ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রের সীমানা চূড়ান্ত হওয়ায় বাংলাদেশের মোট সমুদ্র সীমানা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ আঠারো হাজার আটশ তেরো বর্গকিলো-মিটারেরও বেশি। নেদারল্যান্ডসের হেগস্থ সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত স্থায়ী সালিশ আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার জলভাগ নিয়ে যে বিরোধ ছিল তা নিষ্পত্তি করে স্থান নির্ধারণ করা হয়। স্থায়ী সালিশ আদালত ১৮১ পৃষ্ঠার এ রায়ে বিরোধপূর্ণ এলাকার ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশকে এবং ভারতকে ৬,১৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রদান করেছে। ভারতের দাবিকৃত দশটি ব্লক বাংলাদেশ পেয়েছে। এর ফলে দুইশ’ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থানরত সকল ধরনের প্রাণীজ, খনিজ এবং অপ্রাণীজ সম্পদের উপর বাংলাদেশের অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশকে দ্রুত জাতিসংঘের সিএলসিএসে মহীসোপান সম্পর্কে তার দাবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ২০১১ সালে এ সংক্রান্ত পেশকৃত দাবিতে ৪০০ থেকে ৪৬০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত করা হয়েছে। ২০১২ সালে মিয়ানমার থেকে আমরা পেয়েছি ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর এজন্য প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। যেভাবে মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি হলো সেটা বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব প্রদানকারী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগিদের বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে। এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসাবে কর্মরতদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিষয়ক সচিব রিয়ার এডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ খুরশেদ আলম আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন জগতের দ্বার উন্মোচন করেছে। ব্লু ইকোনমীর উদ্ভাবক হচ্ছেন গান্টার পাওলী। এ অর্থনীতির নিয়ামক হচ্ছে cascading পদ্ধতিতে সম্পদ থাকার, একটি পণ্যের-waste কে- input হিসাবে ব্যবহার করে ক্যাশ ফ্লো রূপে ব্যবহার করা যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান করা, সামাজিক পুঁজির সৃষ্টি করা, আয় বাড়ানো ও সর্বোপরি পরিবেশে সঞ্চয় বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সমুদ্রনির্ভর উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্রকে পাল্টিয়ে দিতে পারে। সেন্টার ফর ব্র্যাক থ্রো থিংকিং কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে, যদি সমুদ্র সম্পদকে নিজস্ব সক্ষমতা কিংবা অনুকূল শর্তসাপেক্ষে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা যায় তবে দেশের জিডিপিতে আগামী ৩/৪ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৩-৪% প্রবৃদ্ধি যুক্ত হওয়া সম্ভব। ভারত এবং চীন তারা মূলত তাদের নিজস্ব সক্ষমতা দ্বারা সমুদ্র সম্পদের সদ্ব্যবহারে সচেষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে মায়ানমার বিদেশি কোম্পানীসমূহের দ্বারস্থ হয়েছে। আসলে সমুদ্র সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখা সম্ভব। এ জন্যে প্রয়োজন হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ।
বেসরকারি খাতের অনাগ্রহের কারণে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রিতার জন্য বার বার সরকারের প্রয়াস সত্ত্বেও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ গড়ে উঠেনি। সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তারা বিদেশি কারিগরি সহায়তা নিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারবে। বিদেশি উদ্যোক্তারা একটি রাষ্ট্রে তখনই স্বাগত জানানো হয়, যখন সে দেশের কারিগরি কৌশল আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিশাল বিনিয়োগ দেশি উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই পেট্রোবাংলা এবং তার অঙ্গসংগঠন বাপেক্সকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে। বাংলাদেশ প্রথম সমুদ্র আইন করেছিল ১৯৭৪ সালে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আর সে ধরনের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্সের সক্ষমতা সীমিত। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হাসান মনসুর বলেছেন, আমরা আন্তর্জাতিক বিডিং এ যেতে পারি। তিনি আরো মন্তব্য করেছেন যে, পাশাপাশি পরীক্ষা করে তাঁরা দেখবেন যে, নিজেদের পক্ষে কোন ধরনের অফসোর ব্লক থেকে এক্সপ্লোর করা সম্ভব কিনা। আসলে তার প্রত্যাশাটি পূরণ করতে হলে কারিগরি কৌশলে আধুনিকীকরণ এবং বিশাল বিনিয়োগের কথাটি স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে এ মুহূর্তে দেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে সিন্ডিকেশন করে বিদেশি কারিগরি কৌশলের সহায়তার মাধ্যমেও সমুদ্র সম্পদ আহরণের প্রয়াস নেয়া যেতে পারে। তবে এদেশের উদ্যোক্তাদের অবশ্যই নৈতিকতার মান যথাযথ হতে হবে এবং দেশ থেকে সম্পদ পাচার না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্সকে শক্তিশালী করে তৈরি করতে হবে যাতে তারা সমুদ্র সম্পদ উত্তোলনে সক্ষম হয়। এদেশের সম্পদ যেন অন্যরা লুটেপুটে খেতে না পারে সেদিকে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দেশের যে ব্লকগুলো রয়েছে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে যথাযথ উপাত্ত সংগ্রহের জন্যে পেট্রোবাংলাকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে দশটি তেল গ্যাস ব্লকের মীমাংসা হয়েছে। এ দশটি ব্লকের মধ্যে চারটির উপর বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এসেছে। এ চারটি ব্লক হচ্ছে গভীর সমুদ্রের ১০, ১৫, ২০ এবং ২৫ নম্বর ব্লক। অন্যদিকে ছয়টি ব্লকের ছয় হাজার একশ পঁয়ত্রিশ বর্গকিলোমিটার পেয়েছে ভারত। এগুলো হচ্ছে অগভীর সমুদ্রের ১, ৫ এবং গভীর সমুদ্রের ৯, ১৪, ১৯ ও ২৪ নম্বর ব্লক। ১০ নম্বর ছাড়া বাকী ব্লকগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক টেন্ডার শীঘ্রই করা হবে। ১০ নম্বর ব্লকে কনকো ফিলিপস যে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের প্রাথমিকভাবে ধারণা যে এখানে বড় ধরনের গ্যাসের মজুদ আছে।
এদিকে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করার পাশাপাশি সম্পদ আহরণ এবং সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে সরকার সমুদ্র অর্থনীতির উপর কর্মকাণ্ডকে আরো বেগবান করতে যাচ্ছে। তারা ১ ও ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ঢাকায় করতে যাচ্ছে এতে আশা করা যায় ব্রেইন স্ট্রমিং-এর মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মপন্থা বেরিয়ে আসবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোম্পানীসমূহ উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীরা ‘ব্লু অর্থনীতির’ মাধ্যমে প্রাকৃতিক ইকোপদ্ধতির উন্নয়ন এবং জীবন মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্মুক্তভাবে তৈরা করা, বাস্তবায়ন এবং লাভজনক ব্যবসায় অংশীদারিত্বের কথা বলা হয়েছে। এজন্য পররাষ্ট্র নৌপরিবহন, মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে একযোগে হোলিস্টিক এ্যাপ্রোচ হিসাবে কাজ করতে হবে। দেশে ‘সমুদ্র অর্থনীতি’ নিয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনার জন্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে ভারতের দিক থেকে সমুদ্র বিরোধের রায়টি মেনে নেয়া হয়েছে। এটি প্রতিবেশী দেশ হিসাবে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক। এব্যাপারে ভারতের ইকোনমিক টাইমসের ৮ই জুলাই সংখ্যায় লেখা হয়েছে যে, এই বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির ফলে দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে যা দুটো রাষ্ট্রের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।
এ মুহূর্তে দেশের নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এদেশের দুটো সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নব্বই শতাংশই হয় জাহাজের মাধ্যমে। এর পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ষাট হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় বন্দর নির্মাণে উদ্যোগী হওয়া দরকার। এদেশে প্রায় ২৬০০ জাহাজ প্রতিবছর এসে থাকে। এদেশের সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে ৬৯ হলেও এটি শীঘ্রই আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। দেশে সমুদ্র পরিবহনও বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস মজুদ স্থলভাগে রয়েছে তা দিয়ে আনুমানিকভাবে ১২ থেকে ১৪ বছর চলতে পারে। গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। এক্ষণে সমুদ্র থেকে যদি গ্যাস উত্তোলন করে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় তবে শিল্প-কলকারখানা লাভবান হবে। সমুদ্রসীমারেখা নির্ধারিত হওয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে দেশের উপকার হবে। সামুদ্রিক সীমানায় রয়েছে মত্স্য সম্পদ এবং সামুদ্রিক প্রাণীর বিশাল সমাহার। এক্ষণে মত্স্য সম্পদ আহরণের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, উন্নত প্রযুক্তির উপকরণ প্রয়োজন। কোস্টাল শিপিং চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। এলক্ষ্যে দেশীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসতে পারে। মত্স্য সম্পদ এবং সামুদ্রিক প্রাণীর আহরণের জন্যে দক্ষ জনবল তৈরি করা দরকার। সিফারদের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহ মানসম্পন্ন ট্রলার এবং ফিশিং বোট তৈরির উদ্যোগ বেসরকারি খাতকে গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরকে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্যে বিনিয়োগে উদ্যোগী হতে হবে। এদিকে সমুদ্র সীমানায় আধুনিক সুযোগ সম্বলিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এজন্যে জাতীয় পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ইনোভেটিভ আইডিয়া সম্বলিত পর্যটন ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটনের মাধ্যমে জিডিপি-তে অবদান বাড়াতে হবে। দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার মান উন্নত করতে হবে। উল্লেখ্য যে, সমুদ্রের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক জিডিপিতে ৯% অবদান রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রের। আমাদের দেশের পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশকে শক্তিশালী করতে হলে সমুদ্রে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ ট্যুর অপারেটর গড়ে তোলার পাশাপাশি বায়ডাইভারসিটি যাতে বিনষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
সমুদ্রের জ্বালানি সম্পদ ছাড়াও রয়েছে খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার। এ সমস্ত খনিজ সম্পদ যাতে দেশি উদ্যোক্তারা আহরণ করেন সেজন্যে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান করা বাঞ্ছনীয়। মহামূল্যবান এ সমস্ত খনিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটাইট, জিরকন, রিউটাইল, ইলমেনাইট প্রভৃতি। অন্যদিকে প্রাণীজ যে সমস্ত সম্পদ রয়েছে সেগুলো কেবল উত্তোলন করলেই হবে না বরং দেশে বিদেশে প্রাণীজ খাদ্য প্রসেস করে প্রেরণের জন্য সরবরাহজনিত ব্যবস্থাপনার দরকার। এদিকে সমুদ্রে যে সমস্ত বিভিন্ন পুষ্টিগুণসম্পন্ন আগাছা রয়েছে, তার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আলোকে আগাছাগুলো উত্তোলন এবং তা বিদেশে রপ্তানির জন্যে সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশ এলাকায় অবৈধভাবে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীরা যাতে সমুদ্র সম্পদ লুণ্ঠন না করে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার।
সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ করে সরকার যে প্রশংসা পেয়েছে তা ধরে রাখতে হলে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। সমুদ্রের অর্থনীতিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গ্রহণ করা যেতে পারে। এই সামুদ্রিক অর্থনীতির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে হবে।
লেখক :ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকনোমিস্ট
ই-মেইল :[email protected]
