ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেনকো যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরো তিনদিন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও দেশটির পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ বলেছে, ইউক্রেন সংকটের কারণে দেশটি থেকে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ রাশিয়ায় পালিয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার দেশে ফিরে পোরোশেনকো যুদ্ধবিরতির ঐ ঘোষণা দেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির সময়সীমা আরো ৭২ ঘণ্টা অর্থাত্ তিনদিন বাড়ানো হয়েছে। এর আগে তিনি একতরফাভাবে এক সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে ঐ অস্ত্রবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য, ইউক্রেন সরকার ও পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের মধ্যে সমঝোতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির প্রতি জোর দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন পোরোশেনকো। এর ফলে বিদ্রোহীরা তার শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেবে এবং তাদের হাতে আটক বন্দিদের মুক্তি দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে দোনেতস্ক ও লুহানস্কের অধিকাংশ বিদ্রোহী নেতাই ইতোমধ্যেই তার একতরফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। দোনেতস্ক প্রজাতন্ত্রের স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার বরোদায় বলেছেন, ৩০ জুন পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু দোনেতস্কের দুই জ্যেষ্ঠ নেতা পাভলো গুবারেভ ও আইগর গিরকিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতভর রুশপন্থি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা একটি তল্লাশি চৌকি সেনাবাহিনী পুনরুদ্ধার করতে গেলে সেখানে সংঘর্ষে চার সেনা নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইউক্রেন সংকট শুরুর পর দেশটি থেকে প্রায় এক লাখ দশ হাজার মানুষ রাশিয়ায় পালিয়ে গেছে এবং ৫৪ হাজারেরও বেশি লোক অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৪ সালের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ দশ হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক রাশিয়ায় চলে গেছে। তিনি আরো জানান, এর অধিকাংশই সহিংসতাকবলিত পূর্বাঞ্চলের দোনেতস্ক ও লুহানস্ক এলাকার অধিবাসী ছিল। এসব অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে এখনো সংঘর্ষ চলছে। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি,অপহরণ আতংক এবং মানবাধিকার লংঘনসহ রাষ্ট্রীয় সেবার ঘাটতির কারণে মানুষজন এখান থেকে পালিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমাপন্থিদের বিক্ষোভের মুখে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হলে ইউক্রেনে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর ফলশ্রুতিতে ইউক্রেন থেকে বেরিয়ে গিয়ে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের আরো কয়েকটি প্রদেশ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে।
