জনস্বাস্থ্য

রোগ-ব্যাধিতে রোজার বাধ্যবাধকতা শিথিল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২০:৪১
রোজার সাথে না খেয়ে থাকার একটা সম্পর্ক আছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, রমজান মাসে পেটে অ্যাসিড ও পেপসিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে পেপটিক আলসারের জটিলতা বিশেষ করে রক্তক্ষরণ ও পারফোরেশন বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ, যারা আলসারের রোগীদের ওপর রোজার প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন, তারা মনে করেন, পেপটিক আলসারের কারণে রক্তক্ষরণ বা পারফোরেশন হয়ে গেছে কিংবা এর আরোগ্যের সময় রোগীর রোজা পালন বাধ্যতামূলক নয়। এ অবস্থায় রোজা রাখা হলে রোগীর আরোগ্য লাভ ব্যাহত হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী রোজা পালনে আগ্রহী হলে তার ইনসুলিনের ডোজ ও তা প্রদানের সময়ে পরিবর্তন আনতে হবে। সোজা নিয়মে সকালের ডোজটি দেয়া হয় ইফতারির সময় এবং রাতের ডোজটি অর্ধেক করে শেষ রাতে দেয়া হয়। কিন্তু চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন করা উচিত নয়। কোন্ ওষুধ এবং কোন্ ধরনের ইনসুলিনের জন্য কোন্ ধরনের পরিবর্তন ঠিক কোন্ রোগীর জন্য প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকই বলতে পারবেন। যাদের বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ইতিহাস আছে, যারা হাইপোগ্লাইসেমিয়া-অসচেতন রোগী, যাদের রক্তে গ্লুুকোজ একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত, যারা যকৃত, কিডনি ও হূদরোগে আক্রান্ত, ডায়ালাইসিস করছেন এমন রোগী, অত্যধিক বয়স্ক রোগী এবং গর্ভবতী ডায়াবেটিসের রোগীরা রোজা পালন থেকে বিরত থাকলেই ভালো। হাঁপানি রোগীদের কেউ কেউ রোজা না রাখার কারণ হিসেবে এ রোগের অজুহাত দিয়ে থাকেন। আসলে রোজা কোনোভাবেই হাঁপানি রোগ বাড়িয়ে দিতে কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, রোজা হাঁপানি রোগীকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। চিকিত্সকরা হাঁপানি রোগীদের শেষ রাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর মাত্রায় থিওফাইলিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। রোগীর হাঁপানির তীব্রতা অনুসারে রোগীকে স্টেরয়েড বা সালবিউটামল জাতীয় ব্রংকোডাইলেটর ইনহেলার দেয়া যেতে পারে। রোজা পালনকালে ইনহেলার ব্যবহার ধর্মীয় আইন বিরুদ্ধ নয় বলে ইসলামী আলেম ওলামেরা তাদের মতামত দিয়েছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুসারে ইনহেলারের মাধ্যমে ওষুধ বাষ্প আকারে বের হয়ে আসে। আমরা প্রতিনিয়ত যে বাতাসে শ্বাস গ্রহণ করে থাকি, সেখানেও বিভিন্ন গ্যাসের বাষ্প ভাসমান থাকে। রমজান মাসে গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়েদের জন্য অবস্থাভেদে রোজা পালন বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত গর্ভজাত ও নবজাত শিশুসহ মায়েদের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলের জন্য রমজান মাসে রোজা পালনের কড়াকড়ি শিথিল করেছেন। সুস্থ হলে বা সক্ষমতা অর্জন করলে, পরবর্তী সময়ে অবশ্যই সে রোজা পূর্ণ করতে হবে। যেসব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, তারা রোজা রাখলে দুধের পরিমাণ কমে যায় বলে শিশু পর্যাপ্ত দুধ পায় না। অন্যদিকে গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে কষ্ট হওয়া ছাড়াও গর্ভজাত সস্তানের পুষ্টিপ্রাপ্তি, শারীরিক গঠন ও বয়োবৃদ্ধিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এসব দৃষ্টিকোণ থেকে গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়েদের রোজা না রাখার যৌক্তিক ও ধর্মসম্মত পরামর্শ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন আলেম, চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, রোজা রাখার ফলে মানসিক ও মৃগী রোগের অবনতি ঘটে। সমীক্ষায় এবং অভিজ্ঞতার আলোকে বেশির ভাগ চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞ রমজান মাসে মানসিক ও মৃগী রোগীসহ বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের রোজা না রাখার পরামর্শ দেয়ার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেছেন। মৃগী রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন অত্যাবশ্যক। ওষুধ সেবনে অসঙ্গতি বা অনিয়মের কারণে মানসিক ও মৃগী রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে থাকে। সে কারণেই এই ছাড়।  লেখক :হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন