণের ফলে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের কোন অবনতি ঘটবে না বরং সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ইমরান হোসাইন
বিএসএস (অনার্স), অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
দল নয় বরং দুই
দেশের বৃহত্তম স্বার্থই
পারে বন্ধুত্ব দৃঢ় করতে
অনেকে ভেবেছে যে, কংগ্রেসের বিদায় মানে ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিজেপি সরকারও ক্ষমতায় ছিল তখন ফারাক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক দলের সাথে দলের নয় বরং দেশের সাথে দেশের। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবসায়িক, তিস্তা চুক্তি সীমান্ত হত্যা, ছিটমহল সমস্যা ইত্যাদি কার্যকর ক্ষেত্র হতে পারে। তাছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে উভয় দেশকে পাশাপাশি থাকতে হবে। তাহলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় হতে থাকবে।
শেখ মো. শাহাদাত হোসেন
দ্বাদশ শ্রেণি, বিজ্ঞান বিভাগ,
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা।
মোদী সরকারের কাছ থেকে
কৌশলে ন্যায্য হিস্যা আদায়ে
জোর দেয়া উচিত
ভৌগোলিক কারণে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সব সময় সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। তবে সেটা অবশ্যই অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়। ফারাক্কার মত তিস্তা ব্যারেজ আজ এ দেশের জন্য এক মরণ ফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের সাথে আওয়ামী সরকারের সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিগুলোতে ভারত এক তরফাভাবে সুবিধা নিচ্ছে। নীতিগতভাবেই কংগ্রেসের চেয়ে মোদি সরকারের সাথে আওয়ামী সরকারের সম্পর্ক বেশি ভালো হবে। এটা আশা করা যায় না। তাই আওয়ামী সরকারের উচিত কৌশলে বিজেপি সরকার থেকে আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করা।
নাসির উদ্দিন মুন্না,
বিএসএস শেষ বর্ষ,
চাটখিল মাহবুব সরকারি ডিগ্রি কলেজ, উপজেলা-চাটখিল।
