প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২১:২০
কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। জাতিকে উন্নত ও মর্যাদাশীল করতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা জাতিকে উন্নতির সোপানে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু শিক্ষা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত, বাণিজ্যিকীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত হয়ে যায় তা জাতির জন্য সুফল বয়ে আনবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতিকে মেধাশূন্য করবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার সামিল। জাতি তার ভবিষ্যত্ পথ চলার কর্ণধার হারাবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিকার রোধে ফাঁসের সাথে জড়িত লোকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। যারা প্রশ্নপত্র করতে অর্থাত্ যারা দায়িত্বে থাকবে তারা অবশ্যই সত্ এবং কর্তৃপক্ষের নজরে থাকতে হবে। প্রশাসনকে আরো ভূমিকা পালন করতে হবে। মো. আমির হোসাইন শিমুল অনার্স ২য় বর্ষ,আইন বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ০০০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার আইন বাস্তবায়ন করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পাসের হার বৃদ্ধি বা এ+ বৃদ্ধি করে কি একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব? না! কখনোই সম্ভব নয়। বরং ফাঁস করে সুন্দর দেশকে একটা ভয়ংকর ধ্বংসের পথে ধাবিত করছে আর তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের কপালে কুড়াল মারছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয় হচ্ছে: ১.সংসদে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার আইন প্রণয়ন করতে হবে। ২. পরীক্ষার দিনে প্রশ্ন করার পদ্ধতি অবলম্বন করলে ভাল হবে। ৩.শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সরকার, যুবসমাজকে সচেতন হতে হবে। ৪. অপরাধীর বিরুদ্ধে সবাইকে লড়তে হবে ইত্যাদি। তাহলেই হয়ত সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, লাল-সবুজের বাংলাদেশ একটি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাঙালি জাতি হয়ে মাথা উঁচু করে পৃথিবীর মানচিত্রে দাঁড়াতে পারবে ইনশাল্লাহ। মো. আতাউর রহমান সুজন বিএ অনার্স, ১ম বর্ষ ইসলামের ইতিহাস বিভাগ সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাভার, ঢাকা ০০০০০০০০০০০ তালা চোরের জন্য নয় ভদ্রলোকের জন্য যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তত বেশি উন্নত। দেশকে উন্নয়নশীল করতে হলে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মন বিশ্বের খবর জানানো। আজ আমরা সবাই শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু স্বশিক্ষায় কতজন শিক্ষিত হচ্ছি সেটাই হলো কথা। তাইতো প্রমথ চৌধুরী তার সাহিত্যে লেখা প্রবন্ধে বলেছিলেন স্বশিক্ষিত জাতি মাত্রই সুশিক্ষিত। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন তালা চোরের জন্য নয়, ভদ্রলোকের জন্য। বাড়ির গেটে তালা দেখে ভদ্রলোক ফিরে যায়। আর চোর ভাবে গৃহকর্তা নেই, তাই এখনই চুরির সময়। আমাদের চোর ধরতে হবে অর্থাত্ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সদিচ্ছা, বিশেষত সরকারের। এক্ষেত্রে প্রাথমিক গণশিক্ষা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সুমন আহমেদ (বিবিএ) ফজলুর রহমান হল সিটি ইউনিভার্সিটি, সাভার, ঢাকা ০০০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে সময়ের সাথে পাল্লাদিয়ে বাড়ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিমাণ। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শহর কিংবা গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক, মুঠোফোন, ফটোকপি মেশিন এবং কিছু অসত্ ব্যক্তি—এর প্রধান উত্স। সারাবছর পড়াশোনা করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। সরকারকে আরো বেশি গবেষণা করতে হবে। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে কঠোর হতে হবে। পরীক্ষার মাঝে বিরতি না রাখা এর সমাধান হতে পারে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। আর মেধাশূন্য নতুন প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুধুই কল্পনা মনে হবে। চঞ্চল কুমার মন্ডল বিবিএ (অনার্স) ৩য় বর্ষ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ ০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস অব্যাহত থাকলে এদেশ বেশিদূর এগোতে পারবে না বেশ কিছুদিন ধরে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি যত্রতত্র ঘটে চলেছে। কি পাবলিক পরীক্ষায় অথবা বিভিন্ন প্রাইভেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। এমতাবস্থায় এসব ঘটনা নিয়ে সাময়িক কিছু কল্পনার উত্সব ঘটলেও এ বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে কিছু কথা বলা হয়। কিন্তু সেটার কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার মত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে এদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত মেধার বিকাশ ঘটতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমাদেরকে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস নামক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যারা সরাসরি জড়িত তাদেরকে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে এবং আইনী প্রয়োগটি আরো কঠোর করতে হবে। তা না হলে শিক্ষা যে জাতির মেরুদণ্ড তা আর থাকবে না। মো. কামাল হোসাইন এমবিএ পরীক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন