বাগেরহাটের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস দুই বছরেও চালু হয়নি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
বাগেরহাটের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি দুই বছরেও চালু হয়নি। ফলে পাসপোর্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ জেলার বাসিন্দারা। প্রতিমাসে সরকারকে অফিস ভাড়া হিসাবে গচ্চা দিতে হচ্ছে ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ আরো গুণতে হচ্ছে প্রায় এক লাখ ১৭ হাজার টাকা। শুধু অফিসের সামনে ঝুলছে আঞ্চলিক পাসপোর্টের সাইনবোর্ড। অনেক প্রত্যন্ত এলাকার পাসপোর্ট প্রত্যশীরা এসে হতাশ হচ্ছেন। তারা বলছেন, “আধুনিক মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) আশায় হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছি। একূলও গেল, ওকূলও গেল।” বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মু. শুকুর আলী জানান, বাগেরহাট কালেক্টরেট ভবনে ২০০৮ সালের জুন মাসে হাতে লেখা পাসপোর্ট দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকার আধুনিক মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেয়ার কার্যক্রম হাতে নিলে ২০১১ সালের মে মাসে হাতে লেখা পাসপোর্ট দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হাতে লেখা পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। আধুনিক মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রদান শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জানা গেছে, বাগেরহাটসহ দেশের ৩৩ জেলায় ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের জানুয়ারির মধ্যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উদ্বোধন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলা শহরের খারদ্বার এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে উদ্বোধন করা হয় বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাগেরহাট পাসপোর্ট অফিসের যাত্রা শুরু হয়। অফিস স্থাপনের ৩ মাসের মধ্যেই পাসপোর্ট তৈরির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছরের মধ্যে এখানে কার্যক্রম শুরু হয়নি। অফিসটির যাত্রা শুরু হয়েছিল আধুনিক মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরির লক্ষ্য নিয়ে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরির কোনো যন্ত্রপাতি সেখানে নেই। এছাড়া কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতিও সেখানে নেই। আছে কেবল কিছু চেয়ার-টেবিল, আলমিরা। এমআরপি তৈরির জন্য যে থ্রিফেইজ বিদ্যুত্ সংযোগ প্রয়োজন সেই সংযোগও সেখানে দেয়া নেই। অধিকাংশ সময়ই অফিসটি থাকে তালাবদ্ধ। কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে এ অফিসে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান। বাগেরহাট পাসপোর্ট অফিসের কোনো কার্যক্রম না থাকায় জেলার বিদেশগামী মানুষকে পাসপোর্ট করার জন্য যেতে হয় বিভাগীয় শহর খুলনাতে। সেখানে গিয়ে অনেকেই দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে যান। ফলে গুণতে হয় অনেক বেশি অর্থ। বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘দেশের ৩৩টি জেলায় এক সাথে পাসপোর্ট অফিস স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ইতিমধ্যে কিছু জেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা আমাদের কার্যক্রমের অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছি। কিছু দিনের মধ্যে এ অফিসে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।