এমবিবিএস না পড়ে ভুয়া সনদপত্র নিয়েই তিনি চিকিত্সক। রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্রও দিচ্ছেন তিনি। রোগী প্রতি ফি নিচ্ছেন পাঁচশ টাকা। রামপুরার এক ফার্মেসি থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামের এই ভুয়া চিকিত্সককে সোমবার র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, পশ্চিম রামপুরার উলন রোডের হিরোসাকি ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এসময় স্বাস্থ্য অধিদফরের প্রতিনিধি ডাঃ স্বপন কুমার উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে রোগী দেখার সময় ওই ভুয়া চিকিত্সক আব্দুল কাইয়ুমকে হাতে নাতে আটক করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল কাইয়ুম গত দুই বছর ধরে ওই ফার্মেসিতে এমবিবিএস চিকিত্সক সেজে চিকিত্সা প্রদান করছিলেন। আব্দুল কাইয়ুম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে পাঁচ বত্সর মেয়াদী এমবিবিএস কোর্স করে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল থেকে এক বছরের ইন্টার্নি করেছেন মর্মে সনদপত্র দেখান। এক পর্যায় তিনি যে হাসপাতাল থেকে ইন্টার্নি করেছেন তা তিনি কখনও দেখেননি বা এর কোন অস্তিত্ব নেইও বলে স্বীকার করেন। এছাড়া তিনি যে এমবিবিএস সনদপত্র দেখান সেটিও সঠিক নয়। তিনি স্বীকার করেন পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হলেও কোন ক্লাস করেননি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে এমবিবিএস কোর্সের বিজ্ঞাপন দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে জনসাধারণকে সতর্ক করে। কিন্তু তার পরও কিছু শিক্ষার্থীকে ভর্তি নামে পড়াশোনা ছাড়াই পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সনদ প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি এভাবে সনদ ক্রয় করে দেশব্যাপী চিকিত্সা প্রদান করছেন। তারা নিজেরাই ভুয়া কাউন্সিল গঠন করে নিজেদের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চিকিত্সা প্রদান করে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম হতে এ ধরনের আটজন ভুয়া ডাক্তারকে সাজা দেন একই আদালত। অভিযুক্তের সাইন বোর্ডে তিনি নিজেকে নবজাতক, শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন এলোপ্যাথি ডিগ্রি যুক্ত করেন। অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম আরও জানান, তিনি বর্তমানে এফসিপিএস ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছেন। সেটিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
