টেলিফোনে পাঠকের মতামত

ঈদে বাড়ি ফেরার বিড়ম্বনা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৪, ২০:৫৮
সড়ক, মহাসড়কসহ সকল উন্নয়নের টাকা আত্মসাত্ করে আমলা-কামলা, সাংসদ-মন্ত্রী সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক, আর জনগণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় যানজটে পড়ে থাকতে হয়, দুর্ঘটনায় দিতে হয় জীবন, আমরা কি এমন দেশ আশা করেছিলাম? আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী ঈদের আগে রাস্তায় দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন, টিভি পর্দায় চেহারা দেখাবার জন্য। উনি এত দিন কোথায় ছিলেন? বিদেশ মন্ত্রী, বিদেশে বিদেশে ঘোরেন, কিন্তু উনিতো দেশের মন্ত্রী, শেষ বেলার রাস্তার মন্ত্রী, উনার রাস্তা কেন ঈদের পূর্বে মেরামত হলো না? উনার উচিত ছিল রাস্তা খারাপ হওয়ার সাথে সাথে মেরামত করা, কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তর রেখে কিভাবে রাস্তা মেরামত করবেন? নজরুল ইসলাম খান, খান ভিলা, ৫৪, নতুন জুরাইন, ঢাকা। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে বাড়ি ফেরার বিড়ম্বনা। প্রতিবছর এই এক চিরচেনা দুর্গতি। এ যেন কপাল চাপড়ানো নিয়তি। নাড়িরটান যেভাবেই হোক দামোদর সাঁতরিয়ে কলিকালের ঈশ্বরচন্দ্র হতে হবে। সামনে চীনের প্রাচীর থাকলেও কে এ দুর্বার যাত্রাকে রুখতে পারে? ভোল পাল্টানো মন্ত্রী প্রবরও এই রথকে থামতে পারবে না। এবেলা না হয় রাস্তার তিন অবস্থা হয়েছে, ও বেলা তো ঠিক হবে। ক্ষণিকের জন্য কেন হতোদ্যম হয়ে হাত পা গুটিয়ে থাকা। বাস, রেল, লঞ্চের টিকেট কালোবাজারী হচ্ছে, তাতে কী? দুয়ারে দাঁড়িয়ে আঁচলে চোখ মোছার অতি আপনজনদের পথ চেয়ে থাকার এই অনুভূতির কাছে কালোবাজারী টিকেট মূল্য বেশি হয়ে গেল? রাস্তার অবস্থা বৃদ্ধের কোমর ভাঙ্গার মতো, ঘরমুখী মানুষের স্রোতের তোড় আর পদাঘাতে-পদাঘাতে সব কিছু অতিমসৃণ হয়ে যায়, চোখ ঠিকরে যাওয়া গন্তব্যে পৌঁছে। গাসওয়া এই প্রতিবন্ধকতা আমাদের সাথে মিশে আছে বিধায়, কোন সংস্থার বড় বাবুরা দুর্গতি কমানোর ব্যাপারে মাথা ঘামান না। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর। শহুরে জীবনের ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, দুঃখ, দুর্দশা, ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে সাময়িক ভাবে হলেও মুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য মানুষ পাহাড়সম প্রবল বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে গ্রাম বাংলার দিকে ছুটে যেতে সর্বদা ব্যাকুল থাকে। ফলে যাত্রা পথের বিড়ম্বনাকে মানুষ তুচ্ছজ্ঞান করে আপনজনদের সাথে মিলনের আনন্দে বিভোর মানুষ বিপদসঙ্কুল যাত্রাপথে ঝুঁকিপূর্ণ, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চ, ট্রেন, বাসে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। আসন্নপবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সৃষ্ট অসহনীয় যানজট, শহরের নব্য সৃষ্ট ফ্লাইওভার তৈরির কারণে সংশ্লিষ্ট রাস্তা-ঘাটের দৈন্য-দশার কবলে পড়ে চরম ভোগান্তি সহ্য করা, বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের সংস্কার কাজের ধীর গতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিড়ম্বিত দীর্ঘসময়ের ব্যবধানে বাড়ি পৌঁছা, যানবাহনের কৃত্রিম বা অকৃত্রিম অপ্রতুলতা হেতুদ্বিগুণ-ত্রিগুণ যাত্রী ভাড়ার মাশুল গোনা, বাস-ট্রেন-লঞ্চের টিকেট কালোবাজারি হওয়া, অসহনীয় যানজট ও অহরহ দুর্ঘটনাসহ বাড়ী যাওয়ার কোন দুর্ভোগ এবং বিড়ম্বনাই বাঙালিকে রুখতে পারে না তার গন্তব্যে পৌঁছা থেকে। এইতো বাঙালীর বৈশিস্ট্য। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ঈদে যানজটের কারণে আর সমস্যা হবে না। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। ধন্যবাদ জানাই তার এ বক্তব্যের জন্য। আমরা চাই স্বস্তি। শান্তি ও নিরাপদে ঈদে বাড়ি ফেরা। শিশির পিলখানা, ঢাকা ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দের সাথে ভাগাভাগি করে নিতেই মানুষ আপনজনের কাছে ছুটে যায়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত টিকিট নিয়ে চলে নানা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। ট্রেনের টিকিট, বাসের টিকিট, সব যেন এখন সোনার হরিণ। অন্যদিকে রাস্তাঘাটের যে করুণ দশা সব মিলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এখন চরম দুর্ভোগের। এম.কে.এম রমিজউদ্দিন প্রশিকা প্রধান কার্যালয়, মিরপুর, ঢাকা ট্রেনের টিকিট এখন যেন সোনার হরিণ। সারারাত অপেক্ষার পরেও টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না টিকিট। যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে রেলকর্মীদের ঈদের ছুটি আগেই বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এটা খুবই ভালো কথা। তবে আমরা চাই ঈদে বাড়ি ফেরা ও বিড়ম্বনা থেকে রেহাই, তা যেভাবেই হোক। লিটন ফকিরহাট, নোয়াখালী স্টেশন জুড়ে ১৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। টিকিট বিক্রির ভিডিও চিত্র ধারণ করার জন্য। এর পরেও ঈদে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। শাহীন ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে নয়। কমলাপুর রেলস্টেশনে সারা বছরই সক্রিয় থাকে টিকিট কালোবাজারিরা। টিকিট বিক্রির অনিয়ম ও কালোবাজারি রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও এই অনিয়ম চলছেই। আমরা চাই প্রতিবছর দু’টি ঈদে এ বিষয়গুলোকে সতর্কভাবে নজর দেবেন সরকার। সোহাগ ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা ৪০০ বছরের পুরনো ঢাকা শহর। প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। শহর বাড়লেও নাগরিক সুবিধা তেমন বাড়েনি। প্রতিবারের মতো এবারও যানজটের কারণে ঈদের আনন্দ নষ্ট হতে চলেছে। মোঃ হামিদ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা সাম্প্রতিক সময়ে যানজট নিরসন ও যাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক তত্পর রয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেজন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে আমরা মনে করছি শুধু ঈদ নয় সারা বছরই রাস্তার বিষয়টিকে সতর্কভাবে নজরে রাখতে হবে। মোঃ খায়রুল বাশার (চয়ন) কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা ঈদের আর খুব একটা সময় বাকি নেই। ঈদ মানেই সব মানুষের মধ্যে একটা অন্যরকম অনুভূতি। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান রোজার ঈদ। ঈদে বেশিরভাগ মানুষই ছুটে যায় গ্রামে; কিন্তু প্রতি বছরের মতো এবারও রয়েছে নানা সংকট। টিকিট সংকট। যানজট, রাস্তার দুরবস্থা। এগুলো এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এসব সমস্যার নিরসন চাই। মোঃ শহীদুল ইসলাম নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া আমাদের দেশের সমস্যা অনেক, কিন্তু সমাধান সহসা হয় না। যেমনি ঈদে বাড়ি ফেরার মধ্যে নানান দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা যা ব্যাখা করা যাবে না। টিকিট নিয়ে কালোবাজারির ঘটনা প্রতিবছরই নানারকম নাটকীয় ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এসব নানা রকম সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। টুম্পা সিটি কলেজ, ঢাকা ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে নানা কাহিনী প্রতিবছরই ঘটে থাকে। ঈদে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বেড়েই চলেছে। বাস, রেল ও লঞ্চের টিকিট কালোবাজারি হয়ে উধাও হয়ে গেছে। কারোর কিছু মনে হয় করার নেই। অথচ মানুষ বছরে ২টি ঈদে স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্য অনেক প্রত্যাশায় থাকে। সাঈদ মনিপুর, মিরপুর ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে প্রতি বছরই থাকে নানা বিড়ম্বনা । আর এ দুর্ভোগ সবচেয়ে বড় কারণ হলো টিকেটের দুষ্প্রাপ্যতা। মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করে টিকিটের জন্য। কেউ পায় কেউ পায় না। এরপর রয়েছে যানজটের নিদারুণ অবস্থা। সারাদেশের সড়কের যে অবস্থা তাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন সবস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে যাতে গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব। সুতরাং বিষয়গুলোর সমাধান করা জরুরি। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা ঈদের আনন্দ অনেকভাবেই নিরানন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকিট পাওয়া দুষ্কর। যাতায়াতের কোন শৃঙ্খলা নেই। সম্প্রতি রোজা ও ঈদে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ওয়াসা ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কর্তৃপক্ষ সবধরনের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের নির্দেশ দিলেও অনেক স্থানে এখনও কাজ চলছে। কোন কোন স্থানে বর্ষার পানি জমেছে। চালক বুঝতেও পারছে না কোথায় গর্ত হয়েছে। কাজেই সড়কে এই দুর্দশা রোধ করা দরকার। আবদুল মালেক মিয়া দলিল লেখক মনিপুর, মিরপুর, ঢাকা নানা দুর্ভোগ-দুর্দশা ও বিড়ম্বনা সাথে নিয়ে মানুষ নাড়ির টানে ছুটে যায় গ্রামের বাড়িতে সবার সাথে ঈদ করার জন্য। কিন্তু ঈদের আনন্দটা পুরোপুরি স্বস্তিতে হয় না। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে ঈদকে আলিঙ্গন করতে হয় মানুষকে। আর এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েও মানুষ ঈদ উদযাপন করে থাকে। তাতেই ঈদের আনন্দ। ওয়াহিদ ফেনী আর ক’দিন পরেই মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় আনন্দের উত্সব ঈদুল ফিতর। অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। অথচ এই আনন্দকে ঘিরে নানা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা লেগেই আছে—এর শেষ কোথায়? মো. রবিউল হোসেন রবি কাজীপাড়া মিরপুর আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নানা বিড়ম্বনা। যথাসময়ে টিকিট না পাওয়া ও কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাওয়া। পথে পথে নানান হয়রানি ও দুর্ভোগের কারণে গ্রামের বাড়ি যাওয়া এখন অনেক কষ্টের হয়ে পড়েছে। নীলা এনায়েতগঞ্জ লেন পিলখানা, ঢাকা ঈদে বাড়ি ফেরা এখন আগের চেয়ে বেশি বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগের। বিশেষ করে যথাসময়ে ও সহজভাবে টিকিট না পাওয়া, অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও এখন টিকিট পাওয়া সোনার হরিণের মত। বাবুল ধানমন্ডি, ঢাকা নাড়ির টানে মানুষের বাড়ি ফেরা। বাস, রেল, লঞ্চ সর্বত্র চলছে টিকিট কালোবাজারির ত্রাস। টিকিটের জন্য সর্বত্র এখন যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের জন্য ভোরবেলা থেকে লাইন দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না সেই বহু কাঙ্ক্ষিত টিকিট। ব্যর্থ হয়েই অনেকে ফিরে আসছে। নার্গিস সুলতানা নতুন পল্টন লাইন, ঢাকা ঈদে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত বাড়লেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট। ক্রমশ বাড়ছে ভোগান্তি। প্রতিবছর একই চিত্র ফুটে উঠে আমাদের দেশে। কোন পরিবর্তন নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া মিরপুর, ঢাকা। আর ক’দিন পরেই খুশির ঈদ। নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষ ছুটছে। নিজেদের আনন্দটুকু সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার আয়েশে ছুটছেন সবাই। কিন্তু এতোকিছুর পরেও টিকিট পেতে বড় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। তারপরে স্বস্তি ও আনন্দে দেশে যাওয়া। ঈদ হোক স্বস্তি ও শান্তির-এই প্রত্যাশা আমাদের। মাসুম আহমেদ শিকড় সন্ধানে যাত্রাবাড়ী, ঢাকা পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নানা শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষ নাড়ির টানে আপনঘরে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে আছে। ঈদুল ফিতর উদযাপন করার লক্ষ্যে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও বিমানের টিকিট প্রার্থী থাকলেও যাত্রীসাধারণ সময়মত টিকেট পাচ্ছে না। টিকিট চলে গেছে কালোবাজারিদের হাতে। আর এজন্য যত সব বিড়ম্বনা। এছাড়া তো পথে-ঘাটে ছিনতাই, ডাকাতি হচ্ছে। ছিনতাইকারীর আঘাতে মারাত্মক জখম হতে হচ্ছে। যারা টিকেট কালোবাজারী করছে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া দরকার। ফারুক আহমেদ বাগমারা রাজশাহী আমাদের এই দরিদ্র দেশে আনন্দ বলতে কেবল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। চার-পাঁচদিন পরই ঈদুল ফিতর। বাস, রেল ও লঞ্চের টিকিট বিক্রি আরম্ভ হয়েছে। কিন্তু কালোবাজারির কারণে টিকেট পাচ্ছে না অনেকেই। প্রতিবছরই এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে। দেখার যেন কেউ নেই। এদিকে রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা। যার ফলে যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। দুই ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ছয়/সাত ঘণ্টা। বাস, রেল, লঞ্চে ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি হয়। কিন্তু এ দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। মো. আমজাদ হোসেন (আলতাব) বেগুনতাল, টাঙ্গাইল আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে মানুষ গ্রামে পাড়ি জমাচ্ছে। বাস, রেল, লঞ্চের টিকিট বিক্রি হলেও অনেকেই টিকিট পাচ্ছে না। অন্যদিকে রাস্তাঘাটের মহা সমস্যা। ফলে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। মানুষ তার স্ত্রী, কন্যা, পুত্র নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে রওনা হবেন, কিন্তু কতটুকু স্বস্তি তারা পাচ্ছেন সেটাই দেখার বিষয়। আলমগীর পিলখানা, ঢাকা নাড়ির টানে যারা গ্রামে ঈদ করতে যায় তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বাস, ট্রেন, লঞ্চ সব জায়গাতেই যেন আটকে থাকতে হয়। একদিকে টিকিট না পাওয়ার দুর্ভোগ, অন্যদিকে টিকিট কিনতেও অধিক টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তাছাড়া টিকিট কিনেও সিট না পাওয়ার দুর্ভোগতো রয়েছেই। এমন পরিস্থিতিতে ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যায়। তবু মানুষ বাড়ি যায়, ঈদ করতে। তবু আনন্দ, তবু খুশি তারা। জসিম উদ্দিন পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের সমস্যার অন্ত নেই। ঈদে বাড়ি ফেরাও আরেক সমস্যা। বাস, রেল ও লঞ্চ এখন কালোবাজারিদের দখলে। টিকেট বিক্রি মানেই জনগণকে ‘আই ওয়াশ’ করা। প্রতি বছরেই ঈদের সময় টিকিট বিক্রেতা এবং কালোবাজারিরা এক হয়ে মুনাফা করার লোভে টিকিট করায়ত্ত করে থাকে। সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই অবস্থা বিরাজমান। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট কিনতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ে। তাই এ সময় বাস, রেল ও লঞ্চের কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতো তাহলেই এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে না। সুতরাং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এইসব চিহ্নিত টিকিট কালোবাজারিদের হাতেনাতে ধরে ব্যবস্থা নিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। সেইসঙ্গে যানজট এবং দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইনকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা আবশ্যক। শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু কালিহাতী, টাঙ্গাইল ঈদে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের সে াত বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি বাড়ছে নানা দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। বাস, রেল ও লঞ্চের টিকিট কালোবাজারিদের কাছে চলে যাচ্ছে। নানা সমস্যায় ঘরমুখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। যানজটসহ রাস্তাঘাটে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা আর ভোগান্তি। এর মধ্যেই মানুষ গ্রামের বাড়িতে ঈদের জন্য ছুটছে। তবে এ রকম দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা থেকে অচিরেই মুক্তির পথ খোঁজা দরকার। মো: হানিফ মিয়া রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা নাড়ির টানে ঈদে ঘরমুখো মানুষ এখন ব্যস্ত। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট নিয়ে এখন সর্বত্র হাহাকার। মানুষ ছুটাছুটি করছে টিকিটের জন্য। ঈদে স্বজনের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষায় টিকিটের জন্য প্রতিদিনই লাখ লাখ মানুষ ছুটে বেড়াচ্ছেন বাস, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে। ঘরমুখো মানুষের জনসে াত বাড়লেও পাওয়া যাচ্ছে না সোনার হরিণ সেই টিকিট। ফলে বাড়ছে টিকিটসহ নানা ভোগান্তি। এর পরও আছে যানজট ও খানাখন্দে ভরা সড়কে নানান দুর্ঘটনা। আমরা চাই এই ভোগান্তি আগামীত যেন আর না পোহাতে হয়। মো: মনির হোসেন মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র মিরপুর, ঢাকা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কিন্তু কোন স্বস্তি নেই। নানা ভোগান্তি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। ঠিকমত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। সড়ক-মহাসড়কে নানা দুর্ভোগ চলছে। আমরা চাই এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। রোকসার আন্নুর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় গুলশান-২ ঢাকা পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার লক্ষ্যে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সড়কের খানাখন্দ ভরাট ও সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অথচ ঈদের আগেই যানজটের কারণে ঘরমুখো কর্মজীবী মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছে। অনেক স্থানে সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কোনদিক থেকে মানুষের স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। আমরা চাই এ সমস্ত সমস্যা দূর হোক। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ মিরপুর, ঢাকা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে নিতান্তই বাধ্য হয়ে মানুষ শহরে বসবাস করে। উত্সব উপলক্ষে শিকড়ের টানে মানুষ তার আদিবাসস্থান গ্রামে স্বজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে। এমনটাই আমাদের সাংস্কৃতিক অংশ এবং রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সার্বিক অব্যবস্থাপনায় ঘরমুখো মানুষকে পোহাতে হয় নানাবিধ বিড়ম্বনা। তবুও তারা অদম্য আপনজনের সান্নিধ্য প্রত্যাশায় পরিবহন সংকট ও সমস্যা এবং রাস্তাঘাটের হাল-চালের জন্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিতরাই দায়ী। অনেক স্বপ্ন দেখিয়েও ব্যর্থতার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী জনগণের কথা শুনছেন। মো: ফখরুল ইসলাম, টিপু সেনবাগ নোয়াখালী ঘরমুখো যাত্রীদের উত্কণ্ঠা, ছুটোছুটি ও বিড়ম্বনা দিন দিন বাড়ছেই। তার সাথে যোগ হয়েছে টিকেটের দুষ্প্রাপ্যতা। বাস, ট্রেন, রেল ও লঞ্চের টিকিট এখন কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। আর বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি। তবে এ বিষয়গুলো এখন শেষ হওয়া দরকার ফারুক হোসেন বসিলা, ঢাকা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কিন্তু অনেকেই হাতাশ হচ্ছেন। অনেককে নিরাশ হয়েই স্টেশন ত্যাগ করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাসের সব টিকিট উধাও প্রায়। অনেক বাস কাউন্টারে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে অনেক স্থানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা দিতে চেয়েও টিকিটের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা এ বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মাসুদ রানা ক্যান্টনমেন্ট ঢাকা ঈদে বাড়ি ফেরা মানে অনেক কষ্ট, অনেক অর্থ ব্যয়। গ্রামে ফিরে যাওয়া মানে শিকড়ের কাছে চলে যাওয়া। সারা বাংলাদেশে ৮৬ হাজার গ্রাম। ঈদ এলে সেই গ্রাম আনন্দে ভরে উঠে। ঈদ উপলক্ষে গ্রামে যাওয়া মানে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়া। সেখানে অনেক মানুষের প্রাণের মেলা বসে। অথচ সেই গ্রামে যেতে হলে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কেনায় আমরা গাঁটের অনেক পয়সা ব্যয় করে ফেলি। এ থেকে বাঁচার জন্য সর্বমহলের ইতিবাচক ভূমিকা একান্ত প্রয়োজন। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি পিরোজপুর ঈদে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের স্রোত চলছে। সমস্যা—টিকিট নেই, কালোবাজারিদের হাতে টিকিট, যানজট এবং রাস্তা ঠিক নেই। তাই বলছি দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করতে হবে কঠোরতার সাথে, অন্যথায় নিত্য দুর্ভোগ থাকবে জনসাধারণের বিধিলিপি হয়ে। মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ ঈদে বাড়িফেরা ও বিড়ম্বনা-এ দুটো ব্যাপার আমাদের দেশে অঙ্গাঙ্গি জড়িত। এটা এদেশে যেন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের স্রোত প্রতিবছরই হয়ে থাকে। আর এই দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনারও কমতি নেই। যানজটসহ রাস্তাঘাটে বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্ঘটনা। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দরকার। মো: মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন সাভার, ঢাকা ঈদে বাড়ি ফেরার সময় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় তা বলে কোন লাভ নেই। কে শোনে কার কথা। রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, তা কবে যে ঠিক হবে, যোগাযোগ মন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, তা জানেন কেবল আল্লাহ-তায়ালা। মাননীয় মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন তা যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে উনাকে ধন্যবাদ দিতে পারতাম। কিন্তু দুঃখিত! হাসিবুর রহমান ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন