প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২১:২২
আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে ইদানীং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের মত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেখানে সারাবছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় ভাল ফলাফলের আশায়, সেখানে মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানদের ফাঁস করা প্রশ্নপত্র ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করে আমাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কলুষিত করে তুলছে। তাই আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে এরকম জঘন্য কার্যক্রম থেকে আমরা অবশ্যই বের হয়ে আসতে পারি। সাদিয়া শুভেচ্ছা (আলো) এইচএসসি, ২য় বর্ষ বেগম বদরুননেসা মহিলা কলেজ বকশীবাজার, ঢাকা। ০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে আমাদের সবার উত্তম মানবিক গুণাবলীর চর্চা করতে হবে বর্তমান আমরা আমাদের মানবিক গুণাবলির চর্চা না করার কারণে বৈধ ও অবৈধের পার্থক্য ভুলে গিয়েছি। উত্তম গুণাবলির মানুষ কখনো এ ধরনের কলঙ্কজনক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। সমাজের মারাত্মক এই অভিশাপ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রতিভাবান ছাত্রদের প্রতিভাকে ধ্বংস করছে, এতে তারাও সমাজের প্রতি অবজ্ঞা করছে। ফলে মানুষের মনুষ্যত্ব বিলুপ্ত হচ্ছে। যতই আইন প্রণয়ন ও শাস্তি প্রদান করা হোক না কেন আমাদের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ব্যতীত এ সমস্যা সমাধান সম্ভব না। মো. আমিনুর রহমান অনার্স ৩য় বর্ষ (বিএসএস), ঢাকা কলেজ, ঢাকা। ০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস মেধা বিকাশের অন্তরায় সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি অন্যতম ঘটনা। যা বর্তমানে ছোঁয়াচে রোগের মত ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। আগে যেখানে উচ্চতর পর্যায়ে দু’একটি ঘটনা ঘটত বা অভিযোগ উঠত, আজ তা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের বিদ্যাপীঠ প্রাইমারী পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ছে। আর চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস আরো ভয়ঙ্কর অবস্থায় পতিত। যা জাতির জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্রে ফাঁসে সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যেখানেই এর ক্লু পাওয়া যাবে, তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা সচেতন না হলে কুচক্রীমহল আরো উত্সাহিত হবে। তাদেরকে ধরে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও উন্নততর প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকবল কমাতে হবে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানেরই যে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে তা কিন্তু নয়। এখানে এরকমও প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বিরুদ্ধে এরূপ কোন ঘটনার প্রমাণ বা অভিযোগ ওঠেনি। যার মধ্যে বুয়েট, বিসিপিএস অন্যতম। তাদের পদ্ধতি, কারিকুলাম অনুসরণ করা যেতে পারে। দু’টি প্রতিষ্ঠানই দেশের উচ্চতর প্রতিষ্ঠান। সর্বোপরি এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শাহজাহান আলী মূসা সমাজকর্ম বিভাগ, মাস্টার্স (ফাইনাল) সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা। ০০০০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিক জোরদার করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে দিন দিন। কোনভাবেই যেন দমানো যাচ্ছে না এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে আমার মত অসংখ্যা ছাত্র-ছাত্রী। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীর ফলাফলের উপর। অচিরেই বন্ধ করতে হবে এই ঊর্ধ্বমুখী সমস্যা, নয়তো দিনে দিনে অচল হয়ে যাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকার হিসেবে আমার মত: প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিক জোরদার করা এবং সেইসাথে যেদিন যে পরীক্ষা, সেদিন সেই প্রশ্নপত্র পরীক্ষার কিছু আগে ছাপিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, পরীক্ষার্থীর উপর যেন কোন চাপ সৃষ্টি না হয়। মো. আহসান হাবীব দ্বাদশ শ্রেণী, মানবিক- ২৪৪ শেরপুর কলেজ, শেরপুর, বগুড়া। ০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র যদি এক ঘণ্টা আগে প্রিন্ট করে পরীক্ষা নেয়া হয় তাহলে এ সমস্যাটি সমাধান হবে গত কিছুদিন যাবত্ আমাদের দেশে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে উত্সব চলছে। সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে নকল প্রবণতা কমে গেলেও কমছে না প্রশ্ন ফাঁসের প্রতি ঝোঁক। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার চেষ্টা করা যায়। সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার প্রদান করেছে। যদি প্রশ্ন অতি সতর্কতার সাথে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতিটি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রেরণ এবং পরীক্ষার আধ বা একঘণ্টা আগে তা প্রিন্ট করে পরীক্ষা নেয়া হয় তাতে মনে প্রশ্ন ফাঁস কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষার আধ বা একঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস হলেও সৃজনশীল প্রশ্নে তেমনটা প্রভাব ফেলতে পারবে না। মো. উজ্জল বিবিএ (ম্যানেজমেন্ট), ২য় বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন