ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ভারত, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছে? গত ২৫ জুন রাত থেকে ২৭ জুন রাত পর্যন্ত ভারতের বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির সাম্প্রতিকতম কৌতূহল প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ১৬ মে তারিখে অনুষ্ঠিত ৫৪৩ আসনের লোকসভা নির্বাচনে ৩৩৭ আসনে বিজয়ী বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের সরকারি দায়িত্বে অভিষেকের দিন আমন্ত্রিত হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সকল রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিতি; বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবস্থানকে সমর্থন দেয়া; দু’পক্ষের সম্মতিতে সাক্ষাতের সময় ও তারিখ ঠিক থাকা সত্ত্বেও হরতালের কারণ দেখিয়ে নবম জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা কর্তৃক ২০১৩ সালের ০৩ থেকে ০৫ মার্চ পর্যন্ত সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ সফরের সময় সাক্ষাত্ না করা প্রভৃতির কারণেও বিষয়টি যথেষ্ট কৌতূহলের উদ্রেক করেছে। বাংলাদেশের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারত। দক্ষিণ এশিয়া নামক ভূ-রাজনৈতিক সত্তা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, এবং আফগানিস্তান নিয়ে। এই রাষ্ট্রগুলো নিয়েই বর্তমানের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গড়ে উঠেছে। চীনসহ নয়টি দেশ ইতোমধ্যে সার্কের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করেছে। অন্য পর্যবেক্ষক দেশগুলো হচ্ছে:অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিসাস, এবং মিয়ানমার।
কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উদীয়মান অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবার কারণে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সূত্রপাত হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলটি বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও জোটের আকর্ষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের “অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের” অধ্যাপক এবং “কুয়েত অধ্যাপক” ড্যানি কুয়াহ্ বলেন, ‘অর্থনৈতিক আপেক্ষিক গুরুত্বের বৈশ্বিক কেন্দ্র যা ১৯৮০-র দিকে আটলান্টিক মহাসমুদ্রের মধ্যভাগে ছিল তা বিগত ৩০ বছরে পূর্বদিকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং পরবর্তী ৩০ বছরে এমনকি আরো স্থানান্তরিত হয়ে চীন এবং ভারতের সীমানায় পুঞ্জীভূত হতে পারে।’ অধ্যাপক কুয়াহ্র পর্যবেক্ষণ হচ্ছে যে, ‘সময়ের বিবর্তনে উপার্জন এবং জনসংখ্যা যেমন পরিবর্তিত হয়, একইভাবে বিশ্বে অর্থনৈতিক গুরুত্বের কেন্দ্রও স্থানান্তরিত হয়।’ উল্লেখ্য, কৌশলগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। অপরদিকে ভারত এই অঞ্চলের একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে ক্রমান্বয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র-শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এককভাবে কোন বিদেশি রাষ্ট্রে সুষমা স্বরাজের প্রথম সফরের স্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের সফরকালে সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সাক্ষাত্ করেন। একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতাদের সাথে তিনি সোনারগাঁ হোটেলে ২৬ তারিখে সাক্ষাত্ করেন এবং পরেরদিন (২৭ জুন) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যান। ২৬ জুন সন্ধ্যায় Bangladesh Institute of International and Strategic Studies (BIISS) কর্তৃক আয়োজিত হোটেল রূপসী বাংলায় “ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ রিলেশন্স:অ্যা ফ্রেমওয়ার্ক ফর কো-অপারেশন” শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। BIISS-এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এবারের সফরের সময় সুষমা স্বরাজ ১০ম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাথেও সাক্ষাত্ করেছেন। বাংলাদেশের জনগণকে আসন্ন রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুষমা স্বরাজ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যতিরেকে ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে ভারতের “ভিশন” আছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশসমূহের আঞ্চলিক সংগঠন সার্ককে আরো শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে ভারত উদ্যোগী হবে। তিনি বলেন, ‘My government is ready to work with other South Asian leaders to revitalise SAARC as an effective instrument for regional co-operation and as a united voice on the global issues.’ তিনি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী তত্পরতা এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার জন্য বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করেছে তার জন্য সুষমা স্বরাজ ভারতের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে সকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করেন। এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের অধিকতর কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ-চীন-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি জলবিদ্যুত্ উত্পাদন স্কীম কাজে লাগানোর জন্য ভারত, ভূটান ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের উপর গুরুত্বারোপ করেন। যার সাথে নেপাল পরবর্তীতে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে কভার করার লক্ষ্যে আসাম-নাগাল্যান্ড-পার্বতীপুর পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির ব্যাপারে ভারতের সমর্থন আশা করেন।
সুষমা স্বরাজের এবারের সফর সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুষমা স্বরাজের বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘আঞ্চলিক সংযোগ’। বাংলাদেশের প্রশ্নে দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতিতে যাবে না ভারত। বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার করা হবে। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গেই ভারত সম্পর্ক করতে চায়। সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারের কোন প্রস্তাব ছিল না। এমনকি আগমনের পর তাত্ক্ষণিকভাবে ভিসা দেয়ার বিষয় নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশও ভিসা অন অ্যারাইভালের সুযোগ পাবে যখন এব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। অবৈধ অভিবাসীসহ দু’পক্ষের যত সমস্যা আছে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের হাতে নক্শা হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বাংলাদেশে স্থাপন করা হবে। ভারতে অনেক বাংলাদেশি অপরাধী আশ্রয় নিয়েছে জানালে তিনি বলেন, ভারত কোন আসামিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধীদের অভয়াশ্রম নয়। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নূর হোসেনের ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূমি কখনও সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার হবে না বলেও ভারতের বিশ্বাস। বর্তমানে ভেড়ামারা ও বহরমপুর হয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাংলাদেশে আসছে একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগিরই ভারতের পালাটানা হয়ে আরো ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাংলাদেশে আসবে। সুষমা স্বরাজের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব শামীম চৌধুরী বলেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণসম্বলিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ আমন্ত্রণপত্র শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সুষমা স্বরাজের এই সফরে যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হলো—
সীমান্তে হত্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে ভারত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; ১৩ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশিদেরকে ভারত মাল্টিপল ভিসা দেবে ৫ বছরের জন্য, পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ঢাকা-শিলং-গৌহাটি বাস সার্ভিস চালু; ত্রিপুরার পালটানা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি; তিস্তা পানি চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ভারত অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে; ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহূত হতে দেয়া হবে না; বাংলাদেশের কোন ক্রিমিনালকে ভারত আশ্রয় দেবে না; ১৯৭৪ সালের ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য সক্রিয় চেষ্টা অব্যাহত আছে; সুবিধাজনক সময়ে যৌথ নদী কমিশনের (জে আর সি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে; মৈত্রী এক্সপ্রেসের সার্ভিস ফ্রিকোয়েন্স বাড়ানোর সম্মতি; মেঘালয় সীমান্তে আরো চারটি সীমান্ত হাট বসানো হবে; আগরতলাস্থ বাংলাদেশ ভিসা অফিসকে ডেপুটি হাইকমিশন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আকবরউদ্দিন বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক দেখতে চায়। মানুষকে নিয়ে চিন্তা করতে চায়। ভারতের বিদায়ী সরকার দু’দেশের সম্পর্ক যে জায়গায় রেখে গেছে নতুন সরকার সেই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চায়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিজেপি সরকার কারো কাছ থেকে ব্যাখ্যা নিতে চায় না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোন ইচ্ছাও নেই। সংবাদ মাধ্যমে খবরে প্রকাশ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বিএনপি চেয়ারপারসন হোটেলে গিয়ে নির্ধারিত কক্ষে বৈঠক করবেন। ২০১২ সালের অক্টোবরে তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া দিল্লি সফরকালে ভারতের তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় সুষমা স্বরাজ খালেদা জিয়াকে বেশ কিছু উপহার সামগ্রী দেন। ২০১২ সালে নয়দিনব্যাপী দিল্লি সফরের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথেও খালেদা জিয়া সাক্ষাত্ করেছিলেন। এব্যাপারে সিএনএন-আইবিএন সংবাদ সংস্থা পরিবেশিত খবরে বলা হয়েছিল, ‘During her stay in Delhi in 2012, Khaleda Zia had made all the right noises in an apparent bid to reach out to India by promising that her party, if voted back to power, would not allow Bangladesh territory to be used by insurgents and terrorists to target India. Although the BNP has traditionally held a stridently anti-India stand, Khaleda Zia had, during her India visit, vowed to make a “new beginning” in ties with India’
নবম জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতার দিল্লি সফরের একবছর পরে ২০১৩ সালের ৩ থেকে ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফরে আসেন। বাংলাদেশ সফরের সময় তত্কালীন নবম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের সময় ও তারিখ দু’পক্ষের সম্মতিতে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু তখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কাদের মোল্লার ফাঁসি হবার প্রেক্ষিতে চারদলীয় জোটের শরীক দল জামায়াতে ইসলামীর ডাকে হরতাল থাকায় ‘নিরাপত্তার’ কারণে তিনি তখন সেই সাক্ষাত্ বাতিল করেছিলেন। তখন সারা বাংলাদেশব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। জোট শরীক দল হিসেবে বিএনপিও এতে সমর্থন করছিল। সেই ঘটনা বিবেচনা করলে বলা যায় যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা-বিরোধীদের কোন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না থাকায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে পরিবেশ এখন নিরাপদ। তাই ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে নির্ধারিত সাক্ষাত্ বাতিল হলেও এখন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়াপারসন এখন বিরোধীদলীয় নেতা না থাকায় তার সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করে সুষমার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়। ভারতের ক্ষমতাসীন উচ্চমহলেও ব্যাপক লবিং-তদবির করতে হয়েছে বিএনপিকে। প্রসঙ্গত, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে বিএনপি।
ঢাকার রূপসী বাংলা হোটেলে বিআইআইএসএস-এর আলোচনা সভায় সুষমা স্বরাজ বলেন, গণতন্ত্রে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি, সবার অংশগ্রহণ ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভিন্নমত লালনের সক্ষমতার উপর গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত রয়েছে। তবে সহিংসতার চর্চায় আমরা বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশ চাইলে এক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা দেব। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অতীতের ধূম্রজাল অতিক্রম করে ক্রমান্বয়ে নতুন মাত্রা লাভ করছে।
লেখক: চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
