প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের
আইনের আওতায় এনে
শাস্তি দিতে হবে
আসলে প্রশ্নপত্র কিভাবে ফাঁস হয়, কেন হয়, কার কল্যাণে হয় এবং কার হাত দিয়ে হয়—এটা আজও বুঝতে পারছি না। তবে যাদের হাত দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাদের কি আইনের আওতায় আনা যায় না? একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী পরীক্ষা দেয় লেখাপড়া করে। আর যারা লেখাপড়া না করেই পাস করে ফেলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে। এতে মেধার মূল্যায়ন হবে কি করে? সেজন্যই তো মেধার পরিবর্তে মেধাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
আরেফিন জামান রবিন
বিবিএ, প্রথম সেমিস্টার
ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
০০০০০০০০০০০০০০
যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস
হচ্ছে দেশ তো
মেধাশূন্য হয়ে যাবে
আজ আমরা শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু স্বশিক্ষায় কতজন শিক্ষিত হচ্ছি সেটা ভাবতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই যে চলবে না তা বুঝতে হবে, তা ভাবতে হবে। দেশে যেহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে দেশতো একসময় মেধাশূন্য হয়ে যাবে। সারাবছর লেখাপড়া না করে যেভাবে ছাত্ররা পাস করছে তাদের ভবিষ্যত্ হবে কি? ভাল ছাত্ররাও এখন লেখাপড়া করে না। কারণ তারা জানে লেখাপড়া করে কি হবে। লেখাপড়া না করেও যেখানে পাস করা যায় সেখানে লেখাপড়ার প্রয়োজন কি? এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের শনাক্ত করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশ অচিরেই মেধাশূন্য হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
পারুল ইসলাম
মাস্টার্স শেষ পর্ব, মার্কেটিং বিভাগ
সরকারী তিতুমীর কলেজ
০০০০০০০০০০০০০০০
কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের
মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র ফাঁস
রোধ করা সম্ভব
অনেক রকমের সমস্যাই আজ জাতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস তন্মধ্যে মহা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা, এর ফলে নৈতিকভাবে দুষ্ট আগামী প্রজন্ম গড়ার শঙ্কা জাগছে। মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সকলে অবগত যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। যারা এমন ন্যক্কারজনক কর্মের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির বিধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করাই প্রতিকারের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেই দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা সম্ভব হলেও আফসোস অদ্যাবধি আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারিনি। অবশ্যই এই ব্যর্থতা প্রশাসন ও রাষ্ট্রেরই সর্বাগ্রে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে জড়িত শিক্ষকদের কঠোর নজরদারীর মধ্যে এনে এবং সরকারি বিজি প্রেসে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে এমন জাতি বিনাশী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শিক্ষাখাতে আমাদের বিগতদিনের সকল অর্জন ভেস্তে যেতে বসেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগে। তাই কালক্ষেপণ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগী অপরাপর সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পরামর্শ গ্রহণ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু)
বাউবি থেকে সদ্য বিএ সমাপনকারী
ও মাস্টার্সে ভর্তি প্রত্যাশী।
০০০০০০০০০০০০০০০
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
ব্যবস্থা করলেই এরকম
আর হবে না
শিক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা হলো একটি শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে প্রায় প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এখনই যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতিকে মেধাশূন্য করবে। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস যেমন প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের অন্তরায়, তেমনি গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। বর্তমানে এটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টি করেছে। এটা অপরাধ। একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু আইন করলেও হবে না, আইনে যথাযথ প্রয়োগও করতে হবে। তবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে। আর এজন্য সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
মো. আলাউদ্দিন মজুমদার
বিএসসি (অনার্স) ১ম বর্ষ, রসায়ন বিভাগ
চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ, নোয়াখালী।
০০০০০০০০০০০০
শিক্ষামন্ত্রীর সদিচ্ছাই পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে শিক্ষিতের হার মাত্র ৬৩%। অথচ এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এত দুর্নীতি, অনিয়ম। যা কোনভাবে উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যেমন:মিয়ানমার, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটানসহ অন্য দেশগুলোতে দেখেন, আমাদের দেশের চেয়ে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মান অনেক উপরে। আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা যদি এইভাবে চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম তো ধ্বংস হবেই, তার সাথে দেশে বাড়তে থাকবে বেকারত্ব এবং অযোগ্য নেতৃত্ব। যা পরবর্তীতে দেশের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। আর এই মুহূর্তে আমি মনে করি শিক্ষামন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে দুর্নীতিমুক্ত কমিটি তৈরি করে, খুব সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত দোষীদের বের করে আনা। এতে যারা দোষী সাব্যস্ত হয় তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া। তারই সাথে দেশের শিক্ষিত সমাজকে এই ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। আর তাতে আশা করা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সম্ভব হবে।
মো. রুবেল ইসলাম
অনার্স তৃতীয় বর্ষ
শহীদ সরওয়াদি কলেজ, ঢাকা
