প্রশ্নপত্র ফাঁসের
কারণে হারিয়ে যাচ্ছে
প্রকৃত মেধাবী
বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে প্রায় সব বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে চলেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার অযোগ্য অনেকেই জিপিএ-৫ পাচ্ছে। তাই জিপিএ-৫ অর্জন করা যোগ্য মেধাবীদের তেমন একটা মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকৃত মেধাবীরা হারিয়ে যাচ্ছে অযোগ্য জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভিড়ে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় প্রকৃত মেধাবীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কারণ তাদেরকে অযোগ্য জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাথে একই পাল্লায় মাপা হচ্ছে। অনেক সময় এই অযোগ্যদের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা ভাল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। ফলে তাদের মেধার আর মূল্যয়ন হচ্ছে না। এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত মেধাবী এবং মেধাশূন্য হচ্ছে আমাদের জাতি। এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকলে মেধাশূন্য হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে জাতি। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
মো. রিফাতুল ইসলাম
দ্বিতীয় বর্ষ, মানবিক বিভাগ, নটরডেম কলেজ, ঢাকা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের দরুন
উচ্চশিক্ষায় ঝরে পড়ছে
হাজারো তরুণ
৮ম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর হাতে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন তুলে দেয়া হলে এর দ্বারা সে অপ্রত্যাশিত ভাল ফলাফল অর্জন করে। কিন্তু পরবর্তীতে সে ক্লাসে অনিয়মিত এবং পড়াশুনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। এভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলেও চরমভাবে বিপর্যস্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়। ফলে সম্ভাবনাময় হাজারো তরুণের বুকে নেমে আসে হতাশার গ্লানি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তখন স্বপ্নই থেকে যায়। জাতিকে এই সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হতে রক্ষা করতে শুধু সমালোচনা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন প্রতিকারে বাস্তব পদক্ষেপ; অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ করে প্রশ্নপত্রের পুরো প্রক্রিয়াটি সত্, দায়িত্বপরায়ণ ও একান্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত থাকতে হবে। মুজাহিদুল ইসলাম
এলএল.বি (অনার্স), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
কুফল জানাতে
হবে এবং সচেতন
করতে হবে
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিজ্ঞজনেরা প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধেও গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। গঠিত তদন্ত কমিটি মূল্যবান কয়েকটি সুপারিশ পেশ করে। সুপারিশসমূহের যেটিই বাস্তবায়িত হোক না কেন, তার সাথে যেদিকটি সবচেয়ে গুরুত্ব তা হচ্ছে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যারা জড়িত তাদের নৈতিক অনুশীলন ও মানবিক পরিশুদ্ধতা একান্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন ফাঁস অনেক মেধাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। যদি সরকার ১০০ ভাগ পাসের হার না দেখিয়ে দেশ ও দেশের জনগণের কথা ভেবে পরীক্ষার হলে এবং প্রশ্নের সাথে সিকিউরিটি ও বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করে তাহলে এটা সফল হতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এর কুফল সম্পর্কে জানাতে হবে এবং সচেতন করতে হবে।
রাকিবুল হাসান
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস
জাতীয় জীবনে
অভিশাপ
দেশের অধিকাংশ জেলায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে এটি নিয়ে। এখন সারা দেশে প্রতিবাদ, ক্ষোভ প্রকাশ চলছে। একটা প্রশ্নের উত্তর এখনো পাচ্ছি না। তা হলো- “একজন অধ্যাপক ও কিছু শিক্ষার্থীর প্রতিবাদে বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ অধ্যক্ষ ও বোর্ড কর্মকর্তারা এটি জানার পরেও কেন নিশ্চুপ ছিলেন?” শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংসকারী এ নোংরা ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কতবার হবে সেটি আমরা জানি না। যারা প্রশ্ন করেন বা প্রশ্নবোর্ডের সাথে জড়িত, তারা যদি দায়মুক্ত থাকেন, তাহলে দায়ী কে? পরীক্ষায় পাসের হার বাড়িয়ে হয়তো জাতীয়ভাবে কৃতিত্ব অর্জন করা যাবে। কিন্ত প্রকৃত মেধাবীরা আড়ালেই থেকে যাবে। মেধাশূন্য শিক্ষিত জাতি আলোর পথে অন্ধকার দেখতে পায়। কাজেই আমরা আশা করবো, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বিষয়টি আমাদের মতো করেই ভাববেন।
সাইফুল্লাহ ত্রিশালী
তাফসীর বিভাগ, ২য় বর্ষ (কামিল-এমএ), শরীফবাগ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, ধামরাই।
সঠিক ব্যবস্থাপনা ও
প্রশ্নপত্র ফাঁস কঠোর হস্তে
দমন করা প্রয়োজন
প্রশ্নপত্র ফাঁস হল একটা মরণব্যাধির মত, এটা গোটা শিক্ষাব্যবস্থা তথা জাতিকে মেধাশূন্যতা সৃষ্টির জন্য দায়ী। এরফলে প্রকৃত মেধাবীরা তাদের আশানুরূপ ফল থেকে বঞ্চিত এবং মনোবল ভেঙ্গে যায় আর অমেধাবীরা ভাল ফল পেয়ে থাকে কতিপয় কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তা হল: মুনাফালোভী কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী, প্রশ্ন ফাঁসকারীর যে পরিচয়ই হোক না কেন তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা, প্রয়োজনে সংসদে এর বিরুদ্ধে আইন পাস করা এবং ফাঁসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ না করা গেলে দেশ, জাতি ও সমাজ হারাবে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ ও নেমে আসবে অমাবস্যার অন্ধকার।
নিত্যানন্দ সাহা (নিতাই)
শিক্ষার্থী এল.এল.বি
টাঙ্গাইল ল’ কলেজ, টাঙ্গাইল।
