গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে গরমিল থাকায় ৯০টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩৬ জন রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং অফিসারের পাঠানো ফলাফলের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারের ফলাফলের পার্থক্য পাওয়ায় কমিশন এই চিঠি দিয়েছে। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব রকিবউদ্দীন মন্ডল স্বাক্ষরিত চিঠি ৯০ সংসদীয় আসনের ৩৬ জন রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের দেয়া ভোটের হিসাবে গরমিল থাকায় দুই জনের তথ্য সমন্বয় করে এবং কি কারণে এমন হলো তার রিপোর্টসহ জানতে চাওয়া হয়েছে।
চিঠি পাঠানোর বিষয়ে উপ-সচিব রকিবউদ্দীন মন্ডল বলেন, সম্প্রতি বেশ কিছু সংসদীয় আসনে ভোটের হিসাবের গরমিল পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জানতে চেয়েছি। পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের ফলাফল সমন্বয় করে পুনরায় ফলাফল পাঠাতে বলা হয়েছে।
ফলাফল সমন্বয় শাখা কর্মকর্তারা জানান, সাতক্ষীরা-১ আসনের ১৪টি কেন্দ্রে এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের ৩টি কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের পাঠানো ভোটার সংখ্যা আকাশ-পাতাল পার্থক্য ধরা পড়ে। একইভাবে যশোর-১ ও ২ আসনেও গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল, বরিশাল, ঝালকাঠী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ ৩৬টি জেলার ৯০টি আসনের ভোটার সংখ্যায় এ রকম গরমিল পাওয়া গেছে।
ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, দু-এক জায়গায় এরকম গরমিল পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জানতে চেয়েছি। তারা ফলাফলের দুই শিট সমন্বয় করে পাঠাবেন।
