প্রশ্নপত্র ফাঁস
জাতির জন্য
অভিশাপ
খোলা বাজারের জিনিসপত্রের মত আজ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রির রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রতিটি পরীক্ষার আগেই সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় এসব প্রশ্ন। একটা জাতিকে মেধাশূন্য করার মোক্ষম হাতিয়ার এই প্রশ্নপত্র ফাঁস। শত শত মেধাবী ছাত্রের জীবন আজ ধ্বংসের পথে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো মেধাবী ছাত্রের জন্ম হবে না। এই অভিশাপের কারণে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সরকারকে কঠিন হস্তে দমন করতে হবে এই দুর্নীতি। শুধু সরকার প্রশাসন না, সর্বসাধারণের সচেতনতাই পারবে এই অন্যায় রুখতে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন
দ্বিতীয় বর্ষ
লোকপ্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০
সচেতনতার পাশাপাশি
নৈতিকতাই পারে এই
অবক্ষয়ের অবসান ঘটাতে
ছাত্রজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হল পরীক্ষা। একে ছাত্রজীবনের বৈতরণীও বলা চলে। পরিশ্রম আর ঐকান্তিক সাধনার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে তা পার হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু তা যদি বিনা সাধনায় অর্জিত হয় তাহলে কি তার যথাযথ মর্যাদা থাকে? বর্তমানকালের প্রশ্নপত্র ফাঁস কথাটি সেই মর্যাদাটিকে বিনষ্ট করছে অবলীলায় যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসই হয়ে যায় তাহলে কি তাকে পরীক্ষা বলা চলে, অবশ্যই না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই বিষয়টিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে গণ্য করা যায়। আর এই অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন উপযুক্ত সচেতনতা, ইদানীং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নপত্র নির্ধারণ, অধিক সংখ্যক সেট তৈরি, লটারির মাধ্যমে প্রশ্নের সেট নির্ধারণসহ ৪টি সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ এবং যথাযথ ব্যবহার উপযুক্ত সচেতনতার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। সর্বোপরি আমি উল্লেখ করব নৈতিকতা শব্দটি। যার আলোকেই একজন শিক্ষার্থীকে বিচার করা উচিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি এবং যথাসাধ্য চেষ্টার মাধ্যমে তা এড়িয়ে চলার ব্যাপারটি।
আফ্রিদা আক্তার
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার, সমাজকল্যাণ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০০
সচেতনতাই পারে
প্রশ্নপত্র ফাঁস
রুখতে
শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। অথচ আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা আজ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণীর পিএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সকল পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে শিশুদের মানসিকতায় বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে মেধাবীরা তাদের মেধার সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। অবিলম্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে না পারলে জাতিকে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশাসনকে কঠোর ও সক্রিয় হতে হবে, প্রশ্ন সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইমতিয়াজ আহমেদ তাজ
এইচএসসি পরীক্ষার্থী ২০১৪ (বিজ্ঞান বিভাগ)
গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, বিওএফ, গাজীপুর।
০০০০০০০০০০০
আমরা সুপ্ত প্রতিভার
প্রতিফলন চাই
প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়
যদি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার পূর্বেই প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সারাবছর অধ্যয়ন বা পড়ালেখার প্রয়োজন হয় না। প্রতি বছর যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাহলে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে সুশিক্ষিত হতে পারবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শিক্ষার্থীরা সুপ্ত প্রতিভার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। মুখস্ত বিদ্যা আর নকলের মধ্যে কোনো তফাত্ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস নকলের আওতাভুক্ত। নিজ প্রচেষ্টায় জ্ঞানের যে প্রতিফলন ঘটে, মূলত সেটাই প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষামন্ত্রী সমীপে বলতে চাই, প্রশ্নপত্র ফাঁস নামক উক্তিটি আমরা আর শুনতে চাই না। আমরা মেধা বিকাশের মাধ্যমে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে চাই। পরিশেষে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে আইনের প্রয়োগ কঠোর হতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কম সময়ে যেন প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, শিঘ্রই এমন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই হয়তো প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকার ও নিরসন হবে।
তরিকুল ইসলাম রাসেল
মানবিক বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৫
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর
আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ
প্রয়োগ করতে হবে
সামপ্রতিককালে প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সঠিক মেধাবীদের যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।কিন্তু এই ব্যাপারে সরকারের যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই। এখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়নি। সরকার যদি কঠোর আইন প্রণয়ণ এবং এর যথাযথ প্রয়োগ করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনে তাহলেই প্রশ্নপত্র রোধ করা সম্ভব।
শাওন রায়
ইংরেজি বিভাগ, ২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
