দেশে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ পথশিশুর সহযোগিতায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, পথশিশুদের সমাজের বোঝা মনে না করে তাদের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। সরকারি উদ্যোগে পথশিশু হওয়ার উত্সমুখগুলো বন্ধ করতে হবে। এসব শিশু সমাজ জীবনে বিভিন্ন বৈষম্য ও অবিচারের শিকার হয়ে বেড়ে উঠছে। এক শ্রেণির মানুষ এদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ। এ থেকে উত্তরণে সমাজের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
সোমবার ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয় মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে পথশিশু: প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন। আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী এই সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক উল ইসলাম বলেন, শিশুর প্রথম পছন্দ তাদের পরিবার। তাই শিশুদের জন্য যা কিছুই করা হোক না কেন তা পরিবারকে কেন্দ্র করেই করতে হবে। তারপরের বিকল্প আশ্রয় কেন্দ্র। তবে শিশু নগরীতে শিশুদের যেন মানসিক বিকাশের সুযোগ পায় সে দিকে নজর দিতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিশনের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক কাজী আলী রেজা। তিনি বলেন, দারিদ্র্য, জনসংখ্যার আধিক্য, বেকারত্ব, শিক্ষা-সচেতনতার অভাব আর ভেঙ্গে যাওয়া পরিবারের শিশুরাই মূলত পথশিশু হয়। দেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ লাখের ওপরে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক এ এফ এম ফারুখ হোসেন বলেন, আমাদের দেশের ৩ কোটি ৭৩ লাখ মানুষ অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন। তাদের শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে, মানবিকতা বিকশিত হতে না পারলে পথশিশুর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তাই পথশিশুর উত্সমুখ বন্ধ করতেও প্রয়োজন শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো। জনগণ যত শিক্ষিত হবে, মানবিক হবে পথশিশুর সংখ্যা তত কমবে।
সেমিনারে সুপারিশ হিসেবে বক্তারা বলেন, পথশিশুদের সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে পথশিশুদের বিনামূল্যে চিকিত্সা দিতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি পুলিশের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীন শিশু অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাদের জন্যে গ্রাম ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেএমএইচ জার্মানির কান্ট্রি কো অর্ডিনেটর মারুফ মমতাজ রুমি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ওমর ফারুক চৌধুরী, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এর উপ-পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগম প্রমুখ। পথশিশুদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সোহান ও কলি। সেমিনারটি পরিচালনা করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সিইও শাহনেওয়াজ খান।
