পোশাক কারিগরদের ব্যস্ত সময়

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:২৮
ঈদের এখনো ঢের দেরি থাকলেও রমজানের আগে থেকেই শুরু হয়েছে থান কাপড়ের দোকানে বেচাকেনা। ঈদে সবাই চায় পোশাকটি একটু ভিন্ন হোক। আর এ জন্য ড্রেস বানিয়ে নেয়াই শ্রেয়। পছন্দের রং, লেইস, ইয়োগ বসিয়ে, ব্লক, বাটিক কিংবা এমব্রয়ডারি করে একটি পোশাক সহজেই গর্জিয়াস করে তোলা যায়, এতে দামে যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি ডিজাইনেও স্বাতন্ত্র্য থাকে বলে জানান ধানমন্ডি থেকে শপিং করতে আসা শিউলী ও যুুথী। এদিকে রাজধানীর অভিজাত বিপণি বিতানগুলোও ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে। ঘুম নেই ফ্যাশন হাউসগুলোর কর্মীদের চোখে। তাঁতি, বুটিক হাউস, ডিজাইনার, দর্জি, কারিগর, কারুশিল্পী, লন্ড্রি, আয়রনম্যান সবাই এখন ব্যস্ত। ফুরসত্ নেই কারো দম ফেলার। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন চলছে নতুন কাপড়, সূতা, পুতি আর বাহারি ডিজাইনে তৈরি চোখ ধাঁধানো চমক দেয়া শাড়ি-পোশাকের প্রতিযোগিতা। ফ্যাশন হাউসগুলো তাদের সেরা চমকটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে ছুটছে বিজ্ঞাপন সংস্থা ও ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোর সম্পাদকের কাছে। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ও এর বাইরের বড় বড় শহরগুলোতে প্রায় হাজার খানেক ফ্যাশন হাউস এবং প্রায় শ’খানেক শপিংমল রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা যায়, তাদের নিজস্ব দর্জিরা কাপড় কাটা এবং সেলাই শেষ করে থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়ায়, ব্লক-বাটিক এর সঙ্গে পুঁতি-চুমকি, লেইস, পাথর-কুন্দন ও সুচিকারুকার্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে আড়ং, নিত্য উপহার, অঞ্জনস, অন্যমেলা, কে ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, নাগরদোলা, বাংলার মেলা রঙ, মায়াসির, লালসাদা নীলহলুদ, শাহরুখস কালেকশন, প্লাস পয়েন্ট, টেক্সমার্ট, ক্যাটস আই, এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ সবে মাত্র রোজার তৃতীয় দিন হলেও, এতেই ভিড় বেড়েই চলেছে রাজধানীর থান কাপড়ের দোকান ও দর্জি বাড়িতে। ঈদের এই জমজমাট ক্রেতাসাধারণের জন্যে বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকে থান কাপড়ের দোকানীরা। সবাই চাইছে আগে আগেই মনের মতো ডিজাইনে নতুন জামাটি সেলাই করে নিতে। ভিড়কে উপেক্ষা করতেই অনেকে আবার রমজানের শুরুতেই শপিং সেরে নিতে চান। একদিন যাচ্ছে ভিড় আরো বাড়ছে। এ রকম উপচে পড়া ক্রেতার ভিড়ের জন্যই সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন দোকানিরা। এ বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদের বাজার ঘুরে দেখা গেল অন্য সব দোকানের চেয়ে গজ কাপড়ের দোকানেই এখন উপচে পড়া ভিড়। কিভাবে অন্যের চেয়ে নিজের জামাটা একটু আলাদা হবে এই নিয়েই এখন ব্যস্ত তরুণীরা। ব্যস্ত নামিদামি সেলাইঘরগুলোও। দর্জিরা বলছেন, ডিজিটাল যুগের তরুণীরা এখন ইন্টারনেটে ডিজাইন দেখে পোশাক বানিয়ে থাকেন। পোশাকের কারুকাজ করতে হয় বেশি। পোশাকের একটু উনিশ-বিশ হলেই সেই পোশাক আবার ঠিক করে দিতে হয়; তাই খুব সাবধানে এসব পোশাক কাটা ও সেলাইয়ের কাজ করতে হয় আমাদের। তিনি বলেন, রোজার শুরু থেকেই কারিগররা রাত জেগে কাপড় সেলাই করছে। এই ব্যস্ততা চলবে ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত। দর্জির মাস্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, সব কিছুর যেমন দাম বেড়েছে; তেমনি কারিগরদের মজুরিও বেড়েছে। এক সেট সালোয়ার কামিজ সেলাই করতে আগে হয়তো এক থেকে দেড়শ’ টাকা লাগতো। সেখানে এখন লাগছে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। চাঁদনী চকে বরাবরই হরেক রকম গজ কাপড় থাকে। তবে ঈদকে সামনে রেখে বেশ কিছু গজ কাপড় এনেছেন। এরমধ্যে লিলেন, কাজকরা, পাড় বসানো কাপড়, সিমার, সিল্ক, চিকেন, ভেলবেট চিকেন, লেইস চিকেনসহ বিভিন্ন সূতি, জর্জেট, তসর, কাতান, টিস্যু ইত্যাদি কাপড় তো আছেই। এসব কাপড়ের তুলনামূলক দামটা একটু বেশি বলে জানান ক্রেতারা। প্রায় কাপড়ে লেইস, পাড়ি, চুমকি, জরির কারুকাজ করা; দোকানি শামীম আহমেদ বলেন, চাকচিক্য না থাকলে ঈদের কাপড় চলবে না। শাট-প্যান্টের কাপড় কিনে বানাতে দিতে এসেছেন রনি। তিনি বলেন, যারা রেডিমেড পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না; তাদের জন্যে এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর দুইদিন দেরি হলেই হয়তো দর্জিরা কাপড় নেবেন না। তাই তাড়াহুড়োটা একটু বেশি। থান কাপড়ের কেনাকাটার সঙ্গে বেড়েছে লেইস, ইয়োগ পুতি, চুমকি, কুন্দন, পাথর, ডলার, ফিতা ইত্যাদির বিক্রয়। ২০ টাকা গজ থেকে শুরু করে ২০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা গজেও লেইস বিক্রি হচ্ছে। কেউ বা লম্বা ইয়োগ লাগান কেউবা শট ইয়োগ লাগান জামায়। এসব ইয়োগ পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।