প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকলে দেশ থেকে মেধা হারিয়ে যাবে বর্তমান শিক্ষার্থী সমাজ ক্যান্সার সম-মানের ব্যাধিতে আক্রান্ত। সেটি হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। পিএসসি থেকে শুরু করে বিসিএস পর্যন্ত, এমন কি বাদ পড়ছে না সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাও। এতে করে যেমন আমাদের মেধা হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনেও আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যার ফলে মেধার আলো নিভতে শুরু করেছে। দেশ যখন মধ্যম আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশকে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে যখন কাজ করছে, তখন মেধা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা কাঙ্ক্ষিত নয়। প্রশ্নপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মো. মিনহাজুর রহমান ভুঁঞা শিক্ষার্থী, শেষ বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র আর ফাঁস নয় আমি সাধারণত এখনো বুঝতে সক্ষম হইনি, প্রশ্নপত্রটা কীভাবে ফাঁস হয়? কাদের কল্যাণে ফাঁস হয় অর্থাত্ প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পেছনে কাদের হাত রয়েছে। যাদের হাত রয়েছে, আমার মনে হয় তাদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তি দেয়া উচিত। একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী পরীক্ষা দেবে ভালো কথা! এর জন্য তাকে যথেষ্ট সময় কি দেয়া হয় না প্রস্তুতির জন্য? পড়াশুনার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হয়, একটা ভালো ছাত্র সে সময়ের সদ্ব্যবহার করতেও ছাড়ে না। কিন্তু বর্তমানের যে পরিস্থিতি, অবাধে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া-এটা সত্যি একটা ভালো ছাত্রের জন্য হতাশা বৈকি, এর প্রতিরোধে যা করণীয় জাফর ইকবাল স্যারই বলে দিয়েছেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীও হয়তো বুঝতে পেরেছেন, কীভাবে কী করতে হবে। অতএব প্রশ্নপত্র আর ফাঁস নয়, বিশ্বটাকে গড়ার তরে পরীক্ষা ও পড়াশুনার প্রস্তুতি যেন ভালো হয়। জহির আসলাম বিএসএস অনার্স (১ম বর্ষ) সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, মিরপুর সরকারি কলেজ ০০০০০০০০০০০ আইন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সরকারের সদিচ্ছাই পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কিছুদিন পূর্বেই আমরা মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি যে, উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল থাকা স্বত্বেও বেশ কিছু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে পারে না। এরা তারাই যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে অথবা অন্য কোন অসদুপায়ে ভালো ফলাফল করেছে ঠিকই; কিন্তু তাদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান সীমিত। আজকাল প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে প্রায় সর্বস্তরেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন তারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের দিকে ঝুঁকে না পড়ে। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন করতে হবে। এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও একাধিক সেটের প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষার দিন সকাল বেলা সেট নির্ধারণ করেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব। মো. এনামুল হক ২য় বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, পরিসংখ্যান বিভাগ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। ০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির অভিশাপ প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। কিন্তু প্রতিকারই বা কি? এটা নিয়ে কেউ ভাবেন না। বাংলাদেশের গোটা জাতিকে মেধাশূন্য করতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে। এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু পাবলিক পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায়ও চলছে। এর জন্য দরকার আইনের কঠোর প্রয়োগ। এই চক্রান্তকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। আমরা তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো যে কোন পরীক্ষায় যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন তাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়। এবং প্রশ্নগুলো ৩-৪ মাস আগ থেকে প্রস্তুত না করে পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করলে আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আশংকা থাকবে বলে মনে হয় না। মো. নূরুল আফছার শিক্ষার্থী বিএ ১ম বর্ষ সরকারি হাজী এবি কলেজ, সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম। ০০০০০০০০০০ শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলাভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি রোধ করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়টি কেবল সরকারই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই রুখতে পারে। আর এজন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন শিক্ষা বোর্ডে না হয়ে কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে অতি অল্প সময়ে প্রণয়ন করতে হবে। সেখানে জেলা শিক্ষা প্রধান ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরীক্ষার পূর্ব রাতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। এবং এজন্য জেলা পর্যায়ে উন্নতমানের প্রিন্টিং ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো প্রায়ই থানা পর্যায়ে হয়ে থাকে, তাই প্রশ্নপত্র অতি অল্প সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব পরীক্ষার পূর্বেই। প্রশ্নপত্র তৈরিতে এই নির্দিষ্ট জেলার অন্তর্গত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাছাইকৃত ভালো শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা প্রায় ১০/১৫ জন এর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। আর এজন্য এসময় তারা অন্য কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না করতে পারে এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। মো. আব্দুল গফুর ২য় বর্ষ সম্মান, মাত্স্য বিজ্ঞান অনুষদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন