গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে অর্থনীতিবিদদের হাট (সম্মেলন)। বিষয় ছিল: ভিশন-২০৩০। লক্ষ্য; ২০৩০ সালে কেমন ও কিভাবে হবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ। রাজধানীর নামিদামি হোটেল রেডিসনে বসে এই হাট। আয়োজনটি ব্যয়বহুল হলেও অর্থনীতিবিদদের পকেট থেকে কোন অর্থব্যয় করতে হয়নি। কারণ আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিল দুটি বিদেশি ব্যাঙ্ক। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক বিশেষ করে ব্যাঙ্কের গভর্নর ড. আতিউর রহমান সম্মেলনটি বাস্তবায়নে যে অগ্রণী ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করেছেন তা উপস্থিত সকলেই তা একবাক্যে স্বীকার করেছেন।
অর্থনীতিবিদদের এই হাট আয়োজনে মুখ্য উদ্যোক্তা ছিলেন প্রবাসী অর্থনীতিবিদ ড. মহিউদ্দিন আলমগীর। এক সময়ের অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও বি.আই.ডি.এস.-এর অন্যতম গবেষক। অর্থনীতি সমিতিকে তিনি যথেষ্ট চাঙ্গা করেছিলেন বলে ড. আলমগীরের সুনাম আছে। এছাড়া পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বব্যাঙ্কের প্রাক্তন আঞ্চলিক পরিচালক ড. সাদিক আহমেদ সম্মেলনের অন্যতম সংগঠক।
অর্থনীতিবিদদের এই হাট বা পোশাকি ভাষায় ‘সম্মেলন’-এর মূল আয়োজক ‘বাংলাদেশ ইকোনমিস্টস ফোরাম’ (বিইএফ)। মানে অর্থনীতিবিদদের সমন্বিত একটি উদ্যোগ বা সংগঠন। অতিসম্প্রতি এই বি.ই.এফ.-এর জন্ম। তাই সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তুলে ধরার সময় এখনও আসেনি। বাংলাদেশ ইকোনমিস্টস ফোরাম প্রতিষ্ঠানিকভাবে কতটুকু নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। কিন্তু দেশের মাটিতে যে সকল প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমস্যা এবং সমাধানের পথ ও পন্থা নিয়ে চিন্তা করেন, বক্তব্য রাখেন তাদের সিংহভাগই এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। যারা আসতে পারেননি, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠিয়ে সম্মেলনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বিদেশ থেকেও যারা এসেছেন তার অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতিবিদ। সম্প্রতিকালে বাংলাদেশে যতগুলো অর্থনীতি বিষয়ক সম্মেলন হয়েছে, সে তুলনায় গত সপ্তাহের অর্থনীতিবিদদের সম্মেলন যথেষ্ট উঁচুমানের ছিল সে কথা বলা যায়।
অর্থনীতিবিদদের নিয়ে অনেক রসালো গল্প আছে। অনেক সমালোচক বলেন, অর্থনীতিবিদদের মত ও পথের ঠিক-ঠিকানা নেই। তাছাড়া একটি বিষয়ে দুজন অর্থনীতিবিদ একমত হয়েছে এমন ঘটনাও নাকি কম। কট্টর সমালোচকেরা বলেন, দুজন অর্থনীতিবিদ একটি বিষয়ে আলোচনায় বসলে তিনটি পরামর্শ পাওয়া যায়। এমনকি একজন অর্থনীতিবিদ একটি বিষয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
আর এজন্যই হয়ত আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বলতেন, “আমি এক হাতের অর্থনীতিবিদ চাই। কারণ অর্থনীতিবিদদের সামনে কোন অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান চাইলে তারা বলেন, ‘On the one hand (এক দিকে) এটা হতে পারে, ‘On the other hand (আর এক দিকে) এটা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
ট্রুম্যান বা জওহারলাল নেহেরুর ভাবনায় অর্থনীতিবিদদের চিন্তা-চেতনায় দুটো হাত থাকলেই সমস্যা। কারণ তারা সমস্যা সমাধানের সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে একথা অবশ্যই বলা দরকার যে, পৃথিবীর কোন অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সরল অঙ্কের ন্যায় ৩+৩ = ৬ (তিন যোগ তিন, মানে ছয়) ফলাফল বের করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে, অথনৈতিক বিশ্লেষণে একটি সমস্যার সমাধানে হাজারো বিষয়ের মূল্যায়ন ও উপস্থিতি বিচার করেই একটি সুনির্দিষ্ট পথ ও পন্থা বের করা যেতে পারে।
কিন্তু এর মধ্যে সময় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের দেশে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ বা আষাঢ় মাসে আমের ফলন ও গুণগত মান নিয়ে যে গবেষণা হবে, তা আমের মৌসুমের বাস্তবতাকে ধরে উপসংহার টানা যেতে পারে। আর একই গবেষণা যদি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে করা হয় তা হবে পরিসংখ্যান ভিত্তিক। তখন তত্ত্ব ও তথ্য দুটোতেই আনুমানিক বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
এই রকম একটি পরিস্থিতিতে ২০৩০ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ণয় অর্থনীতিবিদদের জন্য অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জ। এবার আমি অর্থনীতিবিদদের হাটের (সম্মেলনের) আলোচ্য বিষয় বা পণ্য নিয়ে কথা বলবো। সম্মেলনের লক্ষ্য: ২০৩০ সালের বাংলাদেশ। কেমন হবে অর্থনীতি। সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। মাথাপিছু আয় ১০ হতে ১২ হাজার ডলার হতে হবে। (যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ৯৮০ ডলার বলে নানা পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়)। বেকারত্ব কতটুকু ঘুচবে। রফতানি আয়, আমদানি ব্যয়ে বর্তমানের ঘাটতি কতটুকু মিটানো যাবে। দেশে দরিদ্র এবং চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কত হবে। বিদেশি বিনিয়োগ কতটুকু বাড়ানো যাবে। শেয়ার বাজারের ভবিষ্যত্ই বা কি হবে। আর কৃষিপ্রধান এই দেশে কৃষি বর্তমানে সবচাইতে বেশি কর্মসংস্থানের যোগান দিচ্ছে। এই খাতেরই ভবিষ্যত্ কী ও কীভাবে দাঁড় করানো হবে এই খাতকে, কী পরিমাণ মানুষ কৃষিখাত থেকে সরে এসে শিল্প বা সেবা খাতে যোগ দিতে পারবে, বইয়ের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোকে কিভাবে দেশ এবং বিদেশি বাজারের জন্য দক্ষ করে তোলা হবে ইত্যাদি ছিল আলোচ্য বিষয়। এরই সাথে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বক্তব্য ছিল; বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে কীভাবে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়।
সমস্যা ও সমাধানের চ্যালেঞ্জ ১৬ কোটি মানুষের সামনে। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের, এজন্য প্রয়োজন প্রজ্ঞাবান ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
সম্মেলনের একটি সেশনে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ সাদিক আহমদ উল্লেখ করেন, সত্তর দশকে বাংলাদেশ, চীন, মালয়েশিয়া এবং কোরিয়ার মাথাপিছু আয় প্রায় কাছাকাছি ছিল। ১৯৭৪ সালে মালয়েশিয়ার মাথাপিছু আয় ছিল ৭০০ ডলার, চীনের ১৬০ ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৮০ ডলার এবং বাংলাদেশের প্রায় ১০০ ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ বাদে সবাই মধ্যম ও উন্নত দেশের খাতায় নাম লিখিয়েছে। আমরা রয়ে গেছি অনেক পিছনে। কারণ, বাংলাদেশ বাদে অন্যেরা সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সঞ্চয় নিশ্চিত করেছে, শিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এনেছে এবং তৈরি করেছে দক্ষ শ্রমিক। বলতে গিয়েও যে কথা ড. সাদিক স্পষ্ট করে বলেননি তা হলো, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে এরা কাজে লাগিয়েছে। যা আমরা পারিনি।
বাংলাদেশ ইকোনমিস্টস ফোরামের (বিইএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভিশন-২০৩০: অর্থনৈতিক নীতি কাঠামো ও বহুদলীয় গণতন্ত্রে কৌশল নির্ধারণ’ এই সম্মেলনে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম সুহূদ, সিপিডির চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রবাসী অর্থনীতিবিদদের ঘরে ফেরার চিন্তা-চেতনাকে অভিনন্দন জানান।
প্রফেসর সোবহান দেশের অর্থনৈতিক গতিধারাকে সচল এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাংলাদেশকে একটি কল্যাণকামী দেশ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রগতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সকলের সত্ মানসিকতা এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অর্থবহ করার জন্য তিনি দেশে রাজনৈতিক মতৈক্য সৃষ্টির কথা পুনঃব্যক্ত করেন। আর এজন্য তিনি দেশে অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা এবং অবাধ ও নির্বাচনকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরির পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই হাটের (সম্মেলনের) উদ্বোধনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের বৃহত্ শিল্প খাতের কর্মচাঞ্চল্যে শ্লথগতি এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ না হওয়াকে তিনি অর্থনীতির অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতা হিসেবেও মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী মুহিত একথা বলতে দ্বিধাবোধ করেননি যে, ‘আমাদের দেশে বেকারত্ব একটি বড় সঙ্কট’। কোনোভাবে এই বেকার মানুষগুলো চলছে শুধু সেবাখাত (সার্ভিস সেক্টর) এবং পল্লীর চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে। তবে যেখানে একজন লোক দিয়ে যা চালানো যায় সেখানে তিনজন কাজ করছে। ম্যানুফেকচারিং বা উত্পাদনশীল শিল্প খাত সঙ্কুচিত হওয়ার কারণেই বেকারত্ব কমছে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। অর্থমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ ঘাটতির উল্লেখ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি) উত্পাদন খাতের অবদান বাড়াতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অনেক বক্তাই বললেন, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে, আমরা কোনদিনই ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারবো না। আর বর্তমানে, সুশাসনের অভাবেই অর্থনৈতিক তত্পরতা সামনের দিকে এগোতে পারছে না। শুধু অর্থনীতিবিদদের মুখেই না, কোন কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের মুখেও একই কথা। কিন্তু কেউ সুনিশ্চিত করে বলেননি, সুশাসনের কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে অবিলম্বে পরিবর্তন আনতে হবে। কিংবা ব্যাপক অর্থে সুশাসনকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের এই হাটে কয়েকজন রাজনীতিবিদের আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাতীয় পার্টির পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং বিএনপি-র প্রাক্তন মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তাদের ধ্যান-ধারণা বিক্রি করতেই রাজনীতিবিদরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তবে এদের সকলেই নিজের এবং দলের ধ্যান-ধারণা বিশ্বাস-অবিশ্বাসগুলো হাটের ক্রেতাদের সামনে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ঠিকই; কিন্তু সম্মেলনে বা হাটের ক্রেতা বা অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক বিশ্বাস ও উপলব্ধি মিলিয়ে রাজনীতিবিদদের বক্তব্য মূল্যায়ন, সমালোচনা বা প্রশংসা করেছেন নিজেদের বিশ্বাস ও অনুভূতি দিয়ে।
তবে একথা উল্লেখ করতেই হয় যে, অর্থনীতিবিদের এই হাটে যারা ক্রেতা বা অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাদের সিংহভাগই সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কিং খাত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা বা গবেষকবৃন্দ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিশেষ করে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল শিল্প, রফতানি বা আমদানিকারক, চেম্বার প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। অর্থনীতিবিদের এই হাটে যারা বিক্রেতা বা বিভিন্ন বিষয়ের উপর বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই দেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, অর্থনৈতিক গবেষণায় রত এবং বিগত দিনের নির্দলীয় সরকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ।
এই মানুষগুলো দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বাজেট, কোন অর্থনৈতিক নীতিমালা ঘোষণা, গার্মেন্টস শিল্প, কিংবা কয়লা উত্তোলন নীতি, অথবা বেসরকারি খাতে তত্পরতা, প্রবাসীদের আয়, জ্বালানি পণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মূল্যের বৃদ্ধি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকে তাদের কাছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সময়ের দাবিসমূহ তুলে ধরতে চেষ্টা করেন। এদের অনেকেই সন্ধ্যা বা বেশি রাতের টেলিভিশনের ‘টকশোতে’ অংশগ্রহণ করেন এবং কখনও কখনও রাস্তার পাশে সুশাসনের দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতেও দ্বিধা করেন না।
এর পরেও বলতে হবে, অর্থনীতিবিদদের এই হাট বা সম্মেলন দেশকে সামনের দিকে নেয়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে অর্থনৈতিকভাবে যথার্থ মূল্যায়ন, চলার পথ ও পন্থার সঠিক অবস্থান তৈরিতে আগাম সাবধানী ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে কতটুকু সক্ষম হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের দুইদিনব্যাপী হাট বা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা যে তত্ত্ব ও তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন তা নিঃসন্দেহে রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নকারীদের বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
তবে একথা বলতেই হবে, সম্মেলন আয়োজনকারীরা যদি সকল আলোচনা ও মতবিনিময়ের উপর একটি সারসংক্ষেপ বা সুপারিশমালা তৈরি করতে পারতেন, তাহলে হাটের বিক্রেতার চাইতে ক্রেতারা বেশি লাভবান হতেন বলে মনে হয়। একইসাথে পঠিত ও উপস্থাপিত ইংরেজী ভাষায় লেখা প্রবন্ধগুলো যদি অন্তত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে দেয়া যেত তাহলে হাটে বা সম্মেলনে উপস্থিত অংশগ্রহণকারী আলোচিত বিষয়ে অধিক উত্সাহ পেত বলে মনে হয়েছে। পরবর্তীতে এই ধরনের সম্মেলনে এমনটি আশা করা যেতেই পারে।
লেখক :সাংবাদিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
