প্রশ্নপত্র ফাঁস: প্রতিকারের
দায়িত্ব সরকারকেই
নিতে হবে
লাগাতার হরতালের মতো লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে এসএসসি, এইচএসসি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি চাকরির সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও পরীক্ষার আগের রাতেই পৌঁছে যায় পরীক্ষার্থীদের হাতে। যার কারণে দেশের শিক্ষার মান এখন প্রশ্নের মুখোমুখি। এদিকে বেশ কিছু বছর ধরে লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও আমরা এখনো পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শাস্তি হওয়ার কথা শুনিনি। আমাদের দেশের সরকারকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না। সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতেও রাজি নয়। বরং সরকার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের উত্সাহ দিচ্ছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বেড়েই চলেছে। সরকারের উচিত ছিল কী কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সে রহস্য খুঁজে বের করা এমতাবস্থায়, “প্রশ্নপত্র ফাঁস: প্রতিকারের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে”।
মো. আলাউদ্দিন মজুমদার
বিএসসি (অনার্স) ১ম বর্ষ, রসায়ন বিভাগ
চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ
চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
০০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস
প্রতিরোধে নো
টলারেন্স
শিক্ষাকে মানবসভ্যতার স্তম্ভ বলে বিবেচনা করা হয়। কোনো জাতিকে বিচার করার মাপকাঠিও হল শিক্ষা। কিন্তু সেই শিক্ষা ব্যবস্থা যদি হয় সমস্যাসঙ্কুল তাহলে সে জাতির ভবিষ্যত্ সহজেই অনুমেয়। তেমনই এক হতভাগ্য জাতি আমরা-বাংলাদেশি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তহীন সমস্যায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। যা গত কয়েক বছর ধরে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ফাঁস হচ্ছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন থেকে শুরু করে বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নও। আর এসব প্রশ্ন মিলছে ক্ষুদেবার্তা, ফেসবুকসহ মহল্লার ফটোকপির দোকানে। পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নড়াচড়া ছিল বিস্ময়করভাবে শম্বুকগতির। তাই তদন্তের নামে কালক্ষেপণ না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান করাই শ্রেয়। তাছাড়া এ পবিত্র দায়িত্ব পালনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদেরও হতে হবে নৈতিক গুণে গুণান্বিত।
রাসেল ওসমান
মাস্টার্স
ইংরেজি বিভাগ
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
0000000000000
প্রশ্নপত্র ফাঁস
শিক্ষাব্যবস্থায় নব্য
ত্রাসের আলামত
ভয়াবহ দুর্নীতির কালো থাবা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলে যাচ্ছে। সেটা কলুষিত করছে সমাজকে—পেরেক ঢুকিয়ে দিচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থায়। চারদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের হিড়িক। সুযোগ পাচ্ছে কার্লপ্রিটরা—হারিয়ে যাচ্ছে মেধাবীরা। রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি করা হচ্ছে দুর্নীতিবাজ। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাময়ী জীবনকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে গহীন সমুদ্রের অন্তহীন খাদে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা আর নীরবতায় চলতি বছরে এইচএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এমন অভিযোগও আছে, কর্তাব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ মদদে সুনির্দিষ্ট মাফিয়াচক্র অবলীলায় এই অপকর্ম চালিয়েছে। বিপরীতে প্রশাসন হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। অপ-সংস্কৃতির এই রেওয়াজ চলতে থাকলে আগামীতে শিক্ষার মান যে হুমকির মধ্যে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অবিলম্বে এই কলংকজনক অধ্যায়ের ইতি টেনে শিক্ষার্থীদের ব্যাধিমুক্ত করতে হবে।
শরীফুল ইসলাম শরীফ
৪র্থ বর্ষ,বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস
যেভাবেই হোক দমন
করতে হবে
বর্তমানে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাসহ চাকরির পরীক্ষাতে সচরাচরই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। যার ফলে জাতি আজ চরম উদ্বিগ্ন। আর মেধাবীরা পাচ্ছে না তাদের মেধার মূল্যায়ন। উল্লেখ্য, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইন করে শাস্তি কঠোর করার পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি বাড়ানোর সময় এখনই। নতুবা এর আশু সমাধান সম্ভব নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। এটি প্রতিরোধে নেই তেমন কোন ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর প্রথম থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্রের অবিকল কপি ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন নির্দিষ্ট সেটটি ফাঁস হয়ে পড়াতে প্রমাণ হয় পরীক্ষার কার্যক্রমে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই অপকর্মে জড়িত। হাতের কাছে এভাবে প্রশ্নপত্র পেয়ে বহু শিক্ষার্থী খুশি হলেও সচেতন অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যত্ চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু এর পরেও অনেকেই মনে মনে খুশি। তারা পেয়েছেন পরীক্ষায় পাস করার পরশ পাথর। মোটকথা আমাদের সমাজে শিক্ষার সাথে জড়িত সর্বস্তরের লোক, ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, কর্তাব্যক্তি - সবাই কোন না কোনভাবে এই নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত। কেউ অন্যায় করছেন, কেউ অন্যায় সহ্য করছেন। আমাদের পায়ে আমরা নিজেরাই কুড়াল মারলে আমাদেরকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। দূর হোক সেই অপশক্তি আর বজায় থাক শিক্ষার মান।
মো. মাইনউদ্দিন সোহাগ
বিবিএ, ডিপার্টমেন্ট অব মার্কেটিং,
লেভেল-৪, সেমিস্টার-২,
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।
