প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:০৭
সরকার ও শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে মেধার সত্যিকারের বিচার হয় না। কারণ এর ফলে যে ছাত্র সারাবছর পড়াশুনা করে যে রেজাল্ট করে, প্রশ্নপত্র পাওয়ার ফলে পড়াশুনা না করেও একজন ছাত্র সেই রেজাল্ট করে। এজন্য যারা সারা বছর পড়াশুনা করে তাদের মন ভেঙ্গে যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের জন্য সরকারকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অভিভাবকদের ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াশুনার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে হবে। পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হলে তারা আর প্রশ্নপত্রের প্রতি আগ্রহী হবে না। কারণ নিজের মেধার মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে যে আনন্দ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। সঞ্জিত মন্ডল থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসে আইনের প্রয়োগ কঠোর হতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আমাদের দেশে নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পাবলিক পরীক্ষার কথা খুব কমই শোনা যায় যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে নাই। শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা করেছেন, তিনি অনেক প্রজ্ঞাবান মন্ত্রী। তার আলোচনাকে সাদুবাদ জানাই। আমাদের দেশে আলোচনার ফল সম্পর্কে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা অস্বীকার করা যায় না। বুঝে ওঠার পর প্রায় সব আলোচনার ফলাফল হ-য-ব-র-ল হতে দেখেছি। আলোচনা-সমালোচনা করলে অনেক করা যায় কিন্তু দরকার এর সমাধান। শুধু কি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা, ব্যাংক পরীক্ষা সর্বোপরি বিসিএসসহ পিএসসি’র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রতিযোগিতা চলছে। এর প্রতিকারে চাই যথাযথ আইনের প্রয়োগ, অভাব আছে যথাযথ এর প্রয়োগের। যদি প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা থাকে এবং ফাঁসের পর এর শাস্তি প্রয়োগ করা হয় তা হলে আমরা আবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেখব বলে মনে হয় না। মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ ৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চহারে পাসের প্রবণতার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে একজন শিক্ষার্থী সারা বছরের কষ্টের শেষ পর্যায়ে প্রশ্ন ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। শিক্ষার্থীর ফলাফল দ্বারা তার কর্মের ফল রচিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে তার মেধার মূল্যায়ন না হয়ে হচ্ছে অবমূল্যায়ন। সৃজনশীল পরীক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটে। শুধুমাত্র বইমুখি শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থী হয় সেরাদের সেরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে শিক্ষার্থীর মানসিকতাই নষ্ট হয়ে যায়। আমাকে স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেছিল, কষ্ট করে পড়তে হবে কেন? না পড়েও ভাল ফল করা যায়! আর তা হল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে। উচ্চহারে পাসের প্রবণতা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটাচ্ছে। টাকার বিনিময়ে ফাঁস করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারি। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষা সম্বন্ধীয় কাজ হতে পারে এবং তা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না বলে মনে হয়। আরিফ আফতাব ৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। খুব কম সময়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর অনেক পূর্বেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। প্রায় ছয় মাস কিংবা তার অধিক সময় পূর্বে তৈরি করা হয় প্রশ্নপত্র। আর এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি থেকে যায় অনেকার্থে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যদি খুব কম সময়ে তৈরি করা যায় তা হলে তা ফাঁসের দিক থেকে ব্যর্থ হবে। দশদিন বা বিশদিন প্রশ্নপত্র তৈরিতে সময় দেয়া যেতে পারে। প্রশ্নপত্রের সেটের সংখ্যা পাঁচ বা ছয় না করে আরও বাড়াতে হবে। খুবই কম সময়ে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম সময়ে প্রশ্নপত্র কেন্দ্র পৌঁছাতেও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ফাঁসের ঘটনা অনেক জটিল হবে বলে মনে হয়। সেই সাথে বাড়াতে হবে জবাবদিহিতা। ইসরাত জাহান ৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ডিজিটালাইজ্ড করা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। খুব কম সময়ে পরীক্ষা সম্বন্ধীয় কার্যাবলি সম্পাদন করতে হবে। পরীক্ষার আগে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র আনা-নেয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। খুবই গোপনীয়তায় প্রশ্নপত্র প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করাই হল প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাবিদদের সাথে যে আলোচনা করেছেন তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকারের ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষার সকল কাজ ডিজিটালাইজড করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকল অনৈতিক কাজ কমে আসবে বলে আমার মনে হয়। ফজলে শাহরিয়ার ৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন