চলতি বছরেই মাইক্রোসফট তাদের এক সময়কার জনপ্রিয়তম পিসি অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপি থেকে সব ধরনের সেবা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই হিসেবে এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে মাইক্রোসফট আর উইন্ডোজ এক্সপির জন্য কোনো ধরনের আপডেট প্রদান করছে না। এবারে উইন্ডোজ ৭-এর জন্যও সব ধরনের আপডেট সেবা বন্ধের দিন-তারিখ ঘোষণা করেছে তারা। আগামী বছরের জানুয়ারির ১৩ তারিখ থেকেই মূল ধারার উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে মাইক্রোসফট। ফলে উইন্ডোজ ৭-এর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি বের হলে বা হ্যাকাররা কোনো ত্রুটি বের করতে পারলেও এর জন্য কোনো ধরনের আপডেট প্রদান করবে না মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ৭-এর সব সংস্করণের জন্যই এ কথা প্রযোজ্য হবে। এতে করে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হবে মূলত গ্রাহক পর্যায়ের উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীরা। কারণ ব্যবসায়িক কাজে যারা উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত সেবা প্রদান করবে মাইক্রোসফট। যারা এখনও পর্যন্ত উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার ছাড়েননি কিন্তু শীঘ্রই উইন্ডোজ ৭-এ স্থানান্তর করার চিন্তা করছে, তাদের জন্য এটি দুঃসংবাদ হয়েই আসছে। কারণ উইন্ডোজ ৭-এর সেবা মাইক্রোসফট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তারা আর নতুন করে উইন্ডোজ ৭ কিনতে পারবে না। সেক্ষেত্রে যারা উইন্ডোজ ৮ পছন্দ করেন না, তাদেরকেও বাধ্য হয়ে উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করছেন, উইন্ডোজ ৮ বাজারে আসার পর থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে না পারায় উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার উত্সাহিত করতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে মাইক্রোসফট। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান বিশ্বে উইন্ডোজের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ হলো উইন্ডোজ ৭। বিশ্বব্যাপী অর্ধেকেরও ডেস্কটপ পিসিতে এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহূত হচ্ছে। অন্যদিকে উইন্ডোজ ৮-এর ব্যবহারকারী রয়েছে বর্তমান বিশ্বে ১২ শতাংশের কিছু বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারী খানিকটা হলেও কমেছে। সেখানে উইন্ডোজ ৭-এর ব্যবহারকারী অনেকটাই বেড়েছে। সামনের বছরের শুরুতেই উইন্ডোজ ৭-এর সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারী এখন খানিকটা বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। আবার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উইন্ডোজ ৯ বাজারে আসার পরিকল্পনার কথাও জানিয়ে রেখেছে মাইক্রোসফট। সেক্ষেত্রে হয়তো উইন্ডোজ ৯কে জনপ্রিয় করতে চাইবে তারা।
