যেভাবেই হোক, প্রশ্ন ফাঁস
কঠোরহস্তে দমন
করতে হবে
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একজন শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে সারাবছর পড়াশুনা শেষে ভাল রেজাল্ট করে সুন্দর একটি ভবিষ্যত্ গড়তে চায় এবং এর সাথে দেশও জাতিকে মেধার মাধ্যমে এগিয়ে নিবে, এটাই তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু এই সোনালী স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষরূপী দানব এই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে কলুষিত করছে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশ হচ্ছে মেধাশূন্য। জাতি আজ চরম উদ্বিগ্ন, আর দেরি নয়, যারা এই দুর্নীতির কালোকর্মের সাথে জড়িত ঐ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাময়ী জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদেরকে দ্রুত কঠোর আইন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অতিগোপনীয়তা রক্ষা করে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে।
সামীমা বেগম (মিলি)
এমএম শেষ বর্ষ, বিএম কলেজ, বরিশাল
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ছাপানো ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী থেকে শুরু করে বিসিএস-এর মত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মত নির্লজ্জ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আজ পর্যন্ত কোন কঠিন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। এমনকি তাদের নাম ও চেহারা আজও জনসমক্ষে প্রকাশ হয়েছে বলে মনে হয় না। আমাদের ছাত্রসমাজকে এই ধরনের ঘৃণ্য কাজের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ক্যান্সারের মত প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে সরকারের উচিত হবে এর বিরুদ্ধে চলমান আইন সংশোধন করে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ছাপানো ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
মুনমুন খান
বিএসএস (অনার্স)
আহম্মদ বাওয়ানী একাডেমী, ঢাকা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর
ব্যবস্থা নিতে হবে
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস মানেই শিক্ষার গলায় ফাঁস। এর মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। এমন অনৈতিক, ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক কাজের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাধ্যমিক, জেএসসি এমনকি প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষাতেও। গতবছর পিএসসি পরীক্ষার সময়ও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা মোটেও লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারছে না। সারাবছর অনেক পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে লেখাপড়া করেও যখন অপেক্ষাকৃত দুর্বলরা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পায় তখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের দুঃখের সীমা থাকে না। মেধাবীরা মেধার যথাযথ মূল্যায়ন না পেয়ে তারা এখন চরম হতাশ। তাই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে কোন আপোস নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
মো. মাসফিকুর রহমান বায়েজীদ
বিএসএস (অনার্স), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি আজিজুল হক কলেজ,বগুড়া।
০০০০০০০০০০
শিক্ষা কর্মকর্তাদের
দায়িত্বশীল
হতে হবে
ইদানীংকালে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন? এর কারণ কি? একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মানদণ্ড নির্ধারিত হয় একটি স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে। অথচ সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষার আগে ফেসবুকে বা অন্য মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই এর পেছনে সংশ্লিষ্ট মহলের হাত রয়েছে। নীরব ভূমিকায় বিরাট অর্থ হাতিয়ে নিয়ে চুপ করে বসে থাকছে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ না হলে আমরা মেধাহীন হয়ে পড়ব। সুতরাং, শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে এবং প্রশ্ন ফাঁসকারীদের জাতির সামনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আমরা চাই প্রকৃত মেধাবীরা দেশের হাল ধরুক।
আকাশ আহমেদ জারসা
সমাজবিজ্ঞান অনার্স ২য় বর্ষ,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
০০০০০০০০০০
এই কলঙ্ক তিলক
থেকে দেশ ও জাতি
পরিত্রাণ চায়
এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকলে আগামী প্রজন্ম কখনো দেশ ও জাতির কর্ণধার হতে পারবে না। কোমল থেকে কুঁড়ি ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যেক বাঁচাতে হলে শিক্ষামন্ত্রীকে এখনি কঠোর হাতে দমন করতে হবে প্রয়োজনে এই দুষ্টচক্রের সাথে যদি কোন শিক্ষকরা ও ছাত্রছাত্রী জড়িত থাকে তাদেরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে আইনের মাধ্যমে দন্ড প্রদান করতে হবে। শিক্ষাবোর্ড যে ছাপাখানার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রশ্নপত্র ছাপায় সেখানে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীরা দায়িত্ব এবং ছাপাখানা জড়িত থাকলে আজীবন মেয়াদে সীলগালা করে দেয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন আজঅবধি এরজন্য কোন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই আজ এই কলঙ্কের তিলক থেকে দেশ ও জাতি পরিত্রাণ চায়। বাংলাদেশের কাননে যে ফুল ফুটবে তা অবশ্যই জাতির কর্ণধার হবে এই প্রত্যাশায় দেশ।
নীহারিকা
সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা,
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া(বিজেম)
এলএলবি, ১ম বর্ষ, মহানগর ল’ কলেজ(ঢাকা)।
