টিআর কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কাজে হরিলুটের অভিযোগ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৪, ২১:২৩
নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর,কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে প্রশাসন ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধ চরমে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় তারা কাজের কাজ কিছুই না করে বিল নিতে ধর্ণা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের কাছে। আর এ কাজগুলোর তদারকি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩৮টি কাবিখা প্রকল্পের বিপরীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের দেয়া ৩৯৯ মে.টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এদিকে ৩৮টি প্রকল্পে একইভাবে ৮৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা কাবিটা বরাদ্দ দেয়া হয় উপজেলাটিতে। ৯৩টি প্রকল্পের বিপরীতে এমপির বরাদ্দকৃত টিআর ১১৯ মে.টন গম দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র! কোন প্রকল্পে ২৬ ট্রলি বালু দিয়ে ৯ টনের কাজ সমাপ্ত করেছে। আবার কোথাও কাবিটার কাজে ১ কোদাল মাটিও পড়েনি। ৪০ দিনের কর্মসূচির লোক দিয়ে বেশির ভাগ প্রকল্পের সমাপ্তি টেনেছেন জনপ্রতিনিধিরা। কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় চূড়ান্ত এসব প্রকল্পের বিল তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধ চরম আকার নিয়েছে। এবং প্রকল্প সভাপতি, ও ডিও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ৩০ জুন রাতে এক ঠিকাদার প্রতিনিধির হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজিবর রহমান। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিবের কাছে জানতে চাইলে ইউএনও তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তিনি সমপ্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও গোলনা ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির প্রশাসনের সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধের ব্যাপারে বলেন, ‘ভেদাভেদ ভুলে শেখ হাসিনার দেশ গড়ার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এখানে বিরোধের কিছু নেই’। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজিবর রহমান কাজ না করে বিল নেয়ার ব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি সরকার দলীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না’।