আহা কি আনন্দ ওবামা সকাশে!

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:১৫
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠিকানায় প্রতিদিন কত-শত চিঠি যায় তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সেসব চিঠি কি পড়ার সময় আছে বিশ্বের সবচে’ ক্ষমতার দেশের ক্ষমতাধর মানুষটির! কিন্তু কি মনে করে তিনি পড়ে ফেলেন একটি চিঠি। চিঠিটি লিখেছিলেন তার দেশের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৩৬ বছরের গৃহবধূ রেবেকা আর্লার। ২০০৮ সালে আমেরিকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, এখনও তার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি রেবেকার পরিবার। কীভাবে দিন কাটে দু’সন্তানের জননী রেবেকার তা জানিয়েই চিঠি দেন প্রেসিডেন্টকে। রেবেকার চিঠিকে অবজ্ঞা করতে পারেননি ওবামা। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসের একটি সাধারণ রেস্টুরেন্টে দেখা করার জন্য হোয়াইট হাউস থেকে গত সপ্তাহে অনুরোধ যায় রেবেকার কাছে। নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে না পারলেও নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগেই শহরের ‘ম্যাটস বার’ রেস্টুরেন্টে হাজির হন তিনি। তাকে অবাক করে দিয়েই কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজির হলেন মার্কিন মুলুকের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বারাক ওবামা। না, রোজকার মতো থ্রি-পিস স্যুট নেই পরনে। ব্লেজার খোলা। ফুলহাতা একটা ফর্ম্যাল শার্টের হাতা দুটোই কনুই পর্যন্ত গোটানো। ভালো করে না দেখলে একবারও মনে হবে না স্বয়ং এই ব্যক্তিই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বদলে মনে হবে, রাস্তার উল্টো পারের কোনও অফিসের তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। চটজলদি লাঞ্চ সেরে নিতে এসেছেন এপারের সস্তা রেস্টুরেন্টে। পরস্পরের প্রতি সৌজন্য বিনিময়ের পর খাবারের টেবিলে বসে একেবারেই সহজভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গল্প শুরু করেন রেবেকার সঙ্গে। হ্যামবার্গার আর সঙ্গে চিজ দেয়া প্যাটি অর্ডার দিয়ে ফের রেবেকার দৈনন্দিন জীবন ও খরচ নিয়ে আলোচনায় ফিরলেন প্রেসিডেন্ট। রেস্টুরেন্টে রেবেকা আসার আগে থেকেই যে ক’জন শক্তপোক্ত চেহারার পুরুষ ও সতর্ক চোখের মহিলা বসেছিলেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী হলেও তাদের হাবভাবে একবারও তেমন কিছু টের পাননি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে প্রায় ভিখারি হয়ে যাওয়া রেবেকা। স্বামী ছিলেন একটা ছোটখাটো নির্মাণ সংস্থার মালিক। সেই সংস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দুই সন্তান এবার স্কুলে ভর্তি হবে। তাদের ভালো করে পুষ্টিকর খাবার দিতে গিয়েই দিশেহারা অবস্থা তার। প্রেসিডেন্টের কাছে তিনি এসবের কিছুই লুকালেন না। সব শুনে ওবামা বলেন, ‘হতাশ হবেন না। আপনাদের জন্যই আমি রোজ অফিসে আসি। মনে রাখবেন নিন্দাবাদ খুব জনপ্রিয় ঠিকই, কিন্তু আশাবাদ তার চেয়েও ভালো।’ তার কথা শুনে ভীষন আনন্দ পেলেন রেবেকা। নতুন করে বাঁচার আশা দেখলেন। তিনি আবার নতুন করে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘরে ফিরে যান।