জুুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৯
বাংলা প্রথমপত্র মো. সুজাউদ দৌলা প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্রের দেশ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো দেশ প্রশ্ন ১। নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: গ্রীষ্মের ছুটিতে মায়ের সাথে গ্রামে বেড়াতে এসেছে বিথি। নদীর ধারে ছোট ছোট গ্রাম। পড়ন্ত বিকেলে নদীর কাছাকাছি গিয়ে তার নয়ন-মন জুড়িয়ে যায়। সবুজ মাঠে মৃদুমন্দ বাতাসে উড়ছে ঝাঁক ঝাঁক রঙিন প্রজাপতি। দূরের আকাশে ও গাছের ডালে লুটোপুটি করছে কবুতর, ঘুঘুসহ নানা রকমের পাখ-পাখালি। নদীর বুকে নৌকায় করে পণ্য ও মানুষ পারাপার করছে নৌকার সারি। সে ভাবে তার দেশটা কতই না সুন্দর। (ক) কবি জসীমউদ্দীন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? (খ) ‘বুনো হাতির দল এসেছে আকাশখানি ছেড়ে’ কথাটি বুঝিয়ে দাও। (গ) উদ্দীপকে বিথির স্বদেশকে দেখার বিষয়টি ‘দেশ’ কবিতার কোন দিকটিকে ফুটিয়ে তুলেছে — ব্যাখ্যা কর। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে ‘দেশ’ কবিতায় বর্ণিত বাংলার প্রকৃতি ও জীবনের পরিচয় দাও। উত্তর: (ক) কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। (খ) মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাকে কবি কল্পনা করেছেন যেন বুনো হাতির দল পানি ছিটাচ্ছে। প্রখর রোদের শেষে আকাশে জমে মেঘের ঘনঘটা। টুকরো টুকরো কালো মেঘগুলো আকাশে ঘুরে বেড়ায়। মেঘের বিন্দু বিন্দু জলকণা বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে, যা লাঘব করে গ্রীষ্মের দাবদাহ। প্রকৃতিতে এনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। আকাশ থেকে নামা এই বৃষ্টিকে কবি বুনো হাতির দলের স্নান করার সময় শুঁড় দিয়ে পানি ছিটানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। (গ) বিথির দেখা গ্রামবাংলার সাথে জসীমউদ্দীনের ‘দেশ’ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতি ও জীবনের অনেক সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। ‘দেশ’ কবিতায় জসীমউদ্দীন তাঁর স্বদেশকে বিচিত্র রূপসৌন্দর্যে প্রত্যক্ষ করেছেন। কবি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমতার বন্ধনে আবদ্ধ। কবি মুগ্ধ দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করেছেন দেশের অপরূপ প্রকৃতি। মাঠ-ঘাট, গাছপালা, নদ-নদী, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের চলমান জীবনপ্রবাহ সবকিছুই ভালো লাগার উপাদান। উদ্দীপকে বিথিও স্বদেশকে আবিষ্কার করেছে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে। এখানকার নদী, নদীতে বহমান জীবনধারা, পসরা ও মানুষের পারাপার তাকে এক অন্য ধরনের প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ স্বদেশের সাথে পরিচিত করেছে। এখানকার ফসলের খেত, সবুজ বনানী, পাখ-পাখালি তার মনে এই চেতনা জাগ্রত করেছে যে, তার দেশটি অনেক সুন্দর। উদ্দীপকের তিথির স্বদেশকে দেখার বিষয়টি ‘দেশ’ কবিতার কবির স্বদেশের রূপের মুগ্ধতার দিকটি ইঙ্গিত করে। (ঘ) জসীমউদ্দীনের ‘দেশ’ কবিতা এবং উদ্দীপকে গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও জনজীবনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। ‘দেশ’ কবিতায় কবির অনুরাগ ঝরে পড়েছে স্বদেশের প্রকৃতি ও জীবনকে ঘিরে। গ্রামবাংলার প্রকৃতির একদিকে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত ধান খেত; অন্যদিকে পাখ-পাখালির আনাগোনা, সবুজ ফসলের হাতছানি ও বন-বনানী। ফুল ও ফলের সম্ভার এবং নানা বনজ সম্পদে ভরপুর সেসব গ্রাম। স্বদেশচেতনার অকৃত্রিমতায় স্বদেশের সব সৌন্দর্য এক ভিন্ন মাত্রায় কবির কাছে ধরা পড়েছে। উদ্দীপকের বিথিও স্বদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। স্বদেশের সাথে এই পরিচয় তার মধ্যে এক বিচিত্র আবেগ সৃষ্টি করেছে। তার মধ্যে এই বোধের জন্ম দিয়েছে যে, বাংলার প্রকৃতি ও জীবনধারা এক অন্যরকম আবেগ ও সৌন্দর্যকে ধারণ করে। এখানকার ফসল, নদী ও প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে ভরা স্বদেশ তার কাছে সৌন্দর্যের প্রতিভূ হয়ে ধরা দিয়েছে। উদ্দীপক এবং ‘দেশ’ কবিতায় বাংলার প্রকৃতি ও জনজীবনের এক অনবদ্য স্বরূপ অঙ্কিত হয়েছে। এখানে প্রকৃতির অনুষঙ্গরূপে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলার জীবনচিত্র।