প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৫
প্রশ্নপত্র ফাঁস:রাঘব বোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যান্সারের মত যন্ত্রণাদায়ক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্র যারা ফাঁস করে তাদের আমার মতে ফাঁসিই হওয়া উচিত। তাই অনেকে হয়ত বলবেন এমন একটা সাধারণ কাজের জন্য ফাঁসি? এইক্ষেত্রে যে চলমান আইন রয়েছে তা সংশোধন করে, কঠোর শাস্তির বিধান করে আইন পাস করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ শাস্তি বড় অংকের জরিমানাসহ সাত বছর জেল হওয়া উচিত। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করে ইহার মূল উত্পাটন করা ছাড়া উপায় নেই। এমন ন্যক্কারজনক কাজ বছরের পর বছর যারা করে যাচ্ছে আজ পর্যন্ত ঘটনার পর পর বহু তদন্ত কমিটি হয়েছে কিন্তু শেষতক কি হয়েছে তার ফলাফল আমরা কেহই জানতে পারিনি। এর সাথে রাঘববোয়ালরা জড়িত বিধায় আজ পর্যন্ত কারও কোন কঠিন শাস্তি হতে দেখিনি। তাই সেই সকল রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচনে মিডিয়াকেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। শোয়েখ মোহাম্মদ রাব্বি, বিবিএ, ২য় বর্ষ, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডি ক্যাম্পাস, ঢাকা প্রশ্নপত্র ফাঁস লজ্জাকর বিষয় প্রশ্নপত্র ফাঁস যা হয়েছে বিগত দিনে, এখন থেকে আর হবে না এমন গ্যারান্টি কে দিবে। এজন্য মন্ত্রী পরিষদ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা আগামী প্রজন্মগুলো এই প্রশ্নফাঁসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। তাই এখনই কোন কোনভাবে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আলাউদ্দিন তুষার, দশম শ্রেণি, মানবিক বিভাগ, নাঙ্গলকোট রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা শিক্ষামন্ত্রীকে আরও কঠোর হতে হবে বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা দেশের মেধাবীদের জন্য চরম হতাশাজনক। যত কঠিন সিন্ডিকেট থাকুক পরীক্ষার দুই-তিনদিন আগেই প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীর হাতে চলে যায়। এমন কি অনলাইন, ফেইসবুকে পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে যায়। মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে পিএসসির প্রশ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এতে আমাদের দেশের সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। আমি মনে করি প্রশ্নপত্র ফাঁসের পিছনে সরকারি কর্তা ব্যক্তিরাই বেশি দায়ী। শিক্ষামন্ত্রী যদি আরও কঠোর হন এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের যদি আইনের মাধ্যমে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাহলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। সিকদার আনিছুর রহমান, সরকারি বি এম কলেজ, বরিশাল, বি এ অনার্স, এম এ ফাইনাল, বরিশাল সদর, বরিশাল প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য উচ্চমহল দায়ী প্রতি বছর শিক্ষার সকল শাখায় প্রায় সব ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এতে করে সঠিক মেধার কোন মূল্যায়ন হচ্ছে না। শিক্ষার এত এ-প্লাস বৃদ্ধির জন্য প্রশ্নফাঁস দায়ী। ফলে হাজার হাজার এ-প্লাসধারী আজ উচ্চশিক্ষার দ্বারে পদার্পণ করতে পারছে না। তারা বেকারত্বের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষার মান না বেড়ে, বেড়েছে পাসের হার। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ভুলে আজ সমাজ কুশিক্ষার পথে শতভাগ অগ্রগতি অর্জন করছে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই এই কুমন্ত্রকে হটাতে পারবে। জাতির নীতি-নির্ধারক ও জনগণের সহমর্মিতাই এই দূরাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। মো. আমিনুর রহমান, অনার্স ৩য় বর্ষ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির জন্য অভিশাপ খোলা বাজারের জিনিস-পত্রের মত আজ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রির রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রতিটি পরীক্ষার আগেই সুলভমূল্যে পাওয়া যায় এসব প্রশ্ন। একটা জাতিকে মেধাশূন্য করার মোক্ষম হাতিয়ার এই প্রশ্নপত্র ফাঁস। শত শত মেধাবী ছাত্রের জীবন আজ ধংসের পথে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোন মেধাবী ছাত্রের জন্ম হবে না। এই অভিশাপের কারণে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সরকারকে কঠিনহস্তে দমন করতে হবে এই দুর্নীতি। শুধু সরকার প্রশাসন না, সর্বসাধারণের সচেতনতাই পারবে এই অন্যায় রুখতে । মো. মাহবুবুর রহমান, এগ্রিবিজনেস ফ্যাকাল্টি, তৃতীয় বর্ষ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁস :প্রতিকারের উপায় অবশ্যই বের করতে হবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সারাবছর পরিশ্রম করে পড়ালেখা করে যখন পরীক্ষার হলে গিয়ে শুনে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে, তখন পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। তাছাড়া কিছু কিছু অসাধু মুনাফালোভী কোচিং সেন্টার বা প্রতিষ্ঠান যারা এই ধরনের কাজের সহিত জড়িত তাদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। পত্র-পত্রিকা বা টেলিভিশনে এদের বিরুদ্ধে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। কোন শিক্ষার্থী প্রলুব্ধ হয়ে টাকা খরচ করে প্রশ্নপত্র কিনে নিজের বিবেক ও মেধাকে যেন বিকিয়ে দেয়ার চেষ্টা না করে। শান মোহাম্মদ রিজওয়ান, জেএসসি পরীক্ষার্থী, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন