হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে। মঙ্গলবার পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। অবৈধভাবে জনসমাবেশ ও পুলিশি কাজে বাধা দেয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। গত এক দশকের মধ্যে একে বৃহত্তম বিক্ষোভ বলে অভিহিত করা হয়।
হংকংয়ের চীনের কাছে ফিরে যাওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ১৯৯৭ সালে তারা চীনের কাছে ফিরে যায়। দিবসটি পালনে ওইদিন গণতন্ত্রের দাবিতে লাখ লাখ লোক বিক্ষোভ-সমাবেশ করে। তারা নির্বাচনে তাদের স্বাধীনতা দাবি করেন। দেশটিতে একদলীয় কম্যুনিস্ট শাসনের কারণে সেখানকার জনগণের সরাসরি নেতা নির্বাচনের সুযোগ নেই। তবে হংকংয়ের জনগণ প্রচলিত এ নিয়মের বিপক্ষে। তারা চান নেতা নির্বাচনে পুরো অধিকার। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে চীনা শাসনে আসার পর সবচেয়ে সমৃদ্ধ এই প্রদেশটি সেই দাবিই জানিয়ে আসছে। তবে এখনও পর্যন্ত তা পূরণের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও চীনের সরকার হংকংবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ২০১৭ সালের মধ্যে সেখানে পূর্ণমাত্রায় নির্বাচন দেয়া হবে। এরই মধ্যে পূর্ণ গণতন্ত্রের দাবিতে হংকংয়ের স্থানীয় পরিষদের পাঁচজন প্রতিনিধি একযোগে পদত্যাগ করারও কথা জানিয়েছেন। হংকংবাসীদের দাবি, সরাসরি ভোটের অধিকার তাদের দিতে হবে। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা আইন সভা ভবনের বাইরে ‘এখনই গণতন্ত্র’ লেখা ব্যানার নিয়ে সমবেত হয়। অনেকে আবার ভিন্ন মতবালম্বী জিয়াবোর মুক্তির দাবিতে সরব হয়।
বিক্ষোভে পাঁচ লক্ষাধিক লোক অংশ নেয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তারা চীনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির পর সেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ সমাবেশের ডাক দেয়। রীতিমতো রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমে আসে। অন্যদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে এ সংখ্যা দুই লাখের বেশি হবে না। চীনের মূল ভূখণ্ডে এতো বড় বিক্ষোভের ঘটনা এটাই প্রথম। এদিকে বেইজিং সমপ্রতি হংকংকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চূড়ান্ত কর্তৃত্ব চীনের হাতে। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই ব্রিটিশ উপনিবেশমুক্ত হয় হংকং এবং ব্রিটিশ সরকার চীনের কাছে হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করে।
