গুগল গ্লাসকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উপায়ে পরিচালনার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন লন্ডনভিত্তিক একটি স্টার্ট-আপ কোম্পানি ‘দিস প্লেস’। ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি বা ইইজি হেডসেটের সাথে একে ব্যবহার করে একে কেবল চিন্তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি বের করেছেন এই কোম্পানির গবেষকরা। যেমন, কেবল চিন্তার মাধ্যমেই গুগল গ্লাস ব্যবহার করে ছবি তোলা যাবে। আবার একইভাবে ছবি শেয়ারও করা যাবে অনলাইনে। এর জন্য কোনো পেশীর বিন্দুমাত্র নড়াচড়ারও প্রয়োজন হবে না। সার্জারির সময় বা এই ধরনের সংবেদনশীল সময়ে হ্যান্ডস-ফ্রি ব্যবহারের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দিস প্লেসের গবেষকরা। এর জন্য গুগল গ্লাস এবং ইইজি হেডসেটের সাথে প্রয়োজন হবে মাইন্ডরিডার নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন। ইতোমধ্যেই http://goo.gl/84V6lN লিংকে এটি প্রকাশও করেছে দিস প্লেস। তারা আশা করছে, এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে গুগল গ্লাসের জন্য আরও অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবেন ডেভেলপাররা। গুগল অবশ্য এই অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে কোনো ধরনের আগ্রহ দেখায়নি। বরং সরাসরি একে তারা সমর্থন করে না বলেই জানিয়েছে। গুগলের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গুগল গ্লাস মনের কথা পড়তে পারে না। এই অ্যাপ্লিকেশনটি মূলত গুগল গ্লাসের সাথে অন্য একটি যন্ত্রকে সংযুক্ত করে কাজ করে। আমরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখিনি বা একে অনুমোদনও দেইনি। ফলে এটি নিঃসন্দেহেই অ্যাপ স্টোরে থাকবে না।’ তবে গুগলের এই ঘোষণায় তেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানায়নি দিস প্লেস। তাদের মাইন্ড রিডার অ্যাপ্লিকেশন মূলত ইইজি হেডসেটের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকারিতার পরিমাপ করা হয়। কোনো বিষয় নিয়ে মস্তিষ্ক চিন্তা করলে চিন্তার গভীরতা পরিমাপ করে এটি। এই অ্যাপসে গুগল গ্লাসে একটি পপ-আপ স্ক্রিন হাজির হয়, যেখানে রয়েছে একটি লেন্সের ছবি। এর পাশে উলম্ব একটি স্কেল রয়েছে। ছবি তোলার চিন্তা সক্রিয় হলে এই স্কেল বরাবর সাদা দাগ বাড়তে থাকে। এই দাগ নির্দিষ্ট একটি মাত্রা অতিক্রম করলেই ছবিটি তোলা হয়ে যাবে। একই পদ্ধতিতে এটি ছবিতে সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোডও করা যাবে চিন্তা করেই।
